দণিবঙ্গের  বৃহৎ পাইকারী ফলের বাজারটি ২০ বছর ধরে ইজারা বহির্ভ‚ত থাকায়  সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব

0
599

মাহবুব আলম, নাভারণ (যশোর) \ দণিবঙ্গের যশোরের শার্শার বাগুড়ী বেলতলা বৃহৎ পাইকারী ফলের বাজারটি ২০ বছর ধরে ইজারা বহির্ভ‚ত থাকায় বছরে সরকার হারাচ্ছে প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব। বাজারের শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্রটি বিভিন্ন ভাবে ফল চাষী ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অংকের টাকা। আম বাজার কমিটির বলছেন বাজারটি সরকারী ইজারা ভুক্ত না। প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে ব্যক্তিমালিকানা জমির পাশাপাশি সড়ক ও জনপদের জায়গা ব্যবহার করে বাজারটি পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবী বাজারটি সড়ক ও জনপদের জায়গা ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে বাজারটি সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তর কর্তৃক ইজারার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করার দাবি উঠেছে স্থানীয় জনগণ, ফল চাষী ও ব্যবসায়ীদের।

শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নে যশোর-সাতক্ষিরা সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে দণিবঙ্গের বাগুড়ী বেলতলা বৃহৎ পাইকারী ফলের বাজার। বাজারটির অধিকাংশ জায়গা সড়ক ও জনপদের জায়গায় অবস্থিত। তিন মাস চলে এ আমের বাজার। এ আম বাজারে কিনতে ঢাকা শরিয়তপুর চাপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শত শত পাইকারী ব্যবসায়ীরা আসে। প্রতিদিন এ বাজার থেকে প্রায় ৬০/৭০ ট্রাক বিভিন্ন প্রজাতির আম লোড হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। কুলের মৌসুমে চলে তিন মাস এবং এখান থেকে প্রতিদিন ১০/১৫ ট্রাক কুল যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বাজারে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ বাজারের ব্যবসা পরিচালিত হয়ে থাকে। সিন্ডিকেট ও শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন খাতে ট্রাক প্রতি আদায় করে দেড় হাজার টাকা। এ বাজারে আড়তদাররা মণে ৬ কেজী আম বেশী নেয়। আর কমিশন দিতে হয় শতকরা ৩ টাকা। শ্রমিকরা নেয় ক্যারাট প্রতি ২৫ টাকা লেবার। এসব টাকা আদায় হয় চাষী ও ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে। প্রায় ২০ বছর ধরে চলে আসছে সিন্ডিকেটের এ ব্যবসা। জিম্মি হয়ে পড়েছে ফল চাষী ও ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবী বাজারটি সরকারি ইজারাভুক্ত হলে সরকার পাবে বিপুল অংকের রাজস্ব আর মুষ্টিমেয় সিন্ডিকেট চক্রের হাত থেকে রক্ষা পাবে চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ.এন.ও) মীর আলিফ রেজা বলেন শার্শার বাগআঁচড়া বাজার সংলগ্ন প্রত্যেক বছর সিজন্যাাল আমের হাট বসে। এ বিষয়ে স্থানীয় কিছু মানুষের আবেদন পেয়েছি, এটা যদি ইজারা দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আসার একটি সম্ভবনা রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব স্যারের সাথে কথা বলেছি। সহকারী কমিশনার ভূমি ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে পরবর্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here