সাতক্ষীরার ধুলিহর ও ব্রহ্মরাজপুরে মহামারী আকার ধারন করেছে গরুর ক্ষুরা রোগ

0
344

জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা : দেশের অন্য জেলার মতো সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে মহামারী আকার ধারণ করেছে গরুর ুরা রোগ। গত মাস থেকে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে একাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভাসহ উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের বিভিন্ন খামার ও কৃষকের হাজার হাজার গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রাণি সম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুসারে চিকিৎসা দেওয়ার পরেও রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের ডাক্তার জয়দেব কুমার শিং জানান, এই উপজেলায় দুগ্ধ গাভী ও ষাঁড়ের মোটাতাজাকরণ প্রায় ১৭৮ টি খামার আছে। এসব খামারে ১হাজার ৬ শত ৭২ টির মতো গরু রয়েছে। খামারী ও সাধারণ মিলে গরু আছে ১ লক্ষ ৬০ হাজারের বেশি। কিন্তু ভ্যাকসিন আছে ৪ হাজার । তাহলে আমি কিভাবে পর্যাপ্ত চাহিদা মিটাবো। তাছাড়া ভারতের গরু আসার কারণে এই রোগটি বেশি দেখা দিয়েছে। এ রোগের ভাল কোন চিকিৎসা নেই। বিশেষ করে বাচুর গরুর জন্য এই রোগটি খুবই মারাত্মক। এ ছাড়াও প্রায় সব কৃষকের বাড়িতেই গরু রয়েছে। এরমধ্যে সিংহভাগ গরুই কম-বেশি ুরা রোগে আক্রান্ত হয়। তারা দাবি করেন, প্রাণি সম্পদ দপ্তর থেকে সময়মত পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে এই রোগটি এখন নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ধুলিহর ইউনিয়নের মৃত আবুল কাশেম উরফে বাচা মুহুরীর পুত্র মোঃ আনারউদ্দীন জানান, বিগত এক মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তার ও তার ভাইপো মুরাদ হোসেনের খামারের সব গরুই ুরা রোগে আক্রান্ত হয়। এখনো সেগুলোর চিকিৎসা চলছে। তিনি দাবি করেন প্রাণি সম্পদ অফিস থেকে চিকিৎসা সেবা দেওয়াতো দূরের কথা পরামর্শ দেওয়ারও মতো কোন সহায়তা পাচ্ছেনা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকার প্রায় সব খামার ও কৃষকের বাড়ির গরুর মধ্যে এই রোগ দেখা দিয়েছে। ধীরে ধীরে এই রোগ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। গত ২০ দিনের মধ্যে আশপাশের গ্রামে ১০টির অধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ব্রহ্মরাজপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তির মূল্যবান গরু মারা গেছে। রোগটি মহামারি আকার ধারণ করায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তারা। কেননা অধিকাংশ খামারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চড়া সুদে লোন তুলে ও কৃষকরা বিভিন্ন এনিজিও ও অত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে স্বল্প সময়ের জন্য ধার নিয়ে এই গরু চাষ করে থাকে। এখন তাদে মাথায় হাত। কি হবে তাদের উপায়। এছাড়া তাদের আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা ব্যয় বেশি হওয়ায় আর্থিক ভাবেও তিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। প্রাণি সম্পদ দপ্তরের প থেকে কোনো চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here