যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে গণভোটে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় সভা

0
67

যশোর অফিস : কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তের কাছে আমরা ঋণী। এই ঋণ শোধ করতে হলে এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারকে সংবিধানসম্মত করতে হলে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে জয়যুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে এবং পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে না যেতে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবেএভোর প্রতিবেদক শনিবার বিকেলে যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে গণভোটে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান। সচিব বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন গঠনে সরকারি ও বিরোধী দলের যৌথ ভূমিকা নিশ্চিত হবে। সরকার এককভাবে সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবে, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে গণভোটের বিধান কার্যকর হবে। পাশাপাশি কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে, মৌলিক অধিকারের সংখ্যা বাড়বে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে রাষ্ট্রপতির ইচ্ছামতো ক্ষমা করার সুযোগ সীমিত হবে। তিনি বলেন, ‘না’ ভোট জয়ী হলে এসব সংস্কারের কিছুই বাস্তবায়িত হবে না; বরং পুরোনো ব্যবস্থা ফিরে আসবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর দেশে কার্যকর ভোটাধিকার ছিল না। ২০১৮ সালের নির্বাচনে কীভাবে আগেভাগে পরিকল্পনা করে ভোটের ফল প্রভাবিত করা হয়েছিল, তা সবার জানা। ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের পর মেধাভিত্তিক নিয়োগে পরিবর্তন এলেও পরে আবার কোটা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা ২০২৪ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের পেছনে ভূমিকা রাখে। সেই আন্দোলনে বহু মানুষের জীবন ও রক্তদান হয়েছে। শহীদরা যে সংস্কার চেয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করাই একমাত্র পথ।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি অঙ্গীকার হত্যার বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, নির্বাচন কার্যক্রম চলছে এবং সংস্কারের খসড়া প্রস্তুত হলেও চূড়ান্ত করতে জনগণের সম্মতি প্রয়োজন। এজন্য সর্বস্তরের মানুষকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কাজ করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় মাদ্রাসা শিক্ষাকে অবহেলা ও উপেক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, কোরআন-হাদিসভিত্তিক শিক্ষা থেকে মাদ্রাসা শিক্ষাকে বিচ্ছিন্ন করার যে প্রচেষ্টা ছিল, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
সভায় আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম রাকিবসহ বিভিন্ন মাদ্রাসার অধ্যক্ষরা।#

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here