ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন/ তরুণ ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা সুষ্টু পরিবেশে যোগ্য প্রর্থীকে ভোট দিতে চায়

0
53

ডি এইচ দিলসান : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দৃশ্যমান প্রচারণার পাশাপাশি পর্দার আড়ালেও
চলছে হিসাব-নিকাশ, জোট কৌশল ও ভোটার সমীকরণের জটিল অঙ্ক।
স্পষ্ট হচ্ছে যশোর এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ
জেলার তালিকায় থাকছে। এরই মধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে যশোর জেলায়
রাজনৈতিক তৎপরতা ও জনআগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছে। শহর থেকে গ্রাম
চায়ের দোকান, হাটবাজার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সর্বত্রই
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন নির্বাচন। ভোটারদের একাংশের মধ্যে
উৎসাহ ও প্রত্যাশা যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ
নির্বাচন নিয়ে রয়েছে কিছু উদ্বেগও। এ দিকে জেলার ছয়টি
সংসদীয় আসনকে ঘিরে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো আগেভাগেই মাঠে
নেমেছে। দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় নতুন
মাত্রা যোগ করেছে। যশোরের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,
উন্নয়ন এখন আর একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়। কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্যের
চাপ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান এসব বিষয়
ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে। তরুণ ভোটারদের একটি অংশ
পরিবর্তনের পক্ষে হলেও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথাও শোনা
যাচ্ছে প্রবীণ ভোটারদের মুখে। স্থানীয় ভোটাররে সঙ্গে কথা বলে জানা
যায়, তার এবার ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী। বিশেষ করে তরুণ
ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা স্পষ্ট। যশোর শহরের এক তরুণ
ভোটার বলেন, “ভোটটা যেন সত্যিকারের হয় এইটাই আমাদের চাওয়া।
সুষ্টু পরিবেশে যোগ্য প্রর্থীকে ভোট দিতে চাই। নির্বাচন ঘিরে
যশোরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অতীত
অভিজ্ঞতা ভোটারদের সতর্ক করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ
পরিবেশ বজায় রাখার আশ্বাস দেওয়া হলেও ভোটারদের বড় অংশ সুষ্ঠু
ভোটগ্রহণ ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন।
নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র
পরিদর্শন করেছেন। তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত সার্বিক প্রস্তুুতি
ভোটকেন্দ্রে ভৌগোলিক অবস্থান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। আসন্ন নির্বাচনে পুলিশের

পাশাপাশি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন
করতে ব্যাপক নিরাপত্তার প্রস্তুতি গ্রহন করেছে বর্ডার গার্ড
বাংলাদেশ (বিজিবি)। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে যশোর রিজিয়নে
সর্বমোট ২০৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়ন করা হচ্ছে।
আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুারির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মোতায়ন
সম্পন্ন হবে। যশোরের রাজনীতিতে স্থানীয় নেতাদের ব্যক্তিগত
গ্রহণযোগ্যতা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত
ভাবমূর্তি, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও এলাকায় দৃশ্যমান কাজ ভোটের
ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দলীয় সিদ্ধান্তের চেয়ে
স্থানীয় সমীকরণ বেশি কার্যকর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। সার্বিক
প্রস্তুতি বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ
আশেক হাসান জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া
হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা
থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত
হবে। ভোটের পরিবেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে তৎপর রয়েছে। উল্লেখ্য, যশোরের ৬টি আসনে
মোট ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ৮২৪
ভোট কেন্দের ৪ হাজার ৬৭৯ ভোট কক্ষে ১৪ হাজার ৮৬১ জন ভোট
গ্রহণকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে প্রিজাইডিং
অফিসার ৮২৪, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ৪ হাজার ৬৭৯ ও পোলিং
অফিসার ৯ হাজার ৩৫৮ জন। সবকিছু মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচনকে ঘিরে যশোরে একটি বহুমাত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতা
তৈরি হয়েছে। এখানে দলীয় শক্তির পাশাপাশি ভোটার মনোভাব,
প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং স্থানীয় ইস্যু সবকিছুই ফল নির্ধারণে
প্রভাব ফেলবে। বিশ্লেষকদের মতে, যশোরের ফলাফল শুধু জেলা নয়, জাতীয়
রাজনীতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে। রাজনৈতিক
বিশ্লেষকদের মতে, যশোরে নির্বাচনী প্রস্তুতি মিশ্র প্রতিক্রিয়ার
মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। একদিকে জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা ও
আলোচনার মাত্রা বেড়েছে, অন্যদিকে আস্থা অর্জনের বিষয়টি এখনো
বড় চ্যালেঞ্জ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here