দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে তীব্র শীত একদিকে একদিকে কাঁপুনি, অন্যদিকে আশ্বাস

0
64

ডি এইচ দিলসান : ভোর এখন আর আলো নিয়ে আসে না,
আনে কুয়াশা। যশোরের ভোর মানেই সাদা ধোঁয়ার মতো
এক অদৃশ্য চাদরে ঢেকে যাওয়া শহর। রাস্তার মোড়ে মোড়ে
বাতির আলো ঝাপসা, আর সেই আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা
মানুষগুলো যেন আরও অস্পষ্ট কিন্তু তাদের কষ্ট খুব স্পষ্ট। যশোরে
শীত যেন হঠাৎ করেই নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছে।
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৮ গত তিন দিনের মত চলছে
যশোরে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী
কয়েক দিনে যশোরে রাত ও ভোরের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
কুয়াশার প্রবণতাও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া
হয়েছে। ভোরের দিকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে শহর ও
গ্রাম, দূরের কিছুই স্পষ্ট নয়। সড়কে যানবাহন চলছে ধীরে,
আর খোলা মাঠে কাজ করা মানুষদের মুখে স্পষ্ট কষ্টের ছাপ। ভার
৫টা থেকে সকাল ১২টা পর্যন্ত যশোর শহর, ভবদহ, চৌগাছা,
ঝিকরগাছা ও মনিরামপুর অঞ্চলে কুয়াশার দাপট সবচেয়ে
বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শীতের এই প্রথম ধাক্কায় বিপাকে
পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া
মানুষরা।
ভবদহের এক ভ্যানচালক শীতের ভোরে হাত ঘষতে ঘষতে
বলেন,“শীত এলে শরীর আগে কাঁপে, পরে পেট।” বাইরে লোকও
বের হয় না, প্যাচেঞ্জারও পাই না। রোজগাও হয় না। বাজাও করতে
পারি না। খাওয়াও জোটে না।
শীতের এই সময়টা যশোরের দরিদ্র মানুষের জন্য শুধু ঠান্ডা নয়,
এক ধরনের নীরব যুদ্ধ। ফুটপাতে রাত কাটানো মানুষগুলো
পুরোনো পলিথিন আর ছেঁড়া কম্বলের নিচে শরীর ঢেকে
রাখে। কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে নেয় সামান্য উষ্ণতা। সেই
আগুনে পোড়ে কাঠ নয়, পোড়ে জীবনের ক্লান্তি।
রিকশাচালক রহিম সকালে রিকশা বের করেন দেরিতে। “হাত
ঠিকমতো চলে না ভাই। যাত্রী না থাকলেও বের হই। না বের হলে
চুলা জ্বলে না।”
শহরের রেলগেট এলাকায় কথা হয় এক রিক্সাচালকের সঙ্গে। তিনি
বলেন, সকালে বের হতে কষ্ট হয়। ঠান্ডায় হাত শক্ত হয়ে আসে,
যাত্রীও তুলনামূলক কম থাকে। আয় কমে যাওয়ায় সংসার
চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
শীত শিশুদের জন্য নিয়ে আসে সর্দি-কাশি, জ্বর। বয়স্কদের
শরীরে জমে যায় ব্যথা। হাসপাতালের বারান্দায় অপেক্ষারত
মুখগুলোতে একই প্রশ্ন। এই শীত কবে সহনীয় হবে?
তবু শীত সব সময় শুধু কষ্ট নয়। যশোরের গ্রামগুলোতে খেজুর
গাছে হাঁড়ি ঝুলে যায়, ভোরে রস নামার অপেক্ষা। কুয়াশার
ভেতর দিয়ে মাঠে হেঁটে যাওয়া কৃষকের মুখে দেখা যায়
নীরব আশা। তারা জানে, এই ঠান্ডাই ফসলের বন্ধু।
এক বৃদ্ধ কৃষক বলেন,“শীত ভালো হলে জমি হাসে, আমরাও
একটু হাসতে পারি।” যশোরের শীত তাই দ্বিমুখী।
একদিকে কাঁপুনি, অন্যদিকে আশ্বাস। কুয়াশার ভেতর
হারিয়ে যাওয়া রাস্তাগুলোর মতোই মানুষের জীবনও এখন অস্পষ্ট।
তবু মানুষ থেমে থাকে না। শীতের চাদরের নিচে চাপা পড়ে
থাকলেও বেঁচে থাকার আগুনটা তারা নিভতে দেয় না।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, শীত শুরু
হওয়ার পর শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা ধীরে
ধীরে বাড়ছে। এ সময় গরম কাপড় ব্যবহার ও প্রয়োজন ছাড়া
ভোরে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here