কালীগঞ্জে নারীকে ধর্ষণ ও গাছে বেঁধে চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ- নিজের অপকর্ম ঢাকতে ধর্ষণের মামলা নারীর # গাছে বেঁধে চুক কেটে নির্যাতনের অভিযোগ # ৪ জনকে আসামি করে মামলা #এলাকাবাসীর দাবি ওই নারী দেহ ব্যবসায়ী #এলাবাসীর মনববন্ধনের চেষ্টা,পুলিশের বাধায় পন্ড

0
20

স্টাফ রিপোটার কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) :- ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক বিধবা নারীর ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে এলাকায়
তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায়
মানববন্ধন করার চেষ্টা করে শহরের আড়পাড়ার নদীপাড়া এলাকাবাসী। এ সময়
পুলিশ এসে মানববন্ধনের ব্যানার কেড়ে নেয়। পরে মানববন্ধনটি পণ্ড হয়ে যায়।
এর আগেও ওই নারী বিভিন্নস্থানে ধরা পড়ার ভিডিও সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি একজন
দেহ ব্যবসায়ী। নিজের অপকর্ম ঢাকতে তিনি মিথ্যা মামলা করেছেন।
শহরের নদীপাড়া এলাকার প্রায় ২০ জনের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।
এলাকাবাসীর দাবি, মারধরের শিকার ওই নারী প্রকৃত দেহ ব্যবসায়ী। এর
আগে যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে ধরা পড়েছে সে। সেসব ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই নারী নিজে অপকর্মের
টাকা ভাগাভাগির বিষয়টি স্বীকারও করেছে। তাকে এলাকায় অপকর্ম করতে
অনেকবার নিষেধও করা হয়েছে। কিন্তু কোন কর্ণপাত করেনি। গত শনিবার
কোলা বাজার এলাকার সোহান ও ইমন নামে দুই যুবক ওই নারীর বাসায় যায়।
এ সময় স্থানীয়রা তাদের ধরে ফেলে এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। এতে
এলাকার শাহীন ও হাসান ধর্ষণ করেনি ওই নারীকে। যদি ধর্ষণ করে তাহলে
উভয়পক্ষের ডিএনএ টেস্টের দাবি এলাকাবাসীর।
ধর্ষণের মামলার বাদী ও নারীর বাসার ভাড়াটিয়া সুমি খাতুন বলেন, আমি
গত ৪ মাস ধরে এই বাড়িতে ভাড়া থাকি। এই বাড়ির মালিক ওই নারী। তিনি
বিধবা। সেদিনের ঘটনায় ওই মহিলা ও তার ছেলে সাংবাদিকদের যে
স্বীকারোক্তি দিছে সব মিথ্যা। এই বাসায় বর্তমানে যে পরিমাণ পুরুষ
মানুষ আসে আমি অবাক হয়ে যায়। একজন মহিলা কিভাবে এতগুলো পুরুষ
নিয়ন্ত্রণ করে। উনি গত কালী পূজার মধ্যেও ধরা খাইছে। ওই মহিলা এই
এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। আসলে সমাজটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ওই এলাকার যুবক রুবেল হোসেন বলেন, যে দুইটা ছেলেকে ওই বাসা থেকে
ধরা হয়েছিল তারা মুসলমান। একজন বিধবা হিন্দু নারীর কাছে রাতে দুই
যুবকের কি কাজ থাকতে পারে। ওই মহিলাকে এর আগে একাধিকবার নিষেধ
করা হয়েছিল। কিন্তু সে কোন কিছুই তোয়াক্কা করতো না। এরই সুবাদে
সেদিন তাকে এলাকাবাসী ধরে মারধর করে। যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা
দেওয়া হয়েছে তারা ধর্ষণের সাথে জড়িত না। ওই নারীকে ধরার কারণে মামলা
করেছে।
জামাল হোসেন নামে আরেক যুবক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি
ওই নারী ও দুই ছেলেকে গাছের সঙ্গে বাঁধা দেখতে পাই। এ সময় দুই ছেলে
বলে ওই নারী তাদের ডেকে এনেছে। এ সময় দুই ছেলের কাছ থেকে ১৫০০
টাকাও নিয়েছে ওই নারী। পরে গ্রামবাসীর সামনেই ওই নারী ১৫০০ টাকা
ওই ছেলেদের ফেরত দেয়। কিন্তু মিথ্যা মামলা করে শাহীন ও হাসানকে ধর্ষণের
অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে।
আড়পাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা প্রতিবাদ জানাতে
মানববন্ধন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ করতে দেয়নি। যে দুই যুবকের
বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে সেটি একদমই মিথ্যা।
প্রয়োজনে উভয়পক্ষের ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক।
অসামাজিক কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন যশোর রেল
স্টেশন এলাকার যুবক রাব্বি হোসেন। তিনি বলেন, ওই নারী রেল স্টেশনের পাশে
এক সময় ভাড়া থাকতো। সেখানেও তিনি অপকর্ম করতে গিয়ে আপত্তিকর
অবস্থায় ধরা পড়েন। এরপর সেখান থেকে এলাকাবাসী বের করে দেন।
তবে এসব ব্যাপারে জানতে ভুক্তভোগী ওই নারীর মোবাইলে ফোন দিলে সেটি
বন্ধ পাওয়া যায়।
ওই নারীর করা মামলার প্রধান আসামি শাহীনুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ওই
এলাকায় গিয়ে দেখি তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা। ওই নারীর জামাই
পুলিশ। তিনিও জানেন তার শাশুড়ী এর আগে এলাকায় ধরা পড়েছিল। মিথ্যা
মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমি ডিএনএ টেস্ট করাতে রাজি আছি।
অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, এক নারী বাদী হয়ে ধর্ষণের
অভিযোগে মামলা করেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড করেছি। একজনকে আটক
করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একটা মানববন্ধন
করতে চেয়েছিল কিন্তু বর্তমানে নির্বাচনী আচরণবিধির ব্যাপারে তাদের
বুঝানো হয়েছে। এরপর তারা বাড়ি চলে যায়। আমরা মেডিকেল পরীক্ষার জন্য
তাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here