রাহাত আলী,মনিরামপুর : দেশজুড়ে চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহের বিরূপ প্রভাবে যশোরের মনিরামপুর উপজেলায়
বোরো ধান আবাদ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কয়েক দিন ধরে অব্যাহত শীত, ঘন
কুয়াশা ও সূর্যালোকের স্বল্পতায় উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নের মাঠের বীজতলায়
কমবেশি ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে ধানের চারা দুর্বল হয়ে হলদে ও লালচে রং ধারণ করছে,
কোথাও কোথাও পচন ধরে পুরো বীজতলাই নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মনিরামপুরে প্রায় ২৭
হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ধান আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সময়মতো চারা রোপণ ও
কাঙ্ধিসঢ়;ক্ষত উৎপাদন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
সরেজমিনে মশ্বিমনগর, চালুয়াহাটী, খানপুর, ঝাঁপা, রোহিতা, কাশিমনগর,
খেদাপাড়া, ভোজগাতী, মনিরামপুর সদর, ঢাকুরিয়া, নেহালপুর, দুর্বাডাঙ্গা ও
হরিদাসকাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় নিচু জমিতে তৈরি
বীজতলাগুলোতে ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি। রাতের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে
যাওয়া এবং দিনের অধিকাংশ সময় কুয়াশা থাকায় চারাগাছ প্রয়োজনীয় তাপ ও
সূর্যালোক পাচ্ছে না।
কাশিপুর গ্রামের কৃষক রফিক উদ্দিন বলেন,দীর্ঘদিন চাষাবাদ করছি, কিন্তু এমন শীত
আগে দেখিনি। রোদ না থাকায় বীজতলার চারা হলদে হয়ে যাচ্ছে, কোথাও পচনও ধরেছে।
নতুন করে বীজতলা করলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে।
ভরতপুর এলাকার কৃষক মাহাবুবুর রহমান জানান, “শীতের কারণে চারার বৃদ্ধি প্রায় বন্ধ।
সময়মতো ভালো চারা না পেলে বোরো রোপণ পিছিয়ে যাবে, এতে ফলন কমার আশঙ্কা
রয়েছে। বাকোশপোল গ্রামের কৃষক প্রভাষ বিশ্বাস বলেন, নিচু জমির বীজতলাই
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক জায়গায় পুরো বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে, নতুন করে
বীজ কিনলে খরচ দ্বিগুণ হবে। মনোহরপুর গ্রামের কৃষক বাসুদেব মল্লিক বলেন, বোরো
ধান আমাদের প্রধান ফসল। বীজতলায় এমন ক্ষতি হলে পুরো মৌসুমটাই অনিশ্চিত হয়ে
পড়বে।
কৃষক নেতা গাজী হামিদ বলেন, শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে বোরো
উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার ও
প্রয়োজনীয় কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
কৃষি বিভাগ জানায়, অতিরিক্ত ঠান্ডা, দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশা ও সূর্যালোকের অভাবে
বোরো ধানের চারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, রোগবালাইয়ের
ঝুঁকি বাড়ে এবং চারায় পচন দেখা দেয় ,যার প্রভাব পড়ে সামগ্রিক উৎপাদনে।
মনিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহারিয়া হোসেন বলেন,
“শীতজনিত ক্ষতি কমাতে কৃষকদের নিয়মিত হালকা সেচ দেওয়া, বীজতলা পলিথিন বা
খড় দিয়ে ঢেকে রাখা, পানি জমে থাকতে না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যার
পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আবহাওয়া
স্বাভাবিক হলে অনেক চারা ঘুরে দাঁড়াবে এবং বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রায় বড় ধরনের
প্রভাব পড়বে না বলে আমরা আশাবাদী।















