সম্ভাবনার সবুজ স্বপ্ন, চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি মনিরামপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পান চাষ

0
100

রাহাত আলী,মনিরামপুর : পতিত জমি কিংবা ছায়াঘেরা নিরিবিলি স্থান সঠিক যত্ন আর
শ্রম দিলেই সোনালি ফসল হয়ে উঠছে পান। যশোরের মনিরামপুর
উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে বাণিজ্যিক পান চাষ। তুলনামূলক কম
জমিতে, সীমিত খরচে দীর্ঘমেয়াদি এই ফসল থেকে ভালো লাভ
পাওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই কমবেশি পান চাষ হলেও খানপুর,
ঢাকুরিয়া, মশ্বিমনগর, খেদাপাড়া, ভোজগাতীসহ বিভিন্ন
গ্রামে পান চাষের আধিক্য বেশি। এখানকার উৎপাদিত পান
সরবরাহ হচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে করছে
আরও চাঙ্গা।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পান চাষ হলেও এই ফসলটি এখনও কাঙ্ধিসঢ়;ক্ষত
পরিচিতি পায়নি। চাষিদের অভিযোগ, পান চাষ সম্প্রসারণে
সরকারি উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। রোগবালাই, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও
আধুনিক পরামর্শের অভাবেও ভুগছেন তারা।
মনিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ঘঘুদহ, ফেদাইপুর, ভরতপুর,
ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের সুবলকাটি, তারুয়াপাড়া, শ্রীপুর,
মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা, চাকলা, নোয়ালি,
হাজরাকাটিসহ বিভিন্ন গ্রামে গেলে চোখে পড়ে সারি সারি
পানের বরজ। সবুজ পাতার সমারোহ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই
বাড়ায় না, একই সঙ্গে শত শত পরিবারের জীবিকাও নিশ্চিত করছে।
মনিরামপুর পৌরসভা বাজারের পান ব্যবসায়ী ইন্দ্রজিৎ দাস বলেন,
এখানকার পানের চাহিদা ভালো। প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার
ভোরে বিভিন্ন জেলার পাইকাররা বাজারে আসে। বর্তমানে এক
পোন (স্থানীয় হিসেবে ৮০টি পান) ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়
বিক্রি হচ্ছে।
খানপুর ইউনিয়নের পান চাষি সুবোধ দাস বলেন,আমাদের
পূর্বপুরুষের পেশাই পান চাষ। তিন বিঘা জমিতে তিনটি বরজ
রয়েছে। এই বরজই আমার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। আগে
বছরে দুই থেকে তিন লাখ টাকা লাভ হতো। এখন খরচ বেড়ে যাওয়ায়
লাভ কিছুটা কমেছে।
তিনি আরও বলেন,পানের নানা রোগ দেখা দেয়। সঠিক রোগ
নির্ণয় না হওয়ায় অনেক সময় কার্যকর ওষুধ দিতে পারি না। কৃষি
বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ খুব প্রয়োজন, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে
কর্মকর্তাদের তেমন পাওয়া যায় না।
ভরতপুর গ্রামের চাষি সুলতান আলী জানান,এ এলাকায় মূলত দুই
ধরনের পান চাষ হয়—মিষ্টি পান ও সাঁচি পান। এর মধ্যে প্রায় ৭০
শতাংশ মিষ্টি পান। এটি বেশি লাভজনক এবং জনপ্রিয়। তবে
আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো তেমন কেউ নেই।
কৃষক শিমুল হোসেন বলেন,পান চাষের সম্ভাবনা অনেক, কিন্তু
বরজ তৈরি করতে শুরুতেই বড় অঙ্কের খরচ লাগে। সরকারি সহায়তা
পেলে নতুন অনেক চাষি এই ফসলে আসতে পারত। এতে উৎপাদন
বাড়বে, আমরাও আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হব।
মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বিথী বলেন,
মনিরামপুর কৃষি প্রধান এলাকা। এখানকার মাটি ও জলবায়ু পান
চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। উপজেলায় অন্তত ৫০টির বেশি গ্রামে
পান চাষ হচ্ছে। এটি একটি সম্ভাবনাময় ফসল। কৃষি বিভাগের
পক্ষ থেকে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা, পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া
হচ্ছে। কৃষি বিভাগ কোনো কাজ করছে না—এই অভিযোগ
সঠিক নয়।
মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের কৃষি শিক্ষা বিভাগের
সহকারী অধ্যাপক নহার রঞ্জন হালদার বলেন , আধুনিক প্রযুক্তি, রোগ
ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার
করা গেলে পান চাষ হতে পারে মনিরামপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের
অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here