খালেদা জিয়ার অভিনন্দনপত্র পেয়ে পাল্টে গেল এক ছাত্রের জীবনমান

0
168

আজিবর রহমান, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: মণিরামপুরে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি
পাওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অভিনন্দনপত্র পেয়ে ঢাকুরিয়া
গ্রামের প্রদীপ ব্যানার্জী নামের এক ছাত্রের জীবন বদলে গেছে। একটি মুহূর্ত,
একটি সুযোগ আর সঠিক সময়ে পাওয়া অনুপ্রেরণা এই তিনের সমন্বয়েই বদলে
যেতে পারে একটি মানুষের জীবন।
২০০৩ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরিক্ষায় মণিরামপুর উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়নে ১১
জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছিলেন। গ্রামের এক সাধারণ শিক্ষার্থী
হিসেবে প্রদীপ ব্যানার্জী চতুর্থ স্থান অধিকার করে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন
করেন। এই সাফল্যই তার জীবনের গতিপথ পাল্টে দেয়। বৃত্তি প্রাপ্তির পর তার জীবনে
আসে এক স্মরণীয় অধ্যায়। ২০০৫ সালের ২২ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তার সাফল্যে সন্তুষ্ট হয়ে প্রদীপ
ব্যানার্জীকে একটি অভিনন্দনপত্র ও দু’টি মূল্যবান বই উপহার পাঠান। (বিজ্ঞানের
বিস্ময় এক্স-রে ও উপমহাদেশের কয়েকজন বিজ্ঞানী)।
চিঠিতে বেগম খালেদা জিয়া লেখেন, “প্রিয় প্রদীপ ব্যানার্জী। আমার স্নেহ
নিও। তুমি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছ জেনে আমি খুশি হয়েছি। এ সাফল্যের
জন্য তোমাকে অভিনন্দন। তোমরা নিশ্চয়ই জানো ২০০৫ সালকে আমি বিজ্ঞান
গ্রন্থবর্ষ হিসেবে ঘোষনা করেছিলাম। বিজ্ঞান বিষয়ক বই পাঠের মধ্যে দিয়ে
তোমরা আরও বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠবে এটাই ছিলো আমার প্রত্যাশা। আমার সে
প্রত্যাশা বহুলাংশে পূরণ হয়েছে জেনে আমি আনন্দিত।
বৃত্তি পরিক্ষায় তোমার কৃতিত্বের জন্য জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের মাধ্যেমে আমি
তোমাকে বিজ্ঞান বিষয়ক দু’টি বই উপহার হিসেবে পাঠালাম। আশা করি, এই
উপহার তোমাকে বই পড়ার উৎসাহী এবং বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলবে। একজন
আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে। দেশের একজন যোগ্য
নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে এখন থেকেই তুমি সচেষ্ট হবে এবং
লেখা পড়ায় আরো বেশী মনোযোগী হবে। আমি ভবিষ্যতে তোমার আরো অধিক
সাফল্য কামনা করি। তোমাদের আপনজন, খালেদা জিয়া”।
প্রদীপ ব্যানার্জীর পৈর্তৃক বাড়ি মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের
চাপাকোনা গ্রামে। বর্তমানে ঢাকুরিয়া গ্রামে বসবাস করেন। তার পিতা
প্রাণ কৃঞ্চ ব্যানার্জি ও মাতা মাধুরি ব্যানার্জী। তার শিক্ষাজীবনের শুরু ১৯৯৯
সালে হোগলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি ঢাকুরিয়া সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরিক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেন।
পরে ঢাকুরিয়া প্রতাপকাটি বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সাধারণ গ্রেডে উত্তীর্ণ হন এবং ২০০৯ সালে
এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ উত্তীর্ণ হন। ২০১১ সালে ঢাকুরিয়া কলেজ থেকে
এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর ২০১৭ সালে যশোর বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিষয়ে স্নাতক
ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
বর্তমানে তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন। ২০২০ সালে তারুয়াপাড়া
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন প্রদীপ ব্যানার্জী।
শিক্ষকতা জীবনে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তার
শিক্ষাজীবনে বিশেষ অবদান রেখেছেন শিক্ষক স্বর্গীয় সত্যবান পাল, স্বর্গীয়
নির্মল রায়, তাপস কুন্ডু ও সাবুর আলী সুমন। প্রদীপ ব্যানার্জি বলেন, বেগম
খালেদা জিয়ার পাঠানো সেই চিঠি আমাকে শুধু সাহস দেয়নি, জীবনকে
নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। আজ আমি যে অবস্থানে, তার পেছনে সেই
অনুপ্রেরণার বড় ভূমিকা রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা
জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। তিনি বর্তমানে শারীরিকভাবে অনেক
অসুস্থ এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঈশ্বরের নিকট উনার সার্বিক সুস্থতা ও
সার্বঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here