ডুমুরিয়ায় কৃষক নেতা শহীদ শেখ আব্দুল মজিদের ৩২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন

0
699

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি,চুকনগর ঃ খুলনার ডুমুরিয়ার কৃষক নেতা মাষ্টার শহীদ শেখ আব্দুল মজিদের ৩২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন উপল্েয ওয়ার্কার্স পার্টির প থেকে দিনব্যাপী কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।
কৃষক নেতা মাষ্টার শহীদ শেখ আব্দুল মজিদের পুত্র শেখ সেলিম আক্তার স্বপন জানায়, ১৯৮৯সালের ২জুন ডুমুরিয়ার গণমানুষের নেতা মাষ্টার শেখ আব্দুল মজিদ কিছু বিপথগামী আততায়ীর হাতে নিজ বাড়ির বৈঠক খানাতেই নিহত হন। ৩০/৪০এর দশকে বিষ্ণু চ্যার্টাজির নেতৃত্বে ডুমুরিয়ার কৃষক আন্দোলন সারা ভারতবর্ষে ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে অধিকার আদায়ের পথে চলতে গিয়ে কৃষকেরা কমিউনিষ্ট পার্টির পতাকাতলে সমবেত হয়।
১৯৪৭সালে দ্বি-জাতি তত্তে¡র ভিত্তিতে পাকিস্থান প্রতিষ্ঠার পর পাকিস্থান সরকার এক নম্বর শত্র“ হিসাবে কমিউনিষ্টদের চিহিৃত করে। উলা ফজলু মলি­কের বিশ্বাস ঘাতকতায় বিষ্ণু চ্যাটাজী ধৃত হয়। এ সময় অধিকাংশ কৃষকনেতা কারান্তরীত হয়। আস্তে আস্তে কৃষক আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়। কিন্তু এর কার্যক্রম শেষ হয় না।
৬০এর দশকের প্রথশ দিকে ডুমুরিয়ার শেখ আব্দুল মজিদ রঘুনাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিকতা শুরু করেন। শিকতার পাশাপাশি কৃষকদের অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেন। একারণে দেশে ব্যাপক পরিচিত পান মজিদ মাষ্টার হিসাবে। এরপর রাজনীতিতে যোগদান করে পূর্ব পাকিস্থান কমিউনিষ্ট পার্টির (এমএল) এর খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এসময় তিনি চাকুরি ছেড়ে দিয়ে সার্বণিক গণমানুষের অধিকারের রাজনীতি শুরু করেন। পাকিস্থান আমলের শেষ দিকে পূর্ব পাকিস্থান কমিউনিষ্ট পার্টি (এমএল)নকশালী আন্দোলনের পথে শ্রেণী শত্র“ নিধনের কর্মসূচী গ্রহন করে। কিন্তু অচিরেই মজিদ মাষ্টার বুঝতে পারেন এটি একটি ভান্ত ধারণা। জেলা সভাপতি আব্দুল হক পাকিস্থানের সাথে চীনের সাম্রাজ্যবাদী যোগ সূত্রের কারনেই হয়তোবা সে লাইন ধরেই ছিল। কিন্তু মজিদ মাষ্টার শ্রেণী শত্র“ খতমের লাইন পরিত্যাগ করে জাতীয় আন্দোলনের সাথে একাতœ হয়ে দেশ মাতৃকার মুক্তির দীা নিল। ইতি মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছেন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মতো মজিদ মাষ্টারও মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় সৈনিক খালেদ রশিদ গুরু ও তার বাহিনীকে সাথে নিয়ে শোভনায় মুক্তাঞ্চল গঠন করে ঘাঁটি গেড়ে বসলো। পাকিস্থানী বাহিনী ও রাজাকারদের সম্মুখ যুদ্ধে মোকাবেলা করতে থাকেন। অসা¤প্রদায়িক আব্দুল মজিদ মাষ্টার সংখ্যালঘু হিন্দুদের রা করার আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল রায় ও তার সহযোদ্ধাদের নিয়ে খর্ণিয়া রানাই গ্রামের রাজাকার ক্যাম্প আক্রমন করেন তিনি। পাকিস্থানী মিলিটারীদের গানবোট ডুবিয়ে দেয়া হয় তার নেতৃত্বে। মুক্তিযোদ্ধারা ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে বাংলাদেশে আসার আগ পর্যন্ত মজিদ মাষ্টারই তার সহযোদ্ধাদের নিয়ে এবং পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে পাকিস্থানী শত্র“দের বিরুদ্ধে স্বশস্ত্র যুদ্ধ করেছেন।তারপরও শেখ আব্দুল মজিদকে আজও মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। ১৯৭২-৭৪সালে ডুমুরিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রনী ভুমিকা পালন করেন। এরপর তিনি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর উপজেলার আপামর গণমানুষের নয়নের মনিতে পরিণত হন তিনি। প্রয়াত মজিদ মাষ্টারের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ডুমুরিয়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক অনিন্দ্য সুন্দর মন্ডল বলেন,আমি তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। ১৯৮৬-৮৭সালের ২৬মার্চ স্বাধীনতা দিবসে ডুমুরিয়া উপজেলায় আমারই পরিচালনায় একটি পথ-নাটক করেছিলাম। নাম ছিল “খুন দি মার্ডারার”। উপস্থিত মজিদ মাষ্টার নাটক শেষে আনন্দে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে আমার জন্য দোয়া করেছিলেন। বুধবার দিনব্যাপী বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির প থেকে ৩২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন উপল্েয স্মরণ সভা, দোয়া মাহফিল, কবর জিয়ারত ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন এ্যাডঃ পুলিন বিহারী সরকার। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টি খুলনা জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডঃ মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী মোল্যা ও প্রফেসর আবুল বাশার। বক্তব্য রাখেন কমরেড শেখ আব্দুল মজিদের বড় পুত্র শেখ সেলিম আক্তার স্বপন, শেখ মোফাজ্জেল হোসেন, শেখ আমজাদ হোসেন, গাজী গহর আলী, দিলিপ কুমার সানা, আশিষ কুমার মন্ডল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শেখ মোশাররফ হোসেন। দোয়া পরিচালনা করেন মাওঃ জাহিদুল ইসলাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here