ডুমুরিয়া-ফুলতলার মাটিতে দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের ঠাঁই হবে না- আলি আসগার লবি

0
7

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি,ডুমুরিয়া। খুলনা-৫ এর বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী আলি আসগার লবি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে, আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে, আমাকে আপনাদের সেবক হিসেবে নিযুক্ত করুন। আমি এই মাটিতে দাঁড়িয়ে কথা দিচ্ছি আমি আপনাদের দলমত নির্বিশেষে, সকল সাধারণ শান্তি প্রিয় মানুষের জিম্মাদার হয়ে থাকলাম। আমার জীবন থাকতে এই এলাকার কোন মানুষকে আমি হয়রানি হতে দেবো না। আমি কথা দিচ্ছি, কোন দুর্বৃত্ত, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের ঠাঁই হবে না আমার কাছে। খারাপ মানুষ সে যে দলেরই হোক ডুমুরিয়ার মাটিতে তাকে ভালো হয়েই চলতে হবে। কোন ধরনের জন হয়রানি সহ্য করা হবে না। আপনারা আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন। আপনারা ঠকবেন না। আপনাদের স্বাক্ষী রেখে বলছি, বিএনপির সুযোগ্য চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, বিএনপি করতে হলে ভালো হয়ে চলতে হবে। বিএনপি পরিচয় দিয়ে, কোন সাধারণ মানুষের শান্তি বিনষ্ট করলে বিএনপিতে তার ঠাঁই হবে না।
সোমবার বিকেলে ডুমুরিয়া স্বাধীনতা চত্ত্বরে ধানের শীষ প্রতিকের নির্বাচনী বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খুলনা-৫ এর বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী আলি আসগার লবি একথা বলেন।
খুলনা-৫ বিএনপি প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজের সভাপতিত্ব বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, জেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড: মোমরেজুল ইসলাম, জেলা যুবদলের আহবায়ক ও নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক ইবাদুল হক রুবায়েদ। এছাড়া আলোকিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি ডুমুরিয়া উপজেলা শাখার ছদর মাওঃ মুজিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ডুমুরিয়া উপজেলা শাখা’র সভাপতি মাওঃ উমার আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ডুমুরিয়া উপজেলা শাখা সেক্রেটারী শেখ ওলিয়ার রহমান প্রমুখ।
তিনি উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, ডুমুরিয়া এবং ফুলতলায় দু’টি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, দু’টি সুদর্শন মন্দির এবং দু’টি জেলা মানের স্টেডিয়াম করবো। এলাকার মানুষের জন্য সর্বোচ্চ সরকারি আর্থিক সহায়তা ও অনুদান নিশ্চিত করবো। ডুমুরিয়ায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ও ফুলতলা হাসপাতাল আধুনিকায়নসহ কমিউনিটি হাসপাতাল গড়ে তুলবো। “ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব” কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং প্রতিটি ইউনিয়নে আধুনিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করবো। নারী শিক্ষা ও ঝরে পড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে । বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং দরিদ্র পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবো। সকলের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা” এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ক্রীড়া উন্নয়নে বিএনপির চিন্তাধারার আলোকে ডুমুরিয়ায় একটি আধুনিক মেগা স্টেডিয়াম নির্মাণ করবো। এতে আমাদের তরুণ সমাজ মাদকমুক্ত হয়ে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়াঙ্গনে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। শুধু স্টেডিয়াম নয়, খেলোয়াড়দের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি-ইনশাল্লাহ। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশ ও বিনোদনের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক শিশুপার্ক নির্মাণ করা হবে।” জীবনের শেষ সময়ে আমি আমার পৈত্রিক নিবাস ডুমুরিয়া-ফুলতলাবাসীকে কিছু দিতে চাই। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, ইনশাআল্লাহ আপনাদের জন্য সর্বোচ্চ কাজ করবো।
তিনি বক্তব্যের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরন করে বলেন, বিপ্লবী রাজনীতির চারণভূমি এক সময়ের লাল ডুমুরিয়ায় দাঁড়িয়ে আমি প্রথমেই স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে যারা প্রাণ দিয়েছিলো সেইসব শহীদদের নাম। আমি স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের সময় চুকনগরে হানাদার বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে যে হাজার হাজার নিরীহ হিন্দু মুসলিম সেই সব শহীদদের। আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, যেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি তার অনতি দুরে রাজাকারদের গুলিতে নিহত শহীদ বুদ্ধিজীবী কায়কোবাদ মাষ্টারমশাইয়ের নাম। আমি শ্রদ্ধা ভরে আরো স্মরণ করছি, ডুমুরিয়ার মাটির কৃতি সন্তান, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সিপাহসালার সাবেক মন্ত্রী কর্ণেল গাফ্ফার বীর উত্তম এর নাম। আমি আরো স্মরণ করছি, এই এলাকার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জাতীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী মরহুম জননেতা সালাহউদ্দিন ইউসুফের নাম। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এটাই আমার প্রকাশ্য বক্তব্যের শেষ ভাষণ। তবে আজ আমি কোনও বক্তব্য দেবোনা। ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সদস্য, এডভোকেট মরহুম আলী হাফেজের সন্তান, আলী আসগার লবী এই ডুমুরিয়ার সন্তান হিসেবে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি আপনাদের ভাই হিসেবে। জীবনের তাগিদে ব্যবসার প্রয়োজনে ঢাকা এবং বিদেশে বিদেশে থাকতে হয়েছে অধিকাংশ সময়। আমি কখনো ভাবতে পারিনি, যে মাটিতে আমার পূর্ব পুরুষেরা চিরনিদ্রায় শায়িত, যে ডুমুরিয়ার মাটিতে আমার নাড়ি পোতা, সেই মাটিতে আমাকে ভোট প্রার্থনা করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here