ইয়াস’: কয়রায় নদীতে পানি বৃদ্ধি, বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ, পাউবোর ব্যাপক প্রস্তুতি

0
346

শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন কয়রা (খুলনা) থেকে : ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার প্রভাবে খুলনার কয়রা উপক‚লের নদ-নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে । ঝড় আঘাত হানলে ১৩থেকে ১৬ফুট উচ্চতায় নদ-নদীর পানি জোয়ারের বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এমন টা আশঙ্কা করছে স্থানীয় সকলেই। এতে উপজেলার দুর্বল বেঁড়িবাধ নিয়ে শঙ্কা করছে এলাকার মানুষ। আজ মঙ্গলবার দুপুরের জোয়ারে উপজেলার কোথাও কোথাও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে এতে করে কয়েকটি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। এ সকল স্থানে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে গ্রামবাসী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে:: তবে রাতের জোয়ারে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। উত্তর বেদকাশী ইউপি চেয়ারম্যান সর্দার নুরুল ইসলাম জানান বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে আজ মঙ্গলবার দুপুরের জোয়ারে সাতীরা পাউবোর ১৩-১৪/২ নং পোল্ডারের বীণাপাণি ঘোপের খাল হতে গাতিরঘেরী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে এতে করে বেশ কয়েকটি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া কাটকাটা বাজারের পাশে প্রায় ২০০ ফুট জায়গা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে, বর্তমানে সেখানে গ্রামবাসীদের দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করানো হচ্ছে, সবচেয়ে ভয়াবহ কাশির খালের সুইজগেট হতে ফজলু ডাক্তারের ঘের পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান পানি উন্নয়ন বোর্ড কে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন গত কয়েকদিন যাবত পানি উন্নয়ন বোর্ড কে বারবার ঝুঁকির কথা জানানো সত্তে¡ও তারা কোনো পদপে না নেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দণি বেদকাশী ইউপি চেয়ারম্যান কবি শামসুর রহমান জানান দুপুরের জোয়ারে জোড়শিং বাজারের পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্বে প্রায় এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ উপচে সাকবাড়িয়া নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে তাৎণিক গ্রামবাসীদের নিয়ে চেয়ারম্যান স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে পানি আটকাতে সম হলেও রাতের জোয়ারে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন এছাড়া তার ইউনিয়নের জোড়শিং লঞ্চ ঘাটের পাশে প্রায় আধা কিলোমিটার আংটিহারা সুইস গেটের পাশে প্রায় এক কিলোমিটার বেরিবাধ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। এ সকল স্থানে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধ মেরামতে গ্রামবাসী কাজ করছেন। এ ব্যাপারে পাউবোর গাফিলতি কেই তিনি দায়ী করেন। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আগামীকাল বুধবার আঘাত হানতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানায় । সে সময় ভরা পূর্ণিমা থাকবে। উপক‚লের নদ-নদীতে জোয়ারের উচ্চতা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে পূর্ণিমার সময় বাড়ে। ভরা পূর্ণিমায় জোয়ারের উচ্চতা পাঁচ থেকে সাত ফুট বৃদ্ধি পায়। তখন ঝড়ের প্রভাবে ১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ¡াসের আশঙ্কা রয়েছে বলে পাউবো সাতীরা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। উপজেলায় ১১৭ কিলোমিটার বেঁড়িবাধের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের টেঁকসই বেঁড়িবাধ নির্মাণ করা হয়নি । বাঁধ গুলো অত্যন্ত দুর্বল ও ভঙ্গুর। কিছু কিছু যায়গায় বাঁধের কাজ হলেও সব জায়গায় হয়নি। উপজেলার ২০ কিলোমিটার মত বেরিবাধ অত্যান্ত ঝুকিপূর্ণ। বেড়িবাঁধের কোথাও কোথাও মাত্র দেড় থেকে দুই হাত মাটি অবশিষ্ট রয়েছে। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, বাঁধের অনেক জায়গা ছিদ্র হয়ে পানি প্রবেশ করছে। কোথাও কোথাও বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করছে। জোড়াতালির বেড়িবাঁধ, দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত কার্যক্রমের অভাব। এর মধ্যে আসছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। এতে আতঙ্ক বেড়ে গেছে এসব এলাকার মানুষের। বিশেষ করে ঝুঁকির মুখে রয়েছে কয়রা সদর ইউনিয়নের দু’নম্বর কয়রা কোজার-এর দণি পার্শ্ব হতে উত্তর বেদকাশী সুইজগেট পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার, মদিনাবা লঞ্চ ঘাট হতে লোকা পর্যন্ত এক কি: মি:, কাশি খালের গোড়া থেকে কাঠমারচর পর্যন্ত ১কি:মি: মাটিয়া ভাঙ্গা আধা কি:মি:, আংটিহারা ১ কি:মি: বীণাপাণি গাতির ঘেরি ২ কি:মি:, দশালীয়া থেকে হোগলা ৩ কি:মি: মহেশ্বরীপুর নয়নী ও খোড়লকাঠি বাজার সংলগ্ন আধা কি:মি: মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১৩ থেকে ১৬ফুট উচ্চতায় নদ-নদীর পানি জোয়ারের বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। কয়রা সদর উপজেলার ২ নং কয়রা গ্রামের বেরিবাধ পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা আবু হানিফ জানান,ঝড়-জলোচ্ছ¡াসের সময় কর্তৃপরে বাঁধ নির্মাণে টনক নড়ে। ঝড় থেমে গেলে তাদের আর খবর থাকে না। বর্ষা মৌসুমে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এ কারণে বাঁধের স্থায়িত্ব থাকে না। বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি করা না হলে উচ্চ জোয়ারে বাঁধ প্লাবিত হয়ে বাজার এলাকা প্লাবিত হবে। এ বিষয়ে সাতীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান জানান, কয়রা উপজেলায় ২৬ টি পয়েন্ট অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় আমরা সদা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি। বেড়িবাঁধের যেসকল স্থান ঝুঁকিপূর্ণ সেসব স্থানে পাউবো ও স্থানীয়দের মাধ্যমে সাময়িকভাবে প্রতিরার কাজ চলমান রয়েছে।২০ হাজার জিও ব্যাগ ও ৩০ হাজার সিনটেথিক ব্যাগ প্রস্তুস রেখেছি জরুরী ভিত্তিতে কাজে লাগাতে। কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস জানান,ঘূর্ণিঝড়কে কেন্দ্র করে য়তি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের প থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বরদেরকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করোনার মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা ও ১১৮ টি আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি শিা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানো হবে। পর্যাপ্ত চাউল শুকনা খাবার নিরাপদ পানি ও নগদ টাকা মজুদ রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে তি এড়াতে কাজ করছেন রেডক্রিসেন্ট, সিপিপি, বেসরকারি এনজিও’র স্বেচ্ছাসেবকরা। তিনি আরও জানান, এলাকার মানুষ ও সকলের ভয় দুর্বল বেঁড়িবাধ। শুনেছি বেঁড়িবাধ গুলো ষাটের দশকে নির্মিত যা অত্যন্ত দুর্বল টেঁকসই বেড়িবাধ কোথাও নেই। বর্তমানে কয়রার সিংহভাগ বাঁধ পানিপ্রবাহ প্রতিহত করার জন্য মোটেই উপযোগী নয়। উপজেলার ৪০ দিনের কর্মসূচির প্রায় ১৭০০ শ্রমিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ বেঁড়িবাধের কাজ করানো হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here