যশোরের ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বাইরে রেখেই গুগল মিট চালু

0
393

ডি এইচ দিলসান : করোনা মহামারীর কারণে ১৫ মাস বন্ধ সবধরণের শিা প্রতিষ্ঠান। যার কারনে প্রায় ২ কোটি শিশু আরিক অর্থে পড়াশোনার বাইরে রয়েছে। যদিও সময়ে প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয় রেডিও-টেলিভিশনে পাঠ কার্যক্রম চালিয়েছে। তবে এ কার্যক্রমে সাড়া মেলেনি বলে খোদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিকরাই জানিয়েছেন। এ অবস্থা থেকে কিছুটা পরিত্রানের জন্য এবার চালু হয়েছে “গুগল মিট” কাস। এক জরিপে দেখো গেছে যশোর জেলার মাত্র ২৬% শিক্ষার্থীর অবিভাবকরা স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন অভিভাবক আছে ১২-১৫%। হতাশার মধ্যে শুখকর হলে এ অবস্থায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের অনলাই প্লাটফর্ম গুগল মিটের আওতায় আনার জন্য প্রাণপনে কাজ করছেন যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম। তিনি বলেন আমি আমার জেলার প্রত্যেকটা স্কুলের শিক্ষদের গুগল মিটের সম্পর্কে ট্রেনিং দিচ্ছি। শিক্ষকদেরকে তার শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে খোজ খরর নিচ্ছি। যাদের স্মার্ট ফোন আছে তাদের শেখানোর চেষ্টা করছি কিভাবে কিভাবে অনলাইনে কাস করে শিখন ও পঠন সচল রাখা যায়। তিনি বলেন, শতভাগ শিশুকে লেখাপড়ার বাইরে না রেখে যতটা সম্ভাব বাচ্চাদের লেখাপড়ার মধ্যে রাখা যায় ততটা ভালো। তিনি আরো বলেন দীর্ঘমেয়াদি করোনা পরিস্থিতিতে তিগ্রস্থ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিার্থীদের জন্য ‘গুগল মিট’ প্লাটফরমে অনলাইন কাস চালু করেছে প্রাথমিক শিা অধিদপ্তর। প্রতিটি কাস্টারে আইসিটি পুল গঠন করে নির্বাচিত একটি শিাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি কাসে ৩০ জন করে শিার্থীর অংশগ্রহণে এ কাস নেওয়া হবে। এদিকে গুগল মিট নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন যশোরের শিক্ষাবীদরা। কারণ এসব শিার্থীর প্রায় অর্ধেকেরই বসবাস শহরের বাইরে অর্থাৎ গ্রামে, যেখানে অ্যান্ড্রয়েড ফোন, ট্যাব ও ইন্টারনেট সুবিধা সীমিত। ফলে প্রাথমিক শিা অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ কিছু শিার্থীর কাজে লাগলেও বঞ্চিত হবে অধিকাংশ। প্রত্যন্ত এলাকাসহ গ্রামের শিার্থীদের কীভাবে এই প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা সম্ভব সেটা একটি বড় প্রশ্ন থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ তাদের নেই কোনো কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা স্মার্ট ফোন। নেই কোনো ইন্টানেট সংযোগ। মনিরামপুর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা আহসান হাবিব জানান, আমার দুই সন্তান প্রাইমারি স্কুলে পড়ে। করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ। লেখাপড়ায় তাদের মন নেই। স্কুলের চাপ না থাকায় সারাণ বাইরের দিকেই ঝোঁক। তবে অনলাইনে কাস নেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এ সম্পর্কে কিছূই জানেন না তিনি। তিনি বলেন, তাদের একটি কম দামের বাটন মোবাইল আছে, তাতে আবার প্রায়ই নেটওয়ার্ক সমস্যা থাকে। ইন্টারনেটও এই মোবাইলে সাপোর্ট নেই না। সে েেত্র ‘গুগল মিট’ প্লাাটফরমে অনলাইন কাস চালু হলে তার সন্তানদের কোনো কাজে আসবে না বলেই মনে করেন তিনি। কেননা দামি মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট কিছুই তাদের নেই। এ ছাড়া নতুন এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো ধারণাও নেই তাদের। এ সমস্যা শুধু আহসান হাবিবের নয়, প্রায় প্রতিটি প্রাথমিক শিার্থীর েেত্র এ সমস্যা আছে।
উল্লেখ্য গুগল মিট কাসের নির্দেশনা বা নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিটি কাস্টারে একটি করে আইসিটি পুল করে সহকারী উপজেলা শিা অফিসার তার নেতৃত্ব দেবেন। কাস্টারের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিকরা ইতোমধ্যে যারা গুগল মিটে কাজ করেছেন তারা আইসিটি পুলের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। কাস্টারের কোনো শিকের গুগল মিট ওরিয়েন্টেশন না হয়ে থাকলে সে েেত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিককে ওরিয়েন্টেশন দিতে হবে। আইসিটি পুলের সদস্য ও অরিয়েন্টেশন নেওয়া শিকরা অভিভাবকদের মধ্যে যাদের স্মার্টফোন বা ডিভাইস আছে তাদের গুগল মিট ব্যবহার শেখাবেন। সেখানে আরো আছে কোনো একটি বিদ্যালয়ে কেন্দ্র স্থাপন করে গুগল মিটে কাস নেওয়া হবে। প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিার্থীদের এভাবে কাস করানো হবে। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরে প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য অনলাইন ব্যবস্থা চালু হবে। প্রতিটি স্কুলকে ওয়াইফাই-এর আওতায়ও আনা হবে। শিার্থী বেশি হলে কেন্দ্রও বাড়ানো হবে। জেলা শিা অফিসার, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট, পিটিআই ইনস্ট্রাক্টর (কম্পিউটার সায়েন্স), উপজেলা শিা অফিসার, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টরদের নিয়ে জেলা পর্যায়ে একটি কমিটি থাকবে। এই কমিটি অনলাইন কাস বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। বিভাগীয় উপপরিচালক সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন। যদিও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে উপরের প্রায় সবকটি নির্দেশনা এখনো খাতা কলমেই রয়ে গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here