আসাদুল ইসলাম ধুলিহর : সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর ইউনিয়নের সুপারীঘাটা এলাকার বেতনা নদীর পাড় থেকে ট্রলিতে করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি মাটি চুরির ঘটনায় ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সোহরাব হোসেন মাটিসহ ট্রলি আটক করায় ক্ষিপ্ত হয়ে মাটিখেকো সরকারি মাটি চুরির মুলহোতা কেসমতের নেতৃত্বে ৩০থেকে ৩৫ জনের একটি দল দেশিও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে টুআইসি মাহাবুর রহমান ও কনস্টেবল মেহেদী হাসান আহত হয়। হামলা কারীরা পুলিশের অস্ত্র ছিনতায়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আটককৃত ট্রলি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মুলহোতা ধুলিহর সানাপাড়ার মৃত ইমান আলীর পুত্র কেসমতকে প্রধান আসামি করে সদর থানায় ৭জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫-৩০জনের নামে মামলা করেছে বলে সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সোহরাব হোসেন জানান, বেতনা নদীর খননকৃত সরকারি মাটি অবৈধ ভাবে কাটার অভিযোগ পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন ঘটনাস্থলে যান। এ সময় মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়ায় উর্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাটি কাটা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করেন। তবে সংশ্লিষ্টরা পুলিশের অনুরোধ অমান্য করে ট্রলিতে করে মাটি বহন করতে থাকলে পুলিশ দুইটি ট্রলি আটক করে পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মাটি চুরির মূল হোতা কেসমতের নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জন ব্যক্তি পুলিশ ফাড়ীর গেটের দরজা ভেঙে দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জোর পূর্বক পুলিশ ফাড়ীতে হামলা চালায় এবং পুলিশ সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। তাদের হামলার ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চারিদিকে হৈচৈ পড়ে যায়।
এ ব্যাপারে কেসমত হোসেন দাবি করে বলেন, পুলিশের নিষেধ অমান্য করে তিনি বুধবার সকালে বেতনার মাটি কাটছিলেন এটা সত্য। কিন্তু তাকে ধরে আনার পর আর কখনো মাটি কাটবেন না বলার পরও ফাঁড়ির কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সোহরাব হোসেন তাকে মারপিট করেছে।
এব্যাপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান জানান- এঘটনায় পুলিশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে দ্রুত অভিযান চালানো হবে।















