কুষ্টিয়ায় চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরদ্ধে বিভাগীয় কমিশনার কাছে মেম্বারদের লিখিত অভিযোগ

0
343

নিজস্ব প্রতিবেদক কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিবের বিরুদ্ধে দূর্ণীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার অভিযোগ এনে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, ও কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা’র বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একই ইউনিয়ন পরিষদের ১০ জন ইউপি সদস্য। ইউপি সদস্য ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান নওশের আলী বিশ্বাস ও সাবেক সচিব সুকুমার বিশ্বাসের সাথে কৌশলে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের বরাদ্দ-এলজিএসপি, টিআর, কাবিখা, ইউপি ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন খাল ইজারার অর্থ দুজনে মিলে উত্তোলন করে বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করেছেন। এসব টাকা চেয়ারম্যান নিজের সম্মানী ও ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। চেয়ারম্যান নিজের সম্মানীভাতার প্রায় পুরো টাকা নিয়ে নিলেও ইউপি সদস্যদের সম্মানীভাতার প্রায় পুরোটাই এখনও বাকি পড়ে রয়েছে। ট্যাক্স উত্তোলনের টাকা হতে নামমাত্র টাকা ইউপি সদস্যদের দেওয়া হয়েছে তাদের সম্মানী ভাতা হিসেবে। চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে জন্মনিবন্ধনের বয়স বাড়ানো কমানোসহ টাকার বিনিময়ে বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগী নির্বাচন করার। বিগত এক বছর চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যদের সাথে মিটিং না করেই সদস্যদের সিল বানিয়ে জাল স্বার করে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেন। এলজিএসপির মিটিং, ওয়ার্ড মিটিং, ইউনিয়ন পর্যায়ের মিটিং বাধ্যতামূলক হলেও কোনো মিটিংয়ের তোয়াক্কা না করে সদস্যদের বাদ দিয়ে একক সিদ্ধান্তে সদস্যদের না জানিয়ে বানানো সিল ও জাল স্বার করে প্রকল্প অনুমোদন করেন। এমনকি এসব প্রকল্প ইউপি সচিব চেয়ারম্যানের মনোনীত ৩/৪ জন ঠিকাদারের কাজ চেয়ারম্যান নিজে নিয়ে তার মনোনীত ইউপি সদস্য দিয়ে করিয়ে থাকেন। কিছু কাজ আবার না করেও পুরাতন কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলনেরও অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। আর যেসব কাজ করেন সেই কাজগুলো একেবারেই নিম্নমানের। এসব কাজের ঠিকাদারের নাম ও বরাদ্দ সম্পর্কে অন্যান্য ইউপি সদস্যদের নিকট তথ্য গোপন করে রাখা হয়। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে চেয়ারম্যান আমাদের বরখাস্ত করানোর ভয় দেখান এবং অনেককে আবার কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েও হয়রানি করেছেন। তারা আরও জানান, চেয়ারম্যান নিজে ৫২ মাসের সম্মানীভাতা নিলেও আমাদের দেওয়া হয়েছে ১২ মাসের সম্মানীভাতা। এতো অন্যায় এভাবে মেনে নেওয়া যায় না তাই আমরা ১০ ইউপি সদস্য চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে বাধ্য হয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, ও কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা’র বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। এছাড়াও অভিযোগ আছে, নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে সরকারি যে খাল রয়েছে সেই খালের মাছ নিয়ম ছাড়াই কয়েক ল টাকা বিক্রি করে সেই টাকা চেয়ারম্যান নিজে আত্মসাৎ করেছেন। সম্প্রতি নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের এলজিএসপি-৩ বরাদ্দ বিবিজি ২য় পিবিজি অনুদানের ১৫ ল ঊনসত্তর হাজার টাকা প্রায়। চেয়ারম্যান দুজন সদস্য নিয়ে সেই অর্থ দিয়ে প্রকল্প নির্বাচন, প্রকল্প প্রস্তাব, বিজিসিসি কমিটি প্রেরণ করে সদরপুর মিন্টুর বাড়ি থেকে লিংকনের বাড়ি মুখে সড়ক এইচবিবি করণ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাজ্জাদের বাড়ি থেকে সবদুলের বাড়ি মুখি সড়ক এইচবিবি করণ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চড়াইকোল হাচেন সর্দ্দারের বাড়ি থেকে আজহারের বাড়ি মুখি সড়ক এইচবিবি করণ করেছেন। উক্ত কাজগুলো চলমান থাকা অবস্থায় নিম্নমানের ইট ব্যবহার করার কারনে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা (ডিএফ) এসে কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু রাতের অন্ধকারে এবং শুক্রবার ও শনিবার অফিস বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে ওই সড়কগুলোর কাজ করান। একেবারে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ শেষ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্যরা। অভিযোগ আছে রাস্তাটি ৮ ফিট করার কথা থাকলেও ৭ ফিট রাস্তা করেছেন। বাকি ১ ফিট রাস্তা লেন্থ বাড়িয়েছেন কিন্তু সে পরিমানে বাড়ার কথা সেখানে সে পরিমান না বাড়িয়ে সুকৌশলে রাস্তার শেষে মাত্র ৫০ ফিট বাড়িয়েছেন নিজেকে সৎ প্রমান করতে। এ ব্যাপারে জানতে কুমারখালী নন্দলালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশের আলী বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, আমি এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ হাতে পায়নি। তবে এর আগে কয়েকজন ইউপি সদস্য মৌখিকভাবে আমাকে কিছু অভিযোগ জানিয়েছিলো। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here