রানা আহম্মেদ অভি, ইবি : কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে জানাজা আদায় করা হয়। জানাজা শেষে হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলে শিক্ষার্থীদের ‘যেই ভারত খুনি পালে, সেই ভারত ভেঙে দাও’, ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা ঢাকা’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘ভারতের আগ্রাসন ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’—এমন নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইবি শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট, সদস্যসচিব ইয়াশিরুল কবির সৌরভ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মুবাশ্বির আমিন, মুখ্য সংগঠক গোলাম রব্বানী, মুখপাত্র সাদিয়া মাহমুদ মিম; ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্যসচিব মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্য নূর উদ্দিন; ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত, ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, খুনিরা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের ধরে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশের রাজনীতি হবে বাংলাদেশপন্থী; এখানে ভারতপন্থী রাজনীতি চলবে না। এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে জামিনে মুক্ত করতে যেসব আইনজীবী ও মহল ভূমিকা রেখেছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তা না হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, শহীদ হাদির আত্মার স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর গিটার বাজিয়ে কর্মসূচি পালন অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয়। একই সঙ্গে হাদিকে ফেসবুক পোস্টে ‘জংলি পোলা’ বলে অভিহিত করা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনে সিন্ডিকেট সভা ডেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানান তারা। পাশাপাশি শহীদ ওসমান হাদির নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আবাসিক ভবনের নামকরণের দাবিও তোলা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে শরিফ ওসমান হাদি ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।















