ভৈরব নদে নাব্য সংকট, বিপর্যয়ে নওয়াপাড়ার বাণিজ্য

0
127

রাজয় রাব্বি, অভয়নগর (যশোর) : যশোরের অভয়নগরে ভৈরব নদে নাব্য সংকট প্রকট আকার নিয়েছে। এর ফলে অস্তিত্বের
সংকটে পড়েছে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র নওয়াপাড়া নদীবন্দর। নদের
বুকে জেগে ওঠা বিশাল চর গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ-বন্দরের কার্যক্রমে বড় বাঁধা হয়ে
দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে এই অঞ্চলের
হাজার কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্য।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, নওয়াপাড়া নদীবন্দর-সংলগ্ন নতুন সেতু
এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার জুড়ে নদেরদুই-তৃতীয়াংশই পলি জমে ভরাট
হয়ে গেছে। জোয়ারের সময়ও এখানে লাইটার জাহাজ, কার্গোসহ অন্যান্য
নৌযান চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে, আর ভাঁটার সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
বন্দরে পণ্যবাহী কার্গো জাহাজগুলো ভিড়তে না পেরে মাঝনদীতে আটকে থাকে
দীর্ঘ সময়। ফলে আমদানি-রপ্তানিতে বিকল্প হিসেবে স্থলপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে
ব্যবসায়ীদের। এতে পরিবহন খরচ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামের ওপর।
নওয়াপাড়ার সার ও কয়লা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আলম ট্রেডার্সের প্রোপাইটর নূও
আলম পাটোযারী বাবু জানান, পলি জমার কারণে কার্গো জাহাজগুলো আগের
মতো বন্দরে নোঙর করতে পারছে না। আগে দিনে ৩০ থেকে ৪০টি জাহাজ নোঙর
করলেও বর্তমানে সে সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। নদের নাব্য সংকটে
সার্বিকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে নওয়াপাড়া নৌবন্দর।
শ্রমজীবী সমন্বয় পরিষদ অভয়নগর শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্যা
হাফিজুর রহমান বলেন, কার্গো কমে যাওয়ায় আয় কমেছে শ্রমিকদের। আগে
বন্দরে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক কার্গো নোঙর করতো। তবে বর্তমানে
কার্গোর সংখ্যা অনেক কমেছে। আবার যে জাহাজগুলো ঘাটে আসছে সেগুলো
ঘাট থেকে খানিকটা দূরে নোঙর করছে। এতে পণ্য লোড-আনলোডে ঝুঁকি
বাড়ছে শ্রমিকদের। প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা।
নওয়াপাড়া সার সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ
জালাল হোসেন বলেন, বিগত পাঁচ বছর যাবত সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
মূল সমস্যা নদের ওপর নির্মিত সেতুটি। এটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা
হয়েছে। যার ফলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহে বাধা পড়ছে। দ্রুতই ভৈরব নদের এ অংশ
মরা খালে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ীদের এই গুরুত্বপূর্ণ নেতার।
নওয়াপাড়া সার ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক ও নওয়াপাড়া
প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মুজিবুর রহমান জানান, নৌ, সড়ক ও রেলপথের
সুবিধা থাকায় নওয়াপাড়া দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। এখান থেকে
বছরে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার কয়লা, সার, খাদ্যশস্য ও পাথরসহ
আমদানিকৃত পণ্য সারা দেশে যায়। এই পুরো বাণিজ্যই ভৈরব নদের ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু পলি পড়ে নদটি এখন মুমূর্ষু।
এ ব্যাপারে নওয়াপাড়া নদীবন্দরের উপ-পরিচালক মো. মাসুদ পারভেজ দৈনিক যশোরকে
বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে নাব্য সংকট কিছুটা প্রকট হয়। তবে আমরা বসে নেই।
বিআইডব্লিউটিএ-এর পক্ষ থেকে বর্তমানে চারটি ড্রেজার দিয়ে খনন কাজ
পরিচালনা করা হচ্ছে। নদের যেসব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পলি জমেছে, সেগুলো দ্রুত
অপসারণের চেষ্টা চলছে। আশা করছি শিগগিরই জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক
পরিবেশ ফিরে আসবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here