জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান শুরু উচ্ছেদ হচ্ছে বৃহত্তর যশোরের ৪শ’ অবৈধ ইটভাটা অভিযানের প্রথম দিনেই গুড়িয়ে দেওয়া হলো ৯টি

0
794

রুদ্র মিজান : বৃহত্তর যশোর জেলার প্রায় ৪শ’ ‘অবৈধ’ ইটভাটা ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। ধারাবাহিকভাবে এ উচ্ছেদ অভিযান চলবে।
গতকাল রোববার অভিযানের শুরুতে যশোরের নয়টি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চার উপজেলায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
আজ সোমবার যশোরের আরো ১৩টি অবৈধ ইট ভাটা উচ্ছেদ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবেশ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক মো. সৈয়দ আনোয়ার জানান, যশোর জেলায় দুই শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। যার মধ্যে ১৮০টি ইট ভাটাই অবৈধ। এসব ভাটার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। অবৈধ এ ভাটাগুলো পরিবেশ ও বায়ুদূষণ করে চলেছে। সারাদেশের অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের অংশ হিসেবে আজ (রোববার) যশোরে ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোজিনা আক্তারের নেতৃত্বে রোববার সকাল থেকে কেশবপুর, মণিরামপুর, ঝিকরগাছা এবং যশোর সদর উপজেলার নয়টি ইটাভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার ও জেলার ১৩টি ইটভাটা উচ্ছেদ করা হবে। গুঁড়িয়ে দেওয়া ইটভাটাগুলো হলো কেশবপুরের সাতবাড়িয়া এলাকার মেসার্স সুপার ব্রিকস, বেগমপুর বাজার এলাকার মেসার্স রিপন ব্রিকস, মণিরামপুর উপজেলার মেসার্স সরদার ব্রিকস, ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানি এলাকার মেসার্স এলবি ব্রিকস, মেসার্স জনতা ব্রিকস, যশোর সদর উপজেলার মালঞ্চী এলাকার মেসার্স এমবিবিআই ব্রিকস। তিনি আরো বলেন, বাকি অবৈধ ভাটাগুলো পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।
সৈয়দ আনোয়ার আরো জানান, যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতাধীন যশোর, নড়াইল, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলাতেও প্রায় ৪শ’ অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। এ সপ্তাহজুড়ে ওইসব ভাটাতেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। প্রতি জেলায় দু’দিন করে অভিযান চলবে। এভাবে প্রতিমাসে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটাগুলো উচ্ছেদ করা হবে।
এদিকে, নোটিস ছাড়াই ইটভাটা ভেঙে দেওয়ায় ােভ প্রকাশ করেছেন ভাটার মালিক ও শ্রমিকরা।
এলবি ব্রিকসের মালিক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশের কথা বলে কোনো নোটিস ছাড়াই ইটভাটা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমি বলেছিলাম আপনারা সিলগালা করে দেন। আমি ভাটা চালাবো না। কিন্তু তারা ভাটা ভেঙে প্রায় ৪০ লাখ টাকার তি করে গেল। আমার এখানে ৫০০ শ্রমিক কাজ করে। সবাই আম্পানে তিগ্রস্ত পরিবার। এদের কী হবে?’
জনতা ব্রিকসের ম্যানেজার বলেন, ১৯৮৯ সাল থেকে এ ভাটা চলছে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত সকল কাগজপত্র ছিল। ওইসাল থেকে আর লাইসেন্স নবায়ন করেনি কর্তৃপ। বারবার লাইসেন্সের জন্য গেলে বলে এখন বন্ধ আছে। অথচ, সরকারি কর্মকর্তারা এসে ভ্যাট নিয়ে যায়। দুই মাস আগেও পাঁচ লাখ টাকা ভ্যাট দেওয়া হয়েছে। ভ্যাট নিয়ে কোন ভাটা ভাঙা হলো তার কোনো জবাব দিলো না। ভাটার নামে ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে। মানুষের কাছে ৫০ লাখ টাকা পড়ে আছে। এ অবস্থায় ইটভাটা ভেঙে দেওয়ায় সব শেষ হয়ে গেল।
এ ভাটার কয়েকজন শ্রমিক বলেন, তারা অন্য জেলা থেকে কাজ করতে এসেছেন। ভাটা ভেঙে দিয়ে যাওয়ায় এখন তাদের পথে বসা ছাড়া উপায় নেই। মজুরি মিলবে না।
এদিকে পরিবেশবাদীদেও বক্তব্য হচ্ছে, কোন প্রকার লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কিভাবে এসব ইটভাটা বছরের পর বছর ব্যবসা কওে আসছিল। এসব ইটভাটা থেকে প্রতি বছর যে পরিমান কালো ধোয়া নির্গত হয়ে পরিবেশ ও বায়ু দুষিত করছে তার ক্ষতিপূরণ কে দিবে। তাদেও বক্তব্য হচ্ছে এভাবে অবৈধ পন্থায় যে সব ভাটা পরিচালিত হয়ে আসছিল সে গুলো শুধু ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলেই হবে না। এসব অবৈধ ইট ভাটার মালিকদেও মোটা অংকের অর্থদন্ড কওে তা পরিবেশ রক্ষায় ব্যয় করার উদ্যোগ নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here