হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে অভয়নগরের ফসলি মাঠ

0
100

রজয় রাব্বি, অভয়নগর (যশোর) : যশোরের অভয়নগর উপজেলার মাঠজুড়ে এখন শুধু হলুদের ছোঁয়া। সরিষা ফুলের উজ্জ্বলতায় সোনালি কার্পেটের মতো সাজানো মাঠ দুলছে শীতের হিমেল বাতাসে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো চাষ ও উন্নত জাতের বীজের ব্যবহারে চলতি মৌসুমে সরিষার আবাদ ও ফলন নিয়ে কৃষকদের মধ্যে বাম্পার ফলনের আশা জেগেছে।
এই হলুদ দোলায় মোড়া মাঠ এখন কেবল কৃষকের জীবিকার উৎস নয়, বরং প্রকৃতিপ্রেমীদের টানে ভরপুর। পড়ন্ত বিকেলে বাসন্তী রঙের সাজে তরুণ-তরুণীরা ক্যামেরাবন্দি করছেন গ্রামীণ সৌন্দর্যের মনোমুগ্ধকর মুহূর্ত।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার চাষযোগ্য ১ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমির মধ্যে ১ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতেই সরিষার আবাদ করা হয়েছে। কোদলা বাহিরঘাট, পালপাড়া, মথুরাপুর, পাইকপাড়া, ভাটপাড়া, সিঙ্গেড়ী, সুন্দলী, পায়রা ও চলিশিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আবাদ লক্ষ্য করা গেছে। এ বছর কৃষকদের মধ্যে বিএডিসির উচ্চফলনশীল জাত—বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৭, বিনা-৯ ও ‘সম্পদ’ জাতের সরিষা বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কৃষি প্রণোদনার আওতায় উন্নত মানের বীজ, সার ও ফসল সংরক্ষণের ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে, যা আবাদ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ সরিষা খেতে ইতোমধ্যে ফুল ফুটেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকদের আশা, বিঘাপ্রতি ৪ থেকে ৭ মন পর্যন্ত সরিষা উৎপাদন সম্ভব হবে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে। মৌয়ালরা মাঠজুড়ে মৌ বাক্স স্থাপন করায় মধু উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে পরাগায়নের মাধ্যমে সরিষার ফলনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লাভলী খাতুন বলেন, কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা, মানসম্মত বীজ ও সার বিতরণ এবং ফসল সংরক্ষণের ব্যাগ সরবরাহ সব কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে সরিষায় বাম্পার ফলন নিশ্চিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here