ইয়াসের আঘাতে কয়রায় বাঁধ ভেঙে ৩0 গ্রাম প্লাবিত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

0
391
শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে খুলনার কয়রার কপোতাক্ষ- ও শাকবাড়িয়া  নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে বেঁড়িবাধ ভেঙে উপজেলার ৪ ইউনিয়ের 30 গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ ভেঙে ও বেঁড়িবাধ উপছে  পানি ঢুকে ধসে পড়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি। বাড়ির আঙ্গিনাসহ তলিয়ে গেছে রাস্তা ঘাট, মাছের ঘের ও ফসলের মাঠ ।
26 মে সকালে জোয়ার বাড়ার সাথে সাথে বেলা সোয়া 12 থেকে বেরিবাধ উপছে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে, মহারাজপুর ইউপির দশালীয়া থেকে হোগলা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার ব্যাপী বাধ .উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এতে করে দশালিয়া, কালনা, মেঘের আইট, আটরা, গোবিন্দপুর, হোগলা সহ অন্তত 7 টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি প্রবেশ করেছে একই ইউনিয়নের মঠবাড়ি ও পবনা এলাকায়। দক্ষিণ বেদকাশী ইউপির আংটিহারা মন্দিরের পাশে বাধের প্রায় 40 মিটার একই ইউনিয়নের জোড়শিং বাজার হতে বীণাপাণি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার বাঁধ
উপচে লোকালয় পানি প্রবেশ করেছে এতে করে 5/6 টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উত্তর বেদকাশী ইউপির গাতিরঘেরী বেড়ীবাধের প্রায় আধা কিলোমিটার ব্যাপী বাধ উপছে নোনা পানিতে এলাকা লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। এতে করে অন্তত  4 গ্রাম সম্পূর্ণ নোনা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ভেঙে পড়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট মৎস্য ঘের সহ সবকিছু। একই ইউনিয়নের কাঠকাটা বাঁধের 150 মিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাধ উপচে পানি প্রবেশ করেছে কয়রা সদর ইউনিয়নের 2 নং কয়রা ঋষি বাড়ির পাশে ও 4 নং কয়রা লঞ্চ ঘট সংলগ্ন এলাকা দিয়ে। পানি প্রবেশ করেছে মহেশ্বরীপুর ইউপির নয়ানী ও খোড়লকাঠি
এলাকাসহ কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদী তীরবর্তী প্রায় 30 টির অধিক গ্রামে পানি
প্রবেশ এর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অধিক নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সকাল থেকেই থেমে থেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। বাতাস বাড়ার সাথে সাথে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের (বাঁধ ভাঙন) বাসিন্দা আবু সাইদ খান জানান,ঝড়-বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলে আমরা খুবই আতংকে থাকি। বিশেষ করে রাতে। এলাকার মানুষ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসে থাকে। কখন বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে নদীতে চলে যায়। আজ দুপুরে হঠাৎ করে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যেভাবে পানি উঠতেছে এতে খুবই বিপদে আছে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান জানান,দক্ষিণ অঞ্চলের  নদ-নদীতে পানির স্বাভাবিক মাত্রা থাকে ৩ মিটারের কাছাকাছি। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস এবং পূর্ণিমার জোয়ারের কারণে আরও দুই থেক ৩ ফুট বেশি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার প্রায় ৩০ টি পয়েন্ট দিয়ে পানি বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করছে।কয়েক জায়গায় বেঁড়িবাধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, আগামী দুইদিনে পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে। এর সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস হলে পানি আটকানো সম্ভব হবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা ২০ হাজার জিও ব্যাগ ও ৩০ হাজার  সিনটেথিক ব্যাগ মজুদ রেখেছি। ঝুকি পূর্ণ জায়গায় জিও ব্যাগ দিয়ে বাধ রক্ষার কাজ করানো হচ্ছে৷
স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন দুর্যোগের খবর পাওয়ার সাথে সাথে দুইদিন যাবত আমি কয়রায় অবস্থান করছি 25 মে থেকে আমি নিজেই কয়রার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাউবোর স্পর্শ কাতর স্থানগুলিতে গিয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছি আজও কয়রাতে অবস্থান করছি ঘূর্ণিঝড় ইয়াশ এর প্রভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি কয়রা বাসির সাথে আছি । ভেঙে যাওয়া স্থানগুলি দ্রুত মেরামত করা হবে’ এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতির পরিমাণ যাতে কম হয় সে জন্য জিও ব্যাগ সিন্থেটিক ব্যাগসহ বেরিবাধ টেকানো এবং জনসাধারণের জানমাল রক্ষার্থে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি##

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here