যশোর ব্যুরো ॥ বর্নাঢ্য আয়োজনে যশোর উপশহর কেন্দ্রীয় ক্রীড়া উদ্যানে তরিকুল ইসলাম স্মৃতি
আন্তঃ ইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী খেলায় উপশহর ইউনিয়নের বিপক্ষে ২-
০ গোলের দারুণ এক জয় দিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করেছে ফতেপুর ইউনিয়ন। গতকাল শুক্রবার
উপশহর কেন্দ্রীয় ক্রীড়া উদ্যানে বর্নিল আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে
শান্তির প্রতীক পায়রা, বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ফুটবল
ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল। এ সময় মনোমুগ্ধকর ডিস প্লে পরিবেশিত হয়।
খেলা শুরুর মাত্র ৩ মিনিটে ফতেপুর ইউনিয়নের গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে। ডি বক্সের
মধ্যে প্রতিপক্ষের গোল রক্ষককে একা পেয়েও ফতেপুরের জাহিদ গোল করতে ব্যর্থ হন। তবে খেলার ২০
মিনিটের উপশহর ইউনিয়ন গোলের সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত একাধিক খেলোয়াড়ের পায়ে বল
মাঠের বাইলে চলে যায়। প্রথমার্ধের খেলা গোল শূন্য অবস্থায় শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের খেলার ২
মিনিটে উপশহরের হাসান বিয়ার এবং ৪ মিনিটে এমেকা সিদ্দিক এই দুই বিদেশী
খেলোয়াড়ের ডান পায়ের শর্ট ক্রসবারের সামন্য ওপর দিয়ে চলে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধের খেলার শুরুর
কিছু সময় পর ফতেপুর খেলার ছন্দ হারিয়ে কিছু রক্ষনার্থক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে। এই সময়ের
মধ্যে উপশহর বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ হাত ছাড়া করে। তবে খেলার ৫৩ মিনিটে ফতেপুরের
আকবরের এরিয়াল শর্ট রাব্বি হেড দিয়ে বল সরাসরি প্রতিপক্ষের জালে পাঠিয়ে দেন। এরপর খেলার
৬৭ মিনিটে তিনি আরও একটি গোল করে দলকে ২-০ গোলের লিড এনে দেন। খেলার বাকি সময়
তারা এই লিড ধরে রেখে জয় নিয়ে মাঠে ছাড়েন। ফতেপুর জয়ের নায়ক বনে যাওয়া রাব্বি ম্যান
অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তাবিথ আউয়াল তার হাতে পুরস্কার
তুলে দেন। এ সময় দুলের কোচ এবং ম্যানেজারকে খেলায় অংশ গ্রহণের প্রাইজমানি প্রদান করা
হয়।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধক তার বক্তৃতায় বলেন, আমরা খেলাধুলা কেবলমাত্র হার জিত হিসেবে দেখি
না। খেলাধুলাকে রাষ্ট্র মেরামতের প্রচেষ্টার একটা অংশ হিসেবে দেখি। খেলার মাধ্যমে সমাজে
সমতা এবং বন্ধুত্ব ফিরিয়ে আনার জন্য ক্রীড়া বড় ধরণের একটা অবদান রাখে। আমরা প্রতি
হিংসায় বিশ^াস করি না, প্রতিযোগিতা মুলক মন মানসিকতায় বিশ্বাস করি। দেশনেত্রী
বেগম খালেদা জিয়া আমাদের এই শিক্ষাই দিয়েছেন। যত বেশি খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের
নিয়োজিত রাখতে পারবো তত বেশি মানসিক ভাবে সুস্থ থাকার পাশাপাশি নিজেদেরকে ভালো
মানুষ হিসেবে তৈরি করতে পারবো। সকলকে সাথে নিয়ে আগামী দিনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য
খেলাকে আবার মাঠে এনেছি। যশোরের এই মাঠ থেকে বিগত দিনে অনেক খ্যাতিমান
খেলোয়াড় তৈরি হয়েছেন। যারা দেশের সেরা ক্লাবসহ জাতীয় দলের হয়ে ফুটবল খেলেছেন। আমি
আশাবাদী এই আয়োজনের মাধ্যমে আগামী দিনে এই মাঠ থেকে আবারও সেই মানের
খেলোয়াড় তৈরি হবে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আগামী যশোরের ফুটবল উন্নয়নের
আশ^াস দেন তিনি। বাফুফে সভাপতি অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের যশোরের ছেলেদের খেলার
পাশাপাশি মেয়েদের খেলার জন্য প্রমোট করার জন্য প্রতি আহ্বান জানান। আসুন সকলে মিলে
খেলাধুলার মাধ্যমে সমাজ উন্নয়ন এবং দেশকে মেরামত করি।
এ সময় জেলা ফুটবল রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনসারুল ইসলাম
মিন্টু, সাবেক ফুটবলার আজিজুল হক জিল্লু, শফিউল ইসলাম ও তপন মিত্রকে টুর্নামেন্টের পক্ষ
থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম,
ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩
(সদর) আসনের ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বাংলাদেশ ফুটবল
ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ
সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর চেম্বার অব কমার্স
এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি মিজানুর রহমান খান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক
ইয়াকুব কবির, দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, প্রেস ক্লাব
যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, টুর্নামেন্টের সমন্বয়ক মাহতাব নাসির পলাশ প্রমুখ।
উদ্বোধণী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক এ বি
আখতারুজ্জামান।















