নাসির উদ্দিন নয়ন, কুয়াদা (যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোর সদর উপজেলার ১১ নম্বর রামনগর ইউনিয়নের সতীঘাটা কামালপুর গ্রামে পারিবারিক কলহের অভিমানে পরোপকারী তরুণ রানা (২৫) সময়ের আগেই ঝরে গেলেন। শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রানা ছিলেন ওই গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে পারিবারিক বিরোধের এক পর্যায়ে অভিমানে রানা বিষপান করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের চতুর্থ তলার পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর মরদেহটি মর্গে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রানার মৃত্যুর খবরে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে এলাকাবাসী। কারণ রানা ছিলেন এলাকার অত্যন্ত সৎ, কর্মঠ ও পরোপকারী তরুণ। কারো রক্তের প্রয়োজন হলে তিনিই ছিলেন প্রথম ভরসা। জরুরি মুহূর্তে ফোন পেলেই ছুটে যেতেন নিজে রক্ত দিতেন কিংবা মুহূর্তে অন্য দাতার ব্যবস্থা করে দিতেন। সমাজের যেকোনো বিপদে-আপদে সামনে এগিয়ে যাওয়াই ছিল তার স্বভাব।
প্রতিবেশীরা জানান, রানা ছিল সবার আপন। যে ছেলেটি সবার দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াত, সেই ছেলেটি অভিমানে এমন সিদ্ধান্ত নেবে—এটা ভাবতেই কষ্ট হয়। আরও বলেন, একটু ভালোবাসা, একটু সান্ত্বনা পেলে হয়তো আজও রানা আমাদের মাঝে থাকত।
পরিবারেও চলছে কান্নার রোল। তারা জানান, রানা ছিল পরিবারের ভরসা ও শান্ত স্বভাবের সন্তান। তার অকাল মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না।
রবিবার (১৬ নভেম্বর) আসরের নামাজের পর রানার নিজ বাড়ির সামনে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে অংশ নেন এলাকার শত শত মানুষ। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।















