য‌শোর জেলায় জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক অর্ধবার্ষিক সমন্বয় সভা (২য় ব্যাচ) অনুষ্ঠিত

0
224

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : য‌শোর জেলায় জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক অর্ধবার্ষিক সমন্বয় সভা (২য় ব্যাচ) অনুষ্ঠিত হ‌য়েছে। দাতা সংস্থা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও
ইউএনডিপি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও
সমবায় মন্ত্রণাল‌য়ের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত বাংলা‌দেশে গ্রাম স‌ক্রিয়করণ
তৃতীয় পর্যা‌য় প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন অদ্য
১৭.১১.২০২৫ খ্রি. তারিখ সোমবার সকাল ১০:০০ টায় এই সভার আয়োজন করে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন
কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সমন্বয় সভার ক‌রেন জেলা প্রশাসক কার্যাল‌য়ের উপ-প‌রিচালক, স্থানীয় সরকার মোঃ র‌ফিকুল হাসান এবং
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব খান মাসুম বিল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা),
এবং প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার, এ্যাড. মহিতোষ কুমার রায়।
সভার শুরুতে সভাপতি মহোদয় সকলকে স্বাগত জানান এবং সমন্বয় সভার মূল উদ্দেশ্য আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, এই সভার মূল উদ্দ্যেশ্য হলো জেলার গ্রাম আদালতের অগ্রগতির তথ্য উপস্থাপন করা, গ্রাম
আদালত পরিচালনার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা ্ধসঢ়;এবং সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম
আদালত সক্রিয় করা এবং গ্রামীণ জনগের বিচারিক সুবিধা নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, গ্রাম
আদালত সকিয়করণে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা অনেক বেশি। আপনাদের
আইনটি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা রাখতে হবে এবং চেয়ারম্যান, মেম্বারদের এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে হবে।
পাশাপাশি গ্রাম আদালতের মামলার নথী ব্যবস্থাপনা করতে হবে। যে সকল ইউনিয়নে মামলা দায়েরের হার কম
আছে, সেসকল ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি করতে হবে।
সভায় বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার এ্যাড. মহিতোষ
কুমার রায়, প্রকল্প পরিচিতি, প্রকল্পের অগ্রগতি ও বিগত ১০ মাসের (জানুয়ারি-অক্টোবর ২০২৫) জেলার
গ্রাম আদালতের মামলার তথ্যচিত্র তুলে ধরেন।
সভায় উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে, উনিয়নন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ গ্রাম আদালত পরিচালনায়
বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা এবং সুপারিশ তুলে ধরেন। পাশাপাশি গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে নিজেদের দায়িত্ব
যথাযথভাবে পালন করবেন মম্ধেসঢ়র্; অঙ্গীকার করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) বলেন, গ্রাম আদালত একটি আইনগত বিচার
প্রক্রিয়া। আইন সম্পর্কে আপনাদের চর্চা করতে হবে এবং চেয়ারম্যানরা যাতে আইনানুযায়ী
নিরপেক্ষভাবে বিচার করে সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে হবে। কোর্টে মামলা হলে মানুষ নানাভাবে ভোগান্তির
শিকার হয়। কিন্তু গ্রাম আদালতে মানুষ অল্প সময়ে ও অল্প খরচে হয়রানিমুক্ত হয়ে বিচার পায়। সুতরাং গ্রাম
আদালতকে সক্রিয়করণে সকলকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলার ০৪ উপজেলার (চৌগাছা, ঝিকরগাছা, শার্শা ও কেশবপুর) ৪৪ টি
ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাাবৃন্দ ও প্রকল্পের স্টাফবৃন্দ।
সভায় বলা হয়, চলমান বছরে অর্থাৎ জানুয়ারি-অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত ১০ মাসে যশোর জেলার ০৮ উপজেলার
৯৩ টি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদাল‌তে মামলা দা‌য়ের হয় ২৫৭৪ টি। এর মধ্যে সরাস‌রি ইউনিয়ন প‌রিষদে
দা‌য়ের হয় ২২৫৪ টি এবং জেলা আদালত থে‌কে পাঠা‌নো হয় ৩২০টি। এর ম‌ধ্যে দেওয়া‌নি ১৩৪৮ টি ও
ফৌজদা‌রি ১২২৬ টি। দা‌য়েরকৃত মামলার ম‌ধ্যে আবেদনকারী পুরুষ ১৬৮৩ (৬৫.৩৮%) এবং নারী ৮৯১
(৩৪.৬২%) জন। নিষ্প‌ত্তিকৃত মামলার সংখ্যা ২৬৮১ টি (১০৪.১৬%)। মোট ক্ষতিপূরণ আদায়
৩,৯২,৭৫,৪২০.০০ টাকা যা ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষকে দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here