খাস জমিতে নিয়ম উপেক্ষা করে বাড়ি-দোকানপাট নির্মাণ করায় লোহাগড়ায় নির্মাণ করা যাচ্ছেনা বহুতল সরকারি মার্কেট

0
293

রাজিয়া সুলতানা,লোহাগড়া(পৌর)প্রতিনিধি : সরকারি জমি বন্দোবস্ত নিয়ে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে বাড়িসহ দোকানপাট নির্মাণ করায় নির্মাণ করা যাচ্ছেনা চারতলা বিশিষ্ট সরকারি মার্কেট। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকার তথা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ। ঘটনাটি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চারতলা বিশিষ্ট সরকারি মার্কেট নির্মাণের জন্যে ২০১৮ সালে শুরুতে দিঘলিয়া ইউনিয়র পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ লতিফুর রহমান পলাশ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে আবেদন করেন। এরপর চেয়ারম্যান মোঃ লতিফুর রহমান পলাশ দুর্বৃত্তদের গুলিতে ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্মমভাবে খুন হন। পরবর্তীতে মার্কেট নির্মাণ প্রকল্পের হাল ধরেন প্রয়াত চেয়ারম্যানের স্ত্রী বর্তমান চেয়ারম্যান নীনা ইয়াসমিন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর নড়াইলের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ২ কোটি ৭২ লক্ষ টাকার চারতলা বিশিষ্ট মার্কেট ভবণ নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন করে। কিন্তু প্রায় ছয় বছর আগে ১২০ নং দিঘলিয়া মৌজার এসএ ১৭২৯ নং দাগের ২ শতক এবং ১৭৩০ নং দাগের ৩ শতকসহ মোট ৫শতক জমি দিঘলিয়া গ্রামের মোঃ মান্দার আলীর ছেলে মোঃ সহিদুর রহমান ও তার স্ত্রী আয়শা খানম চাষাবাদ করবার শর্তে কৃষি খাস জমি হিসাবে সরকারের নিকট থেকে বন্দোবস্ত নেন। বন্দোবস্ত নেবার পর মোঃ সহিদুর রহমান ও তার স্ত্রী ওই জমির উপর আধাপাঁকা বসতঘর সহ একাধীক দোকানপাট নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করছেন। নবগঙ্গা নদী সংলগ্ন ওই দুটি দাগে ১৫ শতক জমি মূলত দিঘলিয়া হাট-বাজারের পেরিফেরিভূক্ত জমি। গত বছর ৪ জুন লোহাগড়ার সহকারী কমিশনার(ভূমি)রাখী ব্যানার্জী উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট মার্কেট নির্মাণের পক্ষে প্রতিবেদন দেন। সরকারি মার্কেট নির্মাণের স্বার্থে দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নীনা ইয়াসমিনসহ ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা নড়াইলের জেলা প্রশাসকের কাছে অনুমোদিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নিমিত্তে মোঃ সহিদুর রহমান ও তার স্ত্রী আয়শা খানম এর ৩১/ীরর/২০০৮ নম্বর বন্দোবস্ত বাতিলের আবেদন করেন। পরবর্তীতে নড়াইলের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর শাহীনা নাছরিন গত বছর ২৭ ডিসেম্বর সরেজমিন তদন্তপূর্বক মতামত সংবলিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য লোহাগড়ার সহকারী কমিশনার(ভূমি)কে আদেশ দেন। ৫ শতক জমি বন্দোবস্ত নেয়া মোঃ সহিদুর রহমান ও তার স্ত্রীর সদিচ্ছার অভাব এবং সরকারি অফিসে ফাইল চালাচালিতে সময় পার হয়ে যাওয়ায় কার্যত মার্কেটের নির্মাণ কাজ শুরু করা যাচ্ছেনা বলে সূত্র জানায়। ফলে অনিশ্চয়তায় পড়েছে চারতলা বিশিষ্ট মার্কেট ভবণ নির্মাণ কাজ। দিঘলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ বাজারের একাধীক ব্যবসায়ী জানান, সহিদুর রহমান ও তার স্ত্রী একেক সময় একেক কথা বলছেন। তারাই এখন মার্কেট নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। দিঘলিয়া ইউনিয়নবাসী ও সরকারের স্বার্থে দ্রুত মার্কেটের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়া উচিৎ। মোঃ সহিদুর রহমানের স্ত্রী আয়শা খানম বলেন, আমরা সরকারি মার্কেট করবার পক্ষে। আমাদের অন্য ভাল কোথাও খাস জমি দিলে এখান থেকে সরে যাবো। মার্কেট নির্মাণের পর আমাদের নামে দুটি দোকানঘর বরাদ্দ দেবার অনুরোধ জানাচ্ছি সরকারের কাছে । লোহাগড়ার সহকারী কমিশনার(ভূমি) রাখী ব্যানার্জী এ বিষয়ে বলেন, খাস জমি বন্দোবস্ত নিয়ে আইন অমান্য করে ঘরবাড়ি-দোকানপাট নির্মাণ করে ভোগ-দখলের অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here