মনিরামপুরে ২৫ মুক্তিযোদ্ধার ১৬ জনকে বৈধ হিসেবে গন্য

0
273

মালেকুজ্জামান কাকা,যশোর : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ২৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার তথ্য প্রমান যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে ১৬ জনকে বৈধ হিসেবে গন্য করেছেন। পাঁচ জনের প্রমাণপত্র না মঞ্জুর হয়েছে। একজনের ব্যাপারে কমিটি দ্বিধা-বিভক্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তিন জনকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। উপজেলা কমিটি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপরে নিকট জমা দিয়েছেন। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রোকনুজ্জামান জানান, মণিরামপুর উপজেলায় মোট ২৯০ জন ভাতা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। এরমধ্যে বৈধ প্রমান পত্রে ত্রুটির জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় ২৫ জনের একটি তালিকা করেন। সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করতে সরকার চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। মিটির সভাপতি নিযুক্ত হন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত মুক্তিযোদ্ধা এমএম নজরুল ইসলাম। পদাধিকার বলে সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান। অপর দুইজন সদস্য হলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্যরে মনোনীত মুক্তিযোদ্ধা এমএ সামাদ এবং জেলা প্রশাসকের মনোনীত মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রসুল। কমিটির কাছে ২৫ জনের ওই তালিকা প্রেরণ করা হয় যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে। অবশ্য ২৫ জনের এ তালিকায় যাদের নাম গেজেট, লালমুক্তিবার্তা অথবা ভারতীয় সেক্টরে তালিকাভূক্ত রয়েছে সেইসব ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাইয়ের আওতাবহির্ভূত রাখার নির্দেশনা রয়েছে মন্ত্রণালয়ের। ২৫ জনের মধ্যে এমন নয়জনকে নোটিশ প্রদান করা হয়নি। এরা হলেন জালঝাড়া গ্রামের মরহুম ডা. নওশের আলী, হানুয়ার গ্রামের মরহুম আবদুল আজিজ সরদার, পারখাজুরা গ্রামের মরহুম ডা. ফজলুল রহমান, বাজেকুলটিয়া গ্রামের ঠাকুর দাস বৈরাগী, মহাদেবপুর গ্রামের আবদুর গফুর, ঝাঁপা গ্রামের নেছার আলী, তাজপুর গ্রামের আবু দাউদ, পাঁচপোতা গ্রামের আবদুল আজিজ এবং বাহাদুরপুর গ্রামের হরপ্রসাদ ব্যানার্জী। াকী ১৬ জনকে নোটিশ করা হয় বৈধ প্রমানপত্রসহ ৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত শুনানীতে উপস্থিত হতে। এরমধ্যে অনুপস্থিত থাকায় তিনজনের প্রমানপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়নি। এরা হলেন খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার কোলা নোয়াগ্রামের আবদুল হালিম সরদার, সরদার গোলাম কিবরিয়া এবং যশোর পোষ্টঅফিস পাড়ার মোস্তাফিজুর রহমান। পজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি এমএম নজরুল ইসলাম জানান, যাচাই-বাছাই করে প্রমানপত্র সঠিক থাকা এবং উপস্থিত অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের স্বােিত কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সাতজনের প্রমানপত্র বৈধ (প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা) হিসেবে গণ্য করা হয়। এরা হলেন, মণিরামপুর উপজেলার হাটাগাছা গ্রামের সুব্রত কুমর বৈরাগী, খালিয়া গ্রামের আবদুস সাত্তার, এড়েন্দা গ্রামের আহম্মদ আলী, বড়চেতলা গ্রামের আবদুল মজিদ মোড়ল, পৌরশহরের কামালপুরের ইসমাইল হোসেন, হাকোবার নারায়ন চন্দ্র সরকার এবং গাংড়ার সামছুর রহমান। অন্যদিকে বৈধপ্রমানপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচজনকে না মঞ্জুর করা অর্থাৎ অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এরা হলেন ভবানীপুর গ্রামের পুরঞ্জয় কুমার, হানুয়ার গ্রামের ছবেদ আলী, দিঘীরপাড় গ্রামের ইদ্রিস আলী, গোবিন্দপুর গ্রামের সামছুল আলম এবং পৌরশহরের হাকোবা এলাকার চিত্তরঞ্জন ভদ্র। এছাড়া ডুমুরখালি গ্রামের নুরুল ইসলামের প্রদর্শিত প্রমানপত্রের সত্যতা নিয়ে চার সদস্যের কমিটির দুইজন সম্মত (প)ে হলেও অপর দুইজন অসম্মতি (বিপ)ে প্রকাশ করেন। ফলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নুরুল ইসলামের েেত্র দ্বিধাবিভক্ত উল্লেখ করা হয়েছে। আর এসব বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, চার সদস্যের কমিটির স্বারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। যা ২৬ মার্চ সরকার প্রকাশ করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here