জীবননগরে ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগারটি অকেজো,চুরি হচ্ছে যন্ত্রাংশ

0
71

মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃেচুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগারটি ৪ বছর ধরে অকেজো হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
২০২১ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও আজ পর্যন্ত এ প্রকল্পটি চালু করা হয়নি। ফলে বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে পৌর এলাকার হাজার হাজার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাছাড়া অচল অবস্থায় পড়ে থাকা শোধনাগারটিতে কয়েক দফায় চুরি ও নষ্ট হয়ে গেছে মূল্যবান যন্ত্রাংশ। সুইচ, মোটর, ফিল্টার, পাইপ, রিজার্ভ ট্যাঙ্ক, পাম্প গ্যালারি, জেনারেটর ও ইলেকট্রিক ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আর ব্যবহারের উপযোগী নেই। ওভারহেড ট্যাঙ্ক ও পাম্প হাউজ পরিণত হয়েছে জনমানবশূন্য পরিত্যক্ত স্থাপনায়। চারপাশ জঙ্গলে ঢেকে গেছে। ভবনগুলোও জরাজীর্ণ।জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘পৌরসভা থানা গ্রোথ সেন্টার’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সালে শোধনাগারের কাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণকাজ শেষ হয়। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকার প্রকল্পে শোধনাগার, পাম্প হাউজ ও ৩০০ লাইন পাইপ সংযোগ দেওয়া হয়। পরে পৌরসভা নিজ উদ্যোগে আরও ২০০ সংযোগ স্থাপন করে।এতসব উদ্যোগের পরও এখনো এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানি পায়নি পৌরবাসী।জীবননগর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, “সরকার অনেক টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগার নির্মাণ করেছে। কিন্তু একদিনও এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। আমরা বারবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি তবুও কোনো সমাধান আসেনি। মূল প্রকল্প ঠিকাদার মনির ট্রেডার্স কাজটি পায়। কিন্তু তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা চাপ প্রয়োগ করে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজ নিয়ে নিজেদের ব্যবস্থায় কাজ সম্পন্ন করেন। জীবননগরের ‘রুপা কনস্ট্রাকশন’-এর সাইফুল ইসলাম নামে এক ঠিকাদারের নামও আসছে অনিয়মের অভিযোগে।
এদিকে প্রকল্প হস্তান্তর নিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা রাজিব হাসান রাজু বলেন, “আমরা সঠিকভাবে কাজ করে পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করেছি।” তবে পৌরসভার দাবি—তারা এখনো কোনো হস্তান্তরপত্র পায়নি।রাজিব রাজুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কক্সবাজারে কর্মরত অবস্থায় রাষ্ট্রপতি–প্রধানমন্ত্রীর সফর দেখিয়ে জরুরি কাজের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎসহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে দুদক তদন্ত করছে। এসব অভিযোগের কারণেই তাকে বদলি করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।জীবননগর পৌর প্রশাসক সৈয়দজাদী মাহবুবা মঞ্জুর মৌনা বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিষয়টি তদন্ত শুরু করি। বারবার নথি চাইলেও কেউ ফাইল দেয়নি। এত টাকার প্রকল্প নষ্ট হয়ে আছে এটা সত্যিই দুঃখজনক। বিষয়টি আমি ডিসি স্যার ডিডিএলজি স্যারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here