স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকেঃ যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন কে ফিল্মী স্টাইলে মাথায় গুলি করে হত্যা মামলার মূল শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুককে আটক করেছে যশোর ডিবি পুলিশ। গত বুধবার রাতে শহরের বেজপাড়া মন্দির সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। ত্রিদিব ওই এলাকার চিরুনি কল সংলগ্ন মালতী চক্রবর্তীর ছেলে। সে একজন ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করে। সে নিষিদ্ধ যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। বিচারক তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন।
যশোর ডিবি পুলিশের এসআই অলক কুমার দে (পিপিএম) জানান, শংকরপুরের ইসহাক সড়কে ঘটনাস্থলসহ আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে খুনিকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ত্রিদিব চক্রবর্তীর অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে আটক করা হয়।
আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে ত্রিদিব হত্যার দায় স্বীকারের পাশাপাশি জানান—এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলো নিহত বিএনপি নেতা আলমগীরের মেয়ের জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগর।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি রাতে নিজ এলাকা শংকরপুর ইসহাক সড়কে প্রকাশ্যে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বাদী হয়ে মেয়ের জামাই পরশ ও সাগরসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর পর পুলিশ জামাই পরশ ও সাগরকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্য মতে গত বুধবার রাতে মুল শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তীকে আটক করে। এখন পুলিশ খুনিকে বহনকারী মোটরসাইকেলের চালক ও তাদের অপর এক সহযোগীকে আটকের চেষ্টা করছে।
বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম হত্যাকান্ডের মুল শুট্যারের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।















