দর্শনার উজলপুরে বিএনপি – জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৫

0
4

মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দর্শনার উজলপুর গ্রামে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ইউনিয়নের উজলপুর গ্রামে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় বিএনপি – জামায়াত সংঘর্ষে অন্তত পাচজন আহত হওয়ার দাবি উঠেছে দুই পক্ষের বক্তব্যে। একই সঙ্গে উভয় দলই একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে উজলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি রাজনৈতিক মিছিলকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, পরে তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাতেই অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করে।
জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তাদের দুই দায়িত্বশীল নেতা হামলার শিকার হয়েছেন। আহতরা হলেন,দর্শনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান (৩২) এবং পৌর শ্রমিক কল্যাণ সেক্রেটারি হাসান তারেক (২৭)। তারা রাতেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
বেগমপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, বিএনপির একটি মিছিল তাদের নির্বাচনী অফিসের সামনে এসে উসকানিমূলক আচরণ করে। তার দাবি, কিছু সমর্থক মদ্যপ অবস্থায় আপত্তিকর আচরণ করছিলেন। আমাদের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়। তিনি আরও বলেন, তাদের অফিসের চেয়ার ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বিএনপির কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য।
দর্শনা থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আসলাম হোসেন বলেন, তার নেতৃত্বে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল চলছিল। এ সময় জামায়াতের অফিস থেকে তাদের কর্মীদের উদ্দেশে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়। তিনি বলেন, আমাদের সমর্থকদের অবমাননাকর ভাষায় সম্বোধন করা হলে প্রতিবাদ জানানো হয়। এরপরই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে আহত তিনজনের নাম জানানো হয়েছে, তারা হলেন মুজিবর রহমান, জুনায়েদ হোসেন ও আশিক। তাদের অভিযোগ, জামায়াতের নেতাকর্মীরাই বিএনপির নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। জামায়াতের অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে আসলাম হোসেন বলেন, বাস্তবতা জানতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেই সত্য স্পষ্ট হবে।চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আল ইমরান জুয়েল বলেন, আনুমানিক রাত ১২টার দিকে মেহেদী হাসান এবং হাসান তারেক নামে দুজন রোগী আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আসেন। এদের মধ্যে একজনের মাথায় এবং অপরজনের বাম চোখের নিচে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। ধারনা করা হচ্ছে শক্ত কাঠ জাতীয় কোন কিছুর দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। রাতেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন।
দর্শনা থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান জানান, দুই দলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতের দুজন ও বিএনপির একজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে জামায়াতের একটি কার্যালয়ে একটি ভাঙা চেয়ার পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
সংঘর্ষের পর উজলপুর গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার রাখা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here