স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দেড়শ’ ছাড়ালো। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১২ জনের মৃত্যুতে এ সংখ্যা এখন ১৫২। এই সময়ে ৫৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৪২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সিভিল সার্জন ডাক্তার আবু শাহিন এ তথ্য জানিয়েছেন।
যশোর সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার ৫৩৭ জনের নমুনা পরীায় ১৪২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে ২৭৮ জনের নমুনা পরীা করে ৪৮ জন, জিন অ্যাক্সপার্ট পরীক্ষায় ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন এবং র্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষায় ২৪১ জনের মধ্যে ৮৪ জন করোনা পজেটিভ হয়েছেন। শনাক্তের হার ২৬ শতাংশ। এই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৭ জন। এছাড়া এই সময়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৫০৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ৭ হাজার ৪৬৯ জন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫২ জনের।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহমেদ জানিয়েছেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৪ জন। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। যশোর হাসপাতালের রেডজোনে এখন ভর্তি আছেন ১০৩ জন। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে ইয়েলো জোনে ভর্তি আছেন আরও ৬১ জন। যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান জানান, করোনা শনাক্তের উর্ধ্বগতি রুখতে কঠোর বিধি-নিষেধ কার্যকরে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। বিধিনিষেধ প্রতিপালনে আরো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন।
এদিকে করোনা সংক্রমণরোধে জনসাধারণকে ঘরে রাখতে যশোরে গতকাল সকালে যুক্ত হয়েছেন সেনা বাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা। সার্বিক বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে যশোর কালেক্টরেট চত্বরে প্রেস ব্রিফিং করেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তকর্তারা জেলা প্রশাসেনর দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন। বিফ্রিংয়ে জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে দেশজুড়ে নতুন করে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করছে প্রশাসন। আজ (গতকাল) তার সাথে যুক্ত হয়েছে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জেলাজুড়ে ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে মানুষকে ঘরে রাখতে ভূমিকা পালন করছেন। এসময় যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বলেন, করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে যশোরে মোট ৬০টি টিম কাজ করছে; যার মধ্যে সেনাবাহিনী ও বিজিবির দশটি করে টিম রয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউই বাইরে বের হতে পারবেন না। কেউ যদি নির্দেশনা অমান্য করেন, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মোহাম্মাদ তানভির আহম্মেদ বলেন, করোনা মহামারি মোকাবেলায় সেনাবাহিনী জনসচেতনাতায় মাঠে আছে। ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির নির্দেশনা মোতাবেক সেনাবাহিনীর কর্মতৎপরতা চলছে। প্রেস ব্রিফিংয়ের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনা, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব সদস্যরা একযোগে যশোরের রাস্তায় নামেন। তারা গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে টহল দেন। ব্রিফিংকালে প্রেস কাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. বেলাল আহম্মেদসহ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি হলেও সেনা সদস্যদের পাশাপাশি বিজিবি, যশোর জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। এছাড়াও শহরে ওষুধ ও কাঁচাবাজার ছাড়া ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ ছিল। তবে যারা একান্ত প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়েছেন তাদের আইডি কার্ড ও পরিচয়পত্র দেখে জিজ্ঞাসাবাদ সাপেে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছেন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে, শহরে ইজিবাইক, অটোরিকশা চলাচল করতে দেওয়া হয়নি, পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার দেখলেই থামিয়ে জানতে চাওয়া হয় বের হওয়ার কারন। সদুত্তর না মিললে তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে এত বাঁধা বিপত্তির পরেও সড়কে গাড়ি বা সিএনজি, আটোরিকশা নিয়ে বের হওয়া অধিকাংশ মানুষই মেডিকেলের কারণ দেখাচ্ছেন। সত্যতা যাচাই করে সহজে ছাড়াও পাচ্ছেন তারা। কেউ কেউ মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, জরুরি পরিষেবা ব্যতীত সবই বন্ধ আছে। আমরা কড়া লকডাউন বাস্তবায়ন করতে চাই। আমারা ছাড় দিচ্ছি গণমাধ্যমকর্মীসহ জরুরি পণ্য সরবরাহকারী, চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত যানবাহন চলাচল ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষদের।















