মালেকুজ্জামান কাকা, যশোর : শতবর্ষী এক বৃদ্ধ। নাম তার শমছের আলী খান। তিনি হলেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার প্রস্তাবিত থানা রাজগঞ্জের ১১ নম্বর চালুয়াহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ন আহ্বায়ক ও সাবেক মেম্বার আমজাদ আলী খানের পিতা শমসের আলী খান। লোকে ভালোবেসে বলে শমছের ডাক্তার। শমছের ফকির, শমছের গুরু নামেও স্থানীয়রা তাকে আদর করে ডেকে থাকেন। তিনি রাজগঞ্জের মোবারকপুর গ্রামের একটি সাধারণ পরিবারে বাংলা ১৩৩৭ ইংরেজী ১৯৭৩ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম ইয়ার আলী খান ও দাদা মরহুম হোসেন আলী খান। এই সাধারণ পরিবারের মাঝে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠা শমসের আলী খান মোবারকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাংলা ১৩৪৮ সালে পঞ্চম শ্রেণি শেষ করার পর নেংগুড়হাট মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। সেখানে বেশিদিন লেখাপড়া করতে পারেননি। অষ্টম শ্রেণী শেষ করে আর পড়া লেখা হয়নি তার। এরপর সংসার জীবনের হাল ধরতে হয় তাকে। শমসের আলী খানের পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে। এদের মধ্যে সেজ ছেলে আশরাফ আলী কে হাফেজ বানিয়েছেন। নোয়া ছেলে আমজাদ আলী খানকে জনসেবার কাজে সম্পৃক্ত করেছেন। আমজাদ আলী খান স্কুল জীবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে মনে প্রানে ভালবেশে তার কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েন। নিঃস্বার্থে ও নি:লোভজন হয়ে দলের জন্য কাজ করতেন তিনি। পুত্র আমজাদ দলের জন্য কঠোর ভূমিকা নিয়ে জামাত-বিএনপিকে হটিয়ে দিয়েছিলেন। একারনে ২০০১ সালে জামাত বিএনপি সরকার মতায় এলে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় তাকে জড়ায়। ফলে তিনি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। পরে বাবার পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে মামলা চালাতে চালাতে তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন সাবেক মেম্বার আমজাদ আলী খান। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই এসময় তিনি বাজারে চায়ের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তারপরও পিছিয়ে নেই তিনি। আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে ধরে রাখতে নিজের চায়ের দোকানের পিছনে অস্থায়ী অফিস করে রেখেছেন। যেখানে প্রতিনিয়ত চালুয়াহাটি ইউনিয়ন ছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা এসে বসাউঠা করে থাকেন। চা বিক্রি করেও যতটুকু পারেন ওই অফিসের পিছনে কমবেশি খরচ করে থাকেন।
পিতার ছায়ায় পুত্র আমজাদ আলী খান বিগত পাঁচ বছর ধরে ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হয়ে জনসভা করেছেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ন-আহবায়ক। আগামী ইউপি নির্বাচনে সাবেক মেম্বার আমজাদ আলী খান ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে আবারো জনসেবায় ফিরতে চান বলে জানান। তার পিতা বয়োবৃদ্ধ শমসের আলী খান সমাজ সামাজিকতাসহ মানুসের উপকার করা ছিল তার অভ্যাস। ধর্মের প্রতি অঘাত বিশ্বাস ছিল তার। তিনি গ্রামে একটি ফুরকানী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মোবারকপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসারাও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। রাজগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠায় তার বিশেষ অবদান রয়েছে। নিজ বাড়ির সীমানায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বয়সের কারণে বর্তমানে তিনি ইমামতি ছেড়ে দিয়েছেন। এখন তার ছেলে আশরাফ আলী খান মসজিদের ইমামতি করেন। শমসের আলী খান প্রায় ৪০ বছর ধরে নিজ বাড়িতে ইছালে সওয়াব করে আসছেন। ছোট পরিসরে হলেও এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। ১৯৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে গ্রামের ষষ্টি রায় নামক এক ব্যক্তি তার সকল সম্পদের কাগজ পত্র রেখে যান শমছের আলীর কাছে। তারা দেশে ফিরে আশা মাত্রই সকল কাগজ পত্র তাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েও সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। বুঝে ওঠার বয়স থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তিনি নামাজ কাজা করেননি বলে মতামত রয়েছে। সেই শমসের আলী খান বাংলা ১৩৬৮ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নিয়মিত রোজা রেখে আসছেন। সেই থেকে তিনি কোন দিন দিনের বেলায় কোন খাদ্য খাবার পান করেন নি। এমন কি প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে তিনি চাউলের ভাত খাননি। আটার রুটি সহ অন্যান্য খাবার খান তিনি। প্রায় শত বছর বয়স হতে গেলেও তিনি তার নামে বয়স্ক ভাতা কার্ড করতে দেননি। বিভিন্ন প্রকার জন সেবামূলক কাজ করায় তার ছিল প্রধান ল্য। যুবক দশা থেকেই শিশুদের পাঠদান করানো, ধর্মীয় জ্ঞান প্রদান করা ছিল তার অভ্যাস। জনসেবা করতে আল্লাহর কালামে ঝাড়ফুক করা, চিকিৎসা সেবা করতেন তিনি। বর্তমানে বয়োবৃদ্ধ শমছের আলী খান ঠিকমত চলাফেরা করতে না পারলেও নিজ হাতে তৈরী করা মসজিদের পাশে একটি কুড়ে ঘরে বসে জনগণের চিকিৎসা সেবা করে যাচ্ছেন। এ সকল নানা কারনে এলাকার মানুষের কাছে অতি প্রিয়জন তিনি। এলাকার লোকজন শমসের আলীকে সুফি সাহেব, মুন্সী সাহেব, হেকিম, কবিরাজ, ডাক্তার ও মাস্টার বলে ডাকেন।















