২৬ মে বুধবার সকাল ১০টায় ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের মল্লিকপুরে মাস্টার ইমান আলী’র স্মরণসভা

0
474

আজ ২৬ মে বুধবার বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কৃষকনেতা মাস্টার ইমান আলী’র ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রয়াতের মৃত্যুবার্ষিকীতে ঐদিন সকাল ৯টায় ঝিনাইদহ জেলা কালীগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামে তাঁর সমাধীস্থলে পুষ্পমাল্য অর্পন, নিরবতা পালন ও শপথ পাঠ পূর্বক সংপ্তি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দেশব্যাপি স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলায় জেলায় কর্মসূচি পালিত হবে। কালীগঞ্জের কর্মসূচিতে সকলকে যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে জানানো হল। উল্লেখ্য, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে বঙ্গদেশ তথা ভারতবর্ষ যখন উত্তাল তেমনি একটি সময়ে ১৯৩০ সালের ১ আগস্ট যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহকুমার কালীগঞ্জ থানার মল্লিকপুর গ্রামে ইমান আলী এক কবিরাজ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন কবিরাজ ওয়ারেশ আলী, মা আছিয়া খাতুন। ৭ ভাইয়ের মধ্যে ইমান আলী ছিলেন সর্ব কনিষ্ঠ। ভাইদের মধ্যে মেঝ ভাই ছিলেন কবিরাজ খেলাফত হোসেন, অগ্রজ বেলায়েত হোসেন বৃটিশ বিরোধী রাজনীতিতে প্রত্য অংশগ্রহণ করেন। তিনি তৎকালীন বৃটিশ ভারতে মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন মুসলিম ছাত্রলীগের যশোর জেলার প্রতিষ্ঠাতা ছাত্র-নেতাদের অন্যতম ছিলেন। ইমান আলী নিজ গ্রামের মল্লিকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিা গ্রহণ শেষে যশোর শহরে কবিরাজ খেলাফত হোসেনের বাসায় অবস্থান করে যশোর জিলা স্কুল থেকে ১৯৪৫ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। তৎকালীন বঙ্গদেশের রাজধানী কলকাতার সাথে যশোরের যোগাযোগ ছিল গভীর। রাজধানী থেকে রাজনীতি তথা বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের ঢেউ পূর্ববঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার েেত্র যশোর শহর মধ্যবর্তী কেন্দ্র হিসাবে ভূমিকা পালন করে। তৎকালীন সময়ে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল রেলওয়ে। যশোরের সাথে কলকাতার রেল যোগাযোগ ছাড়াও সড়ক যোগাযোগ ছিল। এই সুবাদে যশোরে কংগ্রেস, মুসলিম লীগ এবং কমিউনিষ্ট পার্টির সংগঠনের তৎপরতা ছিল। খড়কীর পীর আবুল খায়েরের জেষ্ঠ্য পুত্র যশোর জিলা স্কুলের প্রাক্তন মেধাবী ছাত্র আবদুল হক নিখিল ভারত ছাত্র ফেডারেশনের বঙ্গীয় প্রাদেশিক শাখার সভাপতি ও তার সংগঠনের প্রভাব, অগ্রজ বেলায়েত হোসেন ও তার সংগঠন মুসলিম ছাত্রলীগের প্রভাব সর্বোপরি বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের জোয়ার এবং বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে ইমান আলী বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। এ সময়ে স্কুল জীবনে ৭ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ইংরেজ সাহেবদের বিরুদ্ধাচারণ করায় বৃটিশ সরকারের পুলিশ দ্বারা নিগৃহীত ও নির্যাতিত হন। বৃটিশের এই দমন নীতি ইমান আলীকে সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশ শক্তিকে উচ্ছেদের সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করে ও শক্তি যোগায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ও দ্বি-জাতি তত্তে¡র ভিত্তিতে নয়া উপনিবেশিক ভারত-পাকিস্তান সৃষ্টির প্রক্রিয়ার সময় তিনি যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজ থেকে আই.এ পাশ করেন। তে-ভাগা আন্দোলনের উত্তাল সময় যশোর (বনগাঁ) কে কেন্দ্র করে ২৪ পরগনা, নদীয়া (বৃহত্তর কুষ্টিয়াসহ), খুলনা এবং সংলগ্ন এলাকাতে কমিউনিষ্ট পার্টির নেতৃত্বে বর্গা চাষীদের তে-ভাগা প্রতিষ্ঠার দাবীতে সর্বাত্মক আন্দোলন বিস্তৃতি লাভ করে। এ অবস্থায় ইমান আলী কৃষক আন্দোলন ও বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রভাবে প্রভাবিত হন। ’৫০ এর দর্শকের শুরুতে পাকিস্তান সিভিল সাপ্লাই বিভাগে সাব-ইন্সপেক্টর পদে কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু ১৯৫২ সালে তিনি আর এ দায়িত্বে থাকতে পারেন না। এই চাকুরী হারানোর পরপরই একই বছরে তিনি পাবলিসিটি অফিসার হিসাবে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেন। কৃষক ও জনদরদী স্বাধীনচেতা ইমান আলী প্রগতিশীল রাজনৈতিক মনোভাব এবং সরকারী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালনে স্ব-বিরোধীতা তাঁর কর্মজীবনকে বাঁধাগ্রস্থ করে। নবীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং এর বিপরীতে কমিউনিষ্ট আন্দোলনের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় কমিউনিষ্ট বিরোধী পাকিস্তান সরকারের সর্বাত্মক তৎপরতায় ইমান আলীর মতো নবীণ সরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সন্দেহ, অবিশ্বাস এবং অভিযোগ এনে ১৯৫৪ সালে এই চাকুরী থেকে তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়। সময়টা ছিল যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময়, এই নির্বাচনে কারাবন্দি কমরেড আবদুল হক কমিউনিষ্ট পার্টির একমাত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে সমর্থ হয়। ইমান আলী কর্মজীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিা নিয়ে সরকারী চাকুরীর চেষ্টা না করে শিকতা পেশায় নিজেকে আত্ম-নিয়োগ করেন। গৃহশিকতা দিয়ে শিকতা জীবন শুরু করেন। প্রথমে তিনি কারবালা এবং পরে খড়কী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিকতা করেন। এ সময় তিনি প্রাথমিক শিকদের চাকুরী সরকারীকরণের আন্দোলনে অগ্রণী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অবশেষে ১৯৭০ সালে মাহমুদুর রহমান হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শিক হিসাবে ১৯৯০ সালের ৮ই আগস্ট শিকতা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। আজন্ম সংগ্রামী কমরেড ইমান আলী সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে ছিলেন সক্রিয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here