মালেকুজজামান কাকা, যশোর : যশোর পৌরসভা নির্বাচনে জামানত বাতিল হয়েছে ২৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর। এদের মধ্যে সংরতি ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন পাঁচজন। বাকি ২১ জন সাধারণ ওয়ার্ডের প্রার্থী। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, যেসব প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তার জামানত রা করতে কাস্টিং ভোটের আট ভাগের এক ভাগ পেতে হবে। যারা এই পরিমাণ ভোট না পাবেন তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত যশোর পৌরসভা নির্বাচনে মোট ৬৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে মেয়র প্রার্থী তিনজন, সংরতি ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর ১৩ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন ৪৭ জন। যদিও একজন মেয়র প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেন। একইসাথে দু’জন কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৫৩ হাজার ৯৬ ভোট পড়ে। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী মেয়র পদে জামানত রায় প্রত্যেকের কমপে ছয় হাজার পাঁচশ’ ৯৮ ভোট পেতে হবে। সেই অনুযায়ী কারও জামানত বাতিল হচ্ছে না। কাউন্সিলরদের মধ্যে সংরতি নারী ওয়ার্ডের এক নম্বরে ভোট পড়ে ১৬,৭৩১। সেই অনুযায়ী, জামানত রা করতে হলে প্রত্যেক প্রার্থীকে কমপে ২০৯১ ভোট পেতে হবে। কিন্তু, এই ওয়ার্ডে পাঁচজন নারী কাউন্সিলর প্রার্থী পর্যাপ্ত ভোট পাননি। এ কারণে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে তারা হলেন, মোছা. সেলিনা খাতুন (জবা ফুল, প্রাপ্ত ভোট ৪২৪), রুমা আক্তার (অটো রিকশা, প্রাপ্ত ভোট ৯৭৬), রোকেয়া বেগম (টেলিফোন, প্রাপ্ত ভোট ৯৪২), সান-ই-শাকিলা আফরোজ (আনারস, প্রাপ্ত ভোট ১৭৯৭) ও সুফিয়া বেগম (বলপেন, প্রাপ্ত ভোট ১৪০৮)। কাউন্সিলর পদে দুই নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডে মোট ভোট পড়ে ৪,৫০৬টি। বিধি অনুযায়ী, এই ওয়ার্ডের প্রার্থীদের কমপে ৫৬৪ ভোট পেতে হবে। কিন্তু চারজন কাউন্সিলর প্রার্থী বিধি অনুযায়ী ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। তারা হলেন, অনুব্রত সাহা (ব্রিজ, প্রাপ্ত ভোট ১৫৫), তপন কুমার ঘোষ (টেবিল ল্যাম্প, প্রাপ্ত ভোট ৪৬৭), ওসমানুজ্জামান চৌধুরী (গাজর, প্রাপ্ত ভোট ২৩১) ও জাহিদুল ইসলাম (উটপাখি, প্রাপ্ত ভোট ৪৮০)। তিন নম্বর ওয়ার্ডে ভোট পড়ে ৩,৬৭০টি। এ অনুযায়ী প্রত্যেক প্রার্থীকে কমপে ৪৫৯ ভোট পেলে জামানত রা পাওয়ার কথা। দুইজন প্রার্থী সমসংখ্যক ভোট না পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন উম্মে মাকসুদা মাসু (টেবিল ল্যাম্প, প্রতীকে ৩১৮) এবং ওমর ফারুক (ডালিম প্রতীকে ৪৩ ভোট)। চার নম্বর ওয়ার্ডে ভোট পড়েছে ছয় হাজার ১৬৫। বিধি অনুযায়ী, জামানত বাঁচাতে এই ওয়ার্ডের প্রত্যেক প্রার্থীকে কমপে ৭৭১ ভোট পেতে হবে। কিন্তু মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন উটপাখি মার্কায় ১২১ ভোট পাওয়ায় জামানত হারাবেন তিনি। তবে, মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন নির্বাচনের আগে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তাকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান। পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে ভোট পড়েছে ৬,০৪৭টি। এখানকার প্রার্থীরা কমপে ৭৫৬ ভোট পেলে জামানত রা পাবেন। চারজন প্রার্থী তা পাননি। এ কারণে জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে তাদের। যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে তারা হলেন, মোকছেদুর রহমান ভুট্টো (ব্রিজ, প্রাপ্ত ভোট ৫৭৮), মিজানুর রহমান বাবলু (পানির বোতল, প্রাপ্ত ভোট ২৪৩) হাবিবুর রহমান চাকলাদার টেবিল ল্যাম্প, প্রাপ্ত ভোট ২৯৫) ও শরীফ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ (ডালিম, প্রাপ্ত ভোট ৩৮৭)। ছয় নম্বর ওয়ার্ডে মোট কাস্টিং ভোটের সংখ্যা ৫,২৫৩। বিধি অনুযায়ী এই ওয়ার্ডের প্রত্যেক প্রার্থীকে কমপে ছয়শ’ ৫৭ ভোট পেতে হবে। কিন্তু আশরাফুল হাসান (উটপাখি, প্রাপ্ত ভোট তিনশ’ ৯৪) ও মো. আনিসুজ্জামান (ব্রিজ প্রতীকে মাত্র ৯৫ ভোট) পর্যাপ্ত ভোট না পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন। সাত নম্বর ওয়ার্ডে ভোট পড়েছে সাত হাজার সাত। সেই অনুযায়ী জামানত বাঁচাতে প্রত্যেক প্রার্থীর কমপে আটশ’ ৭৬ ভোট করে পাওয়ার কথা। কিন্তু আবু শাহজালাল (ডালিম, প্রাপ্ত ভোট ৫২৮) ও শামসুদ্দিন বাবু (পাঞ্জাবি, প্রাপ্ত ভোট ৩৮৯) সে ভোট না পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন। আট নম্বর ওয়ার্ডে ৫,১৯৮ ভোট পড়ায় প্রার্থীর জামানত বাঁচাতে ভোট পেতে হবে কমপে ৬৫০টি। তা না পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছে ওবাইদুল ইসলাম রাকিব (টেবিল ল্যাম্প, প্রাপ্ত ভোট ৫৯৭)। নয় নম্বর ওয়ার্ডে ৬,৬৯৫ পড়ায় জামানত বাঁচাতে একজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে কমপে ৮৩৭টি ভোট পেতে হবে। কিন্তু এই ওয়ার্ডে সর্বাধিক ছয়জন প্রার্থী সেই পরিমাণ ভোট পাননি। ফলে, তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে তারা হলেন, খন্দকার মারুফ হুসাইন (গাজর, প্রাপ্ত ভোট ৫৯৪), আবু বক্কর সিদ্দিক (ব্লাকবোর্ড, প্রাপ্ত ভোট ২৬১), শেখ শহিদ (পাঞ্জাবি, প্রাপ্ত ভোট ১১০), শেখ নাসিম উদ্দিন পলাশ (ডালিম, প্রাপ্ত ভোট ৬১), শেখ ফেরদৌস ওয়াহিদ (টেবিল ল্যাম্প, প্রাপ্ত ভোট ৭৫৮) এবং স্বপন কুমার ধর (উটপাখি, প্রাপ্ত ভোট ১৯৭)। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, মেয়র পদে ৩০ হাজার টাকা এবং সংরতি ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে পাঁচ হাজার টাকা করে জামানত গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় ট্রাইব্যুনালে খোঁজ নেবে কোনো মামলা হয়েছে কিনা। যদি মামলা না হয়ে থাকে তাহলে সেই প্রার্থীর জামানত ফেরত দেয়া হবে। তবে, জামানত ফেরত দিতে একমাসের মতো সময় লাগতে পারে বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং অফিসার আব্দুর রশিদ বলেন, গেজেট হওয়ার মাস খানিক পরে বিধি অনুযায়ী জামানতের টাকা ফেরত পেতে পারেন পরাজিত প্রার্থীরা।
আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়ন বিএনপির...
স্টাফ রিপোর্টার ।। জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী, আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় যশোর সদর...
দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে যশোরে নাগরিক সমাজের মানববন্ধন
যশোর অফিস : দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিরোধ ও বিচারের দাবিতে যশোরে মানববন্ধন করেছে নাগরিক সমাজ।
সোমবার বেলা...
বেনাপোল স্থলবন্দরে অধিকাল ভাতা বন্ধ, কর্মচারীদের ব্যানার টানিয়ে প্রতিবাদ
যশোর অফিস : যশোর জেলার বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত কর্মচারীদের সরকার নির্ধারিত অফিস সময়ের পর অতিরিক্ত কাজের বিপরীতে প্রাপ্য অধিকাল ভাতা বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ...
মিথ্যা মামলায় ব্যবসায়ী আটকের অভিযোগে যশোরে সংবাদ সম্মেলন
যশোর অফিস : ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় বড় ভাইকে আটক করার অভিযোগ তুলে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাঘারপাড়া উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল...
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর সদর উপজেলা পরিষদে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা...
স্টাফ রিপোর্টার : সোমবার সকাল ১১টায় যশোর সদর উপজেলা প্রশাসনের
উদ্যোগে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন
শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে...














