যশোরের বাজারে দেশি প্রজাতির লিচুর সমারোহ ।। দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে

0
544

মালেকুজ্জামান কাকা : এখন গ্রীষ্মকাল। রসালো ফল আম কাঁঠাল লিচু মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা চারপাশ। গ্রীষ্মকালকে ফলের মাস বলা হয়ে থাকে। এরইমধ্যে বাজারে এসেছে গ্রীষ্মের সুস্বাদু ফল লিচু। তবে দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। করোনার প্রকোপ এড়িয়ে মানুষ লিচু কিনছে ব্যাপক হারে। বাজারে আসা লিচুর বেশির ভাগই দেশী প্রজাতির।
যশোর সদর ও বাঘারপাড়া লিচু চাষের জন্য বিখ্যাত। এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে লিচুর চাষ হয়ে আসছে। লক্ষ লিচু গাছ রয়েছে এই অঞ্চলে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে লিচু যায় এখান থেকে। এজন্য মৌসুম আসলেই এই অঞ্চলের লিচু নিয়ে কৃষকদের মধ্যে খানিকটা উৎসব চলে।
যশোরের লিচুর গ্রাম খ্যাত বৈলতলা, চুড়ামনকাঠি, বিরামপুর, বাহাদুরপুর। বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট, দাইতলা, দাঁতপুর, চাড়াভিটায় লিচু চাষ হয়। এবছর লিচুর ফলন কিছুটা কম। আবহাওয়ার কারনে এই অবস্থা। একই অবস্থা বাহাদুরপুর, জঙ্গলবাঁধাল, বসুন্দিয়া, চৌগাছা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে। ফলে হাসি নেই লিচু বাগান মালিকদের।
যশোর জেলায় এবছর ৮৫০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হলেও এবার এসব লিচু বাগানে ফলন কিছুটা কম হয়েছে। লিচু চাষীরা জানালেন খরা ও অনাবৃষ্টির কারনেই এই দশা এবার।
তবে যেসব গাছে লিচু হয়েছিল তা পরম যতেœ বড় করেছে বাগান মালিকরা। এখন বাজারে বিক্রি করছেন তারা। পাচ্ছেন ভালো দাম।
যশোর শহরের মনিহার এলাকায় ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা বলে জানান ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন ও নিজাম উদ্দীন। দড়াটানার ব্যবসায়ী গিয়াস ও জাহাঙ্গির হোসেনের দোকানের লিচুর দাম ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। আলমগীর হোসেনের দোকানে লিচুর দাম দেখা গেছে ৩০০ টাকা। দামের ব্যবধানের কথা বলতেই দোকানদার আলমগীর হোসেন বলেন যেমন কেনা তেমনি বিক্রি। তবে তার দাবি লিচু বাগান থেকে ক্রয় করলে দাম কম হয়। আর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ক্রয় করলে দাম বেশি পড়বে। সিভিল কোর্ট মোড় ও সার্কিট হাউজের সামনেও বিক্রি হচ্ছে লিচু। চুয়াডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ডেও লিচু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে ১০০ লিচু বিক্রি করতে দেখা গেছে।
তাই বলে কি লিচু খাওয়া বন্ধ রাখবে লিচু প্রেমীরা তা হয় না। তাই বাজার থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে ১০০ লিচু ক্রয় করেছেন সাব্বির, রেলগেটের সাইদ। এরা জানান, বছরের প্রথম ফল খাওয়ার মজাই আলাদা। তাই বেশি দাম হলেও ক্রয় করলাম।
যশোর জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলের লিচু বৈশাখের ১৫ থেকে শুরু হলেও জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথমেই বাজারে ওঠে বিভিন্ন জাতের লিচু। এবছর আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে এ বছর লিচুর ফলন কম হয়েছে। তবে যে বাগানে লিচু হয়েছে তারা দাম বেশি পাচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here