মালেকুজ্জামান কাকা, যশোর : একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা, মামলার প্রেক্ষাপট ও তদন্তকারী কর্মকর্তার কর্মকান্ড নিয়ে যশোরে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। মামলার বাদি, বাদির স্ত্রী ও তদন্ত কর্মকর্তার যোগসাজশে একজন নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামীলীগ কর্মীকে এই মামলায় ফাসানোর অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে মামলায় ফাঁসানোর কারনে আসামি পক্ষের জনজীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠী দৌলতদিহির ঘটনা এটি।
ঘটনার বিবরনে জানা যায়, ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মোস্তফা এহতেশামুল বারী ওরফে খোকন। তার নিজ বাড়ি দৌলতদিহির মৃত লিয়াকত আলী মন্ডলের পুত্র আমিরুল ইসলাম মন্ডলকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী/২০০৩) এর ১০ ধারায় যৌনপীড়ন করার অপরাধ ইস্যুতে ২০২০ সালের ২৫ আগষ্ট ঘটনার দিন উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। মামলা নং ৬৯/৬৬৬, তারিখ ২৬/০৮/২০২০ ইং। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন, যশোর কোতয়ালী মডেল থানার এস আই (নি: ) মো: মাইনুল আসহান কবির, বিপি- ৭৪৯২১০৪৩৯৩। মামলায় ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে সকাল ১০ টা। বাদি এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তার কন্যা মিশকাতুম মুনিরা তুবা (৮) আরবপুর তানজিমুল উম্মা ক্যাডেট মাদ্রাসায় ২য় শ্রেনির ছাত্রী। ঘটনার দিন তুবা আসামির দোকানে যায়। আসামি তাকে কোলে বসিয়ে আদর করা অবস্থায় বাদির স্ত্রী সোনিয়া ইসলাম তার কোল থেকে টানিয়া ছাড়াইয়া আনে। এই মামলার স্বাক্ষীরা হলেন, ১. বাদি নিজে। ২. সোনিয়া ইসলাম (৩০), স্বামী মোস্তফা এহতেশামুল বারী খোকন ৩. মোস্তফা এজাজুল বারী (৪২), পিতা-মৃত সাখাওয়াত হোসাইন তরফদার, ৪. সেলিম রেজা (৪২), পিতা-শহিদুল ইসলাম ৫. রেজাউল ইসলাম (৪৫), পিতা- মৃত গোলাম তরফদার, ৬. রফিউদ্দিন তরফদার (৬২), পিতা- মৃত মোকছেদ আলী তরফদার ৭. জয়নাল আবেদীন (৪২), পিতা- মৃত মেছের আলী তরফদার ৮. ভিকটিম মিশকাতুম মুনিরা তুবা, সর্ব সাং দৌলতদিহি, সর্ব থানা- কোতয়ালী, জেলা- যশোর ৯. শম্পা বসু সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর ১০ আরও শেখ তাসনীম আলম, অফিসার ইনচার্জ কোতয়ালী মডেল থানা, যশোর ও ১১. মো: মাইনুল আহসান কবির তদন্তকারী কর্মকর্তা। জানা গেছে, ঘটনার দিন আসামির পুত্র রায়হান ঘরে ছিল। তার কন্যা তুলনা আক্তার পুতুল বারান্দায় বসে ছিল। আসামির স্ত্রী কামরুন নাহার কনক দোকান এলাকার গোয়ালঘর ও উঠান পরিষ্কার করছিল। দোকান থেকে চকলেট দিয়ে দোকান তালা মেরে তুবা কে কোলে করে রাস্তায় আসতেই তুবার মায়ের সাথে দেখা। তুবার মা বলে এই তুই আমার মেয়েকে কোলে নিয়েছিস ক্যান। সেখানে আসামি ও বাদির স্ত্রীর সাথে তুমুল ঝগড়া হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ঝগড়া সেখানেই থেমে যায়। ২৭/০৮/২০২০ তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির বাড়ি যান। তাকে বলেন তোমার নামে মামলা আছে চলো থানায় যেতে হবে। তবে তিনি তখনো কোন মামলার ওয়ারেন্ট দেখাননি। তিনি আমিরুল ইসলাম মন্ডল কে আটক করে বাদির বাড়ির সামনে নিয়ে যান। এসময় ব্যাংকারের স্ত্রী সোনিয়া পায়ের জুতা খুলে আসামিকে দারোগার সামনে মারধোর করে। স্থানীয় সিদ্দিকের স্ত্রী, শাহীনের স্ত্রী, জাহিদুলের স্ত্রীসহ অনেকেই ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে। ঘটনাস্থলে কারিগর পাড়ার অনেক নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। দারোগা স্থানীয় বিজয়নগরের মহিলা মেম্বর লিপিকে গালিগালাজ করেন। দারোগা প্রকাশ্যেই অর্থ দাবি করে সেসময়। দারোগা মামলার আসামিকে নিয়ে বাদির পরিবারে যাওয়ার কোন রেওয়াজ বা প্রথা আছে কিনা গ্রামবাসি তা জানতে চায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, আগে থেকেই বাদি ও আসামির মধ্যে ঝগড়া চলে আসছে। মামলার ৫/৬ মাস পূর্বে আসামির একটি ছাগল আটকায় বাদির স্ত্রী সোনিয়া। আসামির ছেলে রায়হান ছাগল ছাড়াতে গেলে তাকে দড়ি দিয়ে গেটে বেঁধে রাখে। তখন আমিরুল ইসলাম ছেলেকে ছাড়াতে যায়। বাদির ভাই এজাজুল বারী বল্টুর সাথে হাতাহাতি হয়। আমিরুলের ছোট চাচা আইয়ুব, রেজাউল দারোগা, আমিরুলের চাচা হাদু, সালামত এ ঘটনার স্বাক্ষী। আমিরুলের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, আমিরুল কে না জানিয়ে তার পুত্র রায়হান কে দুই বছর আগে ৫০,০০০ টাকা ঋন দেয় সোনিয়া ও তার স্বামী। এখনো ১০/১২ হাজার টাকা কিস্তি বকেয়া রয়েছে। গৃহকর্তা আমিরুলকে না জানিয়ে কেন তার পুত্র রায়হানকে ঋন দেওয়া হলো এ নিয়েও উভয়ের ঝগড়া হয়েছে। গ্রামবাসি অভিযোগ করেছেন, কোন ব্যাংকার ব্যাংকের বাইরে ঋন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন কিনা। স্ট্যাম্প চেক নিয়ে টাকা ঋন দেয় ব্যাংকারমোস্তফা এহতেশামুল বারী খোকন ও তার স্ত্রী সোনিয়া। গোয়েন্দারা গ্রামে একটু খোজ খবর নিলেই বিষয়টি জানতে পারবেন। অভিযোগ রয়েছে এই মামলার বাদি ব্যাংকার হলেও নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সেক্ষেত্রে তার আর্থিক লেনদেন জঙ্গী খাতে হয় বলেও গ্রামবাসি দাবি করেছেন। গ্রামবাসি দাবি করেছেন, আমিরুল ইসলাম নিরীহ আওয়ামী লীগ কর্মী। তাকে ফাঁসাতেই ব্যাংকার, তার স্ত্রী সোনিয়া ও দারোগার যোগসাজশে মামলাটি হয়েছে। কেননা আমিরুল কে বাড়ি থেকে আটকের পরদিন থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। তদন্ত করলেই মামলার থলের বিড়াল বেরিয়ে যাবে বলে মানুষজন মনে করে। তাছাড়া মামলার বাদি ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তাছাড়া ৭নং স্বাক্ষী জয়নাল আবেদীন আদালতে মিথ্যা স্বাক্ষী দেবেনা বলে সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এমনকি কোন মেডিকেল রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়নি। সব কিছু মিলিয়ে তুবার যৌন হয়রানি মামলাটি উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে করা হয়েছে বলে দৌলতদিহী গ্রামবাসী মনে করেন। তারা এই মামলার উচ্চতর তদন্ত দাবি করেছেন।














