চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে ব্যাপক
শান্তিপূর্ণ ও উৎসব মুখোর পরিবেশে যশোরের চৌগাছায় ত্রয়োদশ জাতীয়
সংসদ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে নারী ভোটারের উপস্থিতি
ছিলো চোখে পড়ার মত। এই নির্বাচনে মানুষ ঈদের আনন্দ উপভোগ
করেছেন। শিশু, নারী, বয়োবৃদদ্ধ মানুষ কেউ কেন্দ্রে যেতে ভুল করেনি। নারী
ভোটাররাই প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে এমনই শোনা গেছে বিভিন্ন
কেন্দ্র ঘুরে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভোট গননা শুরু হয়েছে বলে জানা
গেছে।
সকাল আটটায় চৌগাছা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সরকারী হাইস্কুল
কেন্দ্রে যেয়ে দেখা গেছে মহিলাদের দীর্ঘ লাইন, যার বেশির ভাগই
অধদিবাসি সম্প্রদায়ের নারীরা। খুব সকলেই তারা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন
এবং সাড়ে সাতটা বাজার সাথে সাথে ভোট প্রদান করেছেন। তরুন
ভোটার অরুনা সর্দার বলেন, এবারই প্রথম ভোট দিবো তাই সকাল সকাল
চলে এসেছি। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সামছুন্নাহার বলেন,
ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ভাব দেখা যাচ্ছে এবং উপস্থিতি মনে হচ্ছে
ভালই হবে। ৯ টায় ছারা বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে যেয়ে একই ভাব দেখা যায়।
নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার
আনজুমানআরা বলেন,শান্তিপূর্ণ ভাবে শুরু হয়েছে ভোট। মডেল সরকারী
বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ১০ টায় যেয়ে দেখা যায় নারী ভোটারদের সরব
উপস্থিতি। কেন্দ্র সচিব বজলুর রশিদ জানান, সকাল থেকেই সুষ্ঠু ও সুন্দর
ভাবে ভোট চলছে নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি।
এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলার মাশিলা প্রাইমারী স্কুল কেন্দ্রে,
আড়শিংড়িপুকুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, গদাধরপুর ভোট কেন্দ্র,
আন্দুলিয়া কেন্দ্র, খড়িঞ্চা কেন্দ্র, টেংগুরপুর কেন্দ্র, কংশারীপুর কেন্দ্র, ইছাপুর
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, মাড়ুয়া হাইস্কুল কেন্দ্র, আড়পাড়া
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র,
জগদীশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, মুক্তদাহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
কেন্দ্রসহ একাধিক ভোট কেন্দ্রে ঘুরে ঘুরে দেখা গেছে পুরুষের চেয়ে
নারী ভোটারের সংখ্যায় বেশি। বিকেল ৩টায় মুক্তদাহ কেন্দ্রে যেয়ে দেখা যায়
পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেশি।
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার নুরুজ্জামান বলেন, সকাল থেকেই
শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহন চলছে। উভয় দলের প্রার্থী কর্মী সমার্থক
সকলেই শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহনে সহযোগীতা করছেন। এই কেন্দ্রে
মোট ভোটার হচ্ছে ১৯৩৭, দুপুর ২ টা পর্যন্ত ভোট কাষ্ট হয়েছে ৭২ শতাংশ।
সাড়ে চারটে পর্যন্ত যেহেতু ভোট গ্রহন করা হবে তাই ৮০/৮৫ শতাংশ
ভোট পড়বে বলে তিনি মনে করছেন।
বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে ও সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,
বিগত ১৭ বছরে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবারের সংসদ নির্বাচনে
ভোট দিতে তারা অধির আগ্রহে ছিলেন। বাড়ির গৃহবধুরা সংসারের কাজ
না করেই চলে গেছেন ভোট দিতে। সাথে নিয়েছেন কোলের শিশুকে। ছোট্ট
শিশুটি কেন্দ্রে যেয়ে খেলা উল্লাসে মেতে উঠেছে। অনেকে বলছে এবারের
ভোট তো না মনে হয় ঈদের আনন্দ হচ্ছে।
এ দিকে সকাল ৮ টার দিকে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডাঃ মসলে উদ্দিন
ফরিদ ও বিকেল ৩ টার দিকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবিরা নাজমুল
মুন্নী চৌগছার ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। উভয় প্রার্থী ভোটারদের
উপস্থিতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করার পাশাপাশি জয়ের ব্যাপারেও তারা
আশাবাদি বলে জানান।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আহমদ বলেন,
একটি উৎসব মুখোর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠানে আমরা তৎপর
ছিলাম এবং সফল। সকাল থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন তারা
শান্তিতে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়িতে ফিরেছেন।















