রাহাত আলী,মনিরামপুর : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোর-
৫ (মনিরামপুর) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দলীয় মনোনয়ন ঘিরে
সৃষ্ট অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে শনিবার (২৭ডিসেম্বর) বিক্ষোভ,
মিছিল ও কাফনের কাপড় পরে রাজপথে নেমে আসে বিএনপির
হাজারো নেতাকর্মী।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির
সভাপতি, পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সদর ইউনিয়নের বারবার
নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শহীদ
মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন
বহালের দাবিতে পৌর শহর কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়ক অবরোধ
করে রাখেন, ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপে তা স্বাভাবিক হয়।
শুক্রবারের ন্যায় কাফনের মিছিল, রাজপথে প্রতিবাদের আগুন।
শুক্রবারের ন্যায় শনিবার দুপুুর থেকেই মনিরামপুর পৌর শহর ও
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে নেতাকর্মীরা কাফনের
কাপড় পরে মিছিল নিয়ে শহরে প্রবেশ করেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও
দলীয় পতাকায় ছেয়ে যায় রাজপথ। স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে
পুরো এলাকায়
“ইকবাল ভাই ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই,ধানের শীষের প্রার্থী
ইকবাল ভাইকেই চাই”,
স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যাপক মোঃ” মুহিব বুল্লাহ বলেন, দীর্ঘ
সময় পর মনিরামপুরে এমন আবেগঘন, দৃশ্যমান ও আত্মত্যাগের
প্রতীকী আন্দোলন দেখা গেল।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে বিএনপি হাইকমান্ড
যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনটি স্থগিত রাখলেও পরে উপজেলা
বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল
হোসেনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে তৃণমূল পর্যায়ে
ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক মহাসচিব,
সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের
ছেলে মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাসকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ার
খবরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।
সেই ক্ষোভই রাজপথে বিস্ফোরিত হয়।
মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, এটা কোনো ব্যক্তির মনোনয়নের
প্রশ্ন নয়, এটা মনিরামপুর বিএনপির অস্তিত্বের লড়াই। তিন
দশক ধরে আমরা ধানের শীষ প্রতীক ধরে রেখেছি শুধু দলের
স্বার্থে। এবার তৃণমূলের ঘাম, ত্যাগ আর রক্তের মূল্য দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন,অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন এই
এলাকার পরীক্ষিত নেতা। তাঁর মতো ত্যাগী নেতাকে বাদ দিয়ে
অন্য কাউকে ধানের শীষ দিলে নেতাকর্মীরা মানবে না। রাজপথই
আমাদের শেষ আশ্রয়।”
মনিরামপুর পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই
বলেন,তিন দশক ধরে ধানের শীষ অন্যদের হাতে তুলে দিয়েছি।
এবার আর নয়। নিজের প্রার্থী, নিজের প্রতীক আমরা ফেরত
চাই।
বিএনপি নেতা মফিজুর রহমান বলেন,ইকবাল ছাড়া অন্য
কাউকে ধানের শীষ দিলে এই আসন নিশ্চিতভাবে হাতছাড়া
হবে।
অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন,
ছাত্রজীবন থেকে আজ পর্যন্ত দলের জন্য জীবন বাজি রেখে
রাজনীতি করেছি। চার ডজনের বেশি মামলার আসামি
হয়েছি, জেল-জুলুম সহ্য করেছি। ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের ১২
জন নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। তিনি বলেন,আজ ভোট
দেওয়ার সুযোগ এসেছে। হাইকমান্ড মনোনয়ন বহাল রাখলে
যশোর-৫ আসন বিএনপির জন্য উপহার দেওয়া সম্ভব।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী
ছিলেন অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন। দীর্ঘ তিন দশক
জোট সমঝোতার কারণে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মুফতি মুহাম্মদ
ওয়াক্কাস।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ খান আক্তার হোসেন বলেন,দীর্ঘ
অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক শক্তি ও মানুষের সঙ্গে নিবিড়
সম্পর্ক—এই তিন কারণে ইকবাল হোসেন এই আসনে
বিএনপির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী।
মনিরামপুর পৌর বিএনপি’র সভাপতি খাইরুল ্ধসঢ়;সলাম
বলেন,কাফনের কাপড়ে মোড়ানো প্রতিবাদ জানিয়ে
মনিরামপুরের রাজপথ আজ একটাই বার্তা দিচ্ছে ধানের শীষ
চাই, ইকবাল হোসেন চাই। এখন সব দৃষ্টি বিএনপি
হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।















