ডুমুরিয়ায় রঘুনাথপুর ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মসূচিতে ভুয়া মাস্টার রোল তৈরীর অভিযোগ

0
319

গাজী আব্দুল কুদ্দুস,চুকনগর ঃ খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নে ৪০দিনের কর্মসূচীতে চলছে নয়-ছয় । ১৪ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুয়া মাস্টার রোল তৈরি হচ্ছে এ ইউনিয়নে। অধিকাংশ প্রকল্পে শ্রমিক উপস্থিতি অনেক কম। এত ঘাপলা হলেও একদিনও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর ও চেয়ারম্যানের নিত্য দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে ২ নম্বর রঘুনাথপুর ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ডে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্প (ইজিপিপি ) অর্থাৎ ৪০দিনের কর্মসূচীতে মোট ২০৮জন শ্রমিক রয়েছে। মোট ৯ প্রকল্পে বরাদ্দ ১৬লাখ ৬৪হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয় আন্দুলিয়া ৫নম্বর ওয়ার্ডে। ইউপি মেম্বর মনিরুজ্জামান মনি ওই ওয়ার্ডের ৪০দিনে কর্মসূচীর প্রকল্প সভাপতি। তার কথা ১০জন শ্রমিক কোন দিনই আসবে না। কথা অনুযায়ী কাজও হচ্ছে। ২৯জন শ্রমিকের মধ্যে প্রতিদিন ১৯ জন শ্রমিক তার ওয়ার্ডে কাজ করছে। অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শাহাপুর বিলায়েত গাজীর বাড়ির পাশে ডাকাতিয়ার বিলে যাওয়ার রাস্তায় কাজ করছে দু’ভাগে ভাগ হয়ে শ্রমিকরা। প্রতি দলে ৯জন করে শ্রমিক কর্মরত। শ্রমিক সরদার মোঃ মফিজুল ইসলাম কাজ তদারকি করছেন বেশ ভালভাবে। তিনি বলেন, রাস্তা তৈরিতে আমার শ্রমিকরা অন্যতম। তবে ১০জন শ্রমিক কম রয়েছে। শ্রমিকরা জানান, এর জন্য চেয়ারম্যানকে ৮থেকে ১০হাজার টাকা না দিলে মাস্টার রোলে স্বার করবেন না। শ্রমিক সরদার বলেন, চেয়ারম্যানের পে প্রায় কাজ দেখতে আসেন তার প্রতিনিধি। তবে পিআইও অফিস থেকে এখনও কেউ আসেনি। না আসলেও পিআইও অফিসে ইউনিয়ন ভিত্তিক চুক্তি রয়েছে বলে তিনি জানান। ৪নম্বর আন্দুলিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ২৩জন শ্রমিকের মধ্যে ফিরোজ, মোদাচ্ছের, সালেহা, ওয়দুদ, লতিফা, বিল্লাল, সালমা ও সাথী নামে ১৪জন শ্রমিক রাস্তা তৈরির কাজে ব্যস্ত। বাকিরা কোন দিন আসে না বলে তারা জানান। না আসার তালিকায় নাইজুল্লাহ, জাকির, আলাউদ্দীন, মোবারেক, মশিয়ারের নাম বলতে পারলেও বাকিদের নাম তাদের অজানা। ৬নম্বর শাহাপুর ওয়ার্ডে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ডাকতিয়া বিল অভিমুখি রাস্তায় ১৬জন শ্রমিক কর্মরত। শ্রমিক সরদার মিজানুর রহমান খান বলেন, ২৯জন শ্রমিক তালিকায় থাকালেও প্রথম থেকে ১৬জন শ্রমিক কর্মরত। কর্মরতরা হচ্ছেন মিজান, শিরিনা, আবেদা, জরিনা, ফরিদা, রাহিলা তাহের, মোনজেল, মনি, কুতুবউদ্দীন, লায়লা, আছাদ, খাদিজা, মিরা, আছুরা ও তহমিনা। বাকি ১৩ জনের নাম বলতে পারেননি শ্রমিক সরদার। তিনি বলেন, পিআইও অফিস থেকে একদিনও দেখতে আসেনি। সর্ববৃহৎ ওয়ার্ড থুকড়ায় যেয়ে দেখা যায় ৩৫জন শ্রমিকের মধ্যে ২৫জন কর্মরত। ওই কাজের স্থানে উপস্থিত ইউপি সদস্য আব্দুল গফ্ফার বলেন, সব দিন সমান শ্রমিক আসে না। ৫/৬জন প্রায় কম থাকে বলে তিনি জানান। একাধিক শ্রমিক সরদার ও ইউপি সদস্য বলেন, ৪০দিনের কর্মসূচীর প্রকল্প নেয়ার মাসিক সভায় অলিখিত সিদ্ধান্ত হয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে ১লাখ টাকা উৎকোচ ছাড়াও চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক ম্যানেজে আরও ১লাখ টাকা রাখতে হবে। সেেেত্র মাস্টার রোলের সাথে ব্যাংকের চেক বই প্রত্যেক ইউপি সদস্যকে চেয়ারম্যানের কাছে জমা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চেক বই জমা না দিলেও ইউপি সদস্যরা মাস্টার রোলের সাথে কথা অনুযায়ী ওই টাকা জমা দিচ্ছে। একাধিক সরদার বলেন, পত্রিকায় লিখে কোন লাভ নেই। পিআইও অফিসে ১লাখ টাকার চুক্তিতে এসব কাজ করা হচ্ছে। আর অফিসের মাধ্যমে স্থানীয় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করেই সব হচ্ছে বলে তারা জানান। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও ত্রাণ শাখার প্রকৌশলী রাসেল আহমেদ ৪০দিনের কর্মসূচির সকল কাজ দেখাশুনা করেন। অর্থনৈতিক লেনদেনও তার মাধ্যমে হয় বলে সকল শ্রমিক ও ইউপি সদস্য জানান। ইউপি চেয়ারম্যান খান শাকুর উদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। নিছক তাকে হেয় করার জন্য এসব কথা বলা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। অপর একটি সূত্র জানায়, চেয়ারম্যানের নির্দেশে প্যানেল চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির মধ্যস্থতায় অফিস ম্যানেজ হয়। গতবারও ৯০হাজার টাকা দেয়া হয়েছে বলে ওই সূত্রটি জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন, প্রকৌশলী রাসেল আহমেদ। শ্রমিক কম হলেও বিল দেয়া হয় কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন থেকে বিল দিলে কি করার আছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ হোসেন কোন প্রকল্প দেখেননি দায় স্বীকার করে বলেন, ত্রাণ শাখায় প্রকৌশলী রয়েছে। তিনি সব দেখেন। উৎকোচ নিয়ে বিল স্বার করা হচ্ছে এমন কথা অস্বীকার করে বলেন, তদারকি করেই বিল দেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here