ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে পাইকগাছার নদ-নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি

0
328

যশোর ডেস্ক :  ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে পাইকগাছার নদ-নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বইছে। থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও হয়েছে। দুপুরের জোয়ারের পানির প্রবল স্রোতে দেলুটির চকরি-বকরি প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে এবং রাড়ুলীর মালোপাড়ার বাঁধ উপচে এ দুই ইউনিয়নের অংশ বিশেষ তলিয়ে গিয়ে মৎস্য ও কৃষি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে যাওয়া প্রতিরক্ষা বাঁধ এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মেরামত করার চেষ্টা করছে।
এদিকে, উপজেলার নদীবেষ্টিত ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। রাতে পানি বৃদ্ধি পেলে কিংবা ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, মঙ্গলবার দুপুরের জোয়ারের প্রবল স্রোতে ইউনিয়নের ২০নম্বর পোল্ডারের চকরি-বকরি প্রতিরক্ষা বাঁধের পূর্বের স্থান থেকে পুনরায় ভেঙে যায়। এতে বেশকিছু এলাকা তলিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভাটার সময় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এলাকাবাসী ওই বাঁধ মেরামত করে। এই এলাকার ৫ কিলোমিটার সহ ইউনিয়নের ১৩ কিলোমিটার বাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
লতা ইউপি চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন মন্ডল জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ২ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।
সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান গাজী জানান, সোলাদানা ইউনিয়নের ২৩ নম্বর পোল্ডারের পাটকেল পোতা, আমুড়কাটা স্লুইচ গেট, নুনিয়াপাড়া, বাসাখালী ও পতন, বেতবুনিয়া ও সোলাদানার আবাসন এলাকার আধা কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ।
ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন জানান, লস্কর ইউনিয়নের ১০/১২নম্বর পোল্ডারের ভরেঙ্গা স্লুইচ গেট, বাইনতলা গেট, আলমতলা গেট, আলমতলা দক্ষিণ বিলের গেট জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া বাইনতলা খেয়াঘাট থেকে কড়ুলিয়া সানা বড়ি পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস জানান, গড়ইখালী ইউনিয়নের ১০/১২ নম্বর পোল্ডারের কুমখালীর ফকিরবাড়ি সংলগ্ন, গাংরখী ও শান্তা স্লুইচ গেট এলাকার ১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ।
ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জুনায়েদুর রহমান জানান, গদাইপুর ইউনিয়নের বয়রা, বাইসারাবাদ, হিতামপুর ও পুরাইকাটী এলাকার আধা কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ।
ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল মজিদ গোলদার জানান, রাড়ুলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর পোল্ডারের মালোপাড়া ও ভড়ভুড়িয়ার গেট এলাকার ১ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। এরমধ্যে দুপুরের কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের পানি উপচে মালোপাড়া তলিয়ে যায়।
ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ও মেরামত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মিডিয়ার সাথে কথা বলা সম্ভব নয় বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোতাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। থানার ওসি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে তাদের ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পূর্বেই আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। ঝুকিপূর্ণ বাঁধ ইতোমধ্যে প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে জরুরি মেরামত করা হয়েছে। পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ মজুদ রয়েছে এবং বেড়িবাঁধ টেকসই করার জন্য জাইকাসহ অনেক উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসনের এ কর্মকর্তা জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here