মহেশপুরে লকডাউনে মুচি সম্প্রদায় ও তালাচাবি কারিগরদের মানবেতর জীবনযাপন

0
348

সাইফুল ইসলাম,মহেশপুর(ঝিনাইদহ)অফিস ঃ সারা দেশে করোনা ভাইরাসের কারনে থেমে থেমে লকডাউন চলছে। আর এই লকডাউনে কর্মজীবি খেটে খাওয়া মানুষেরা কর্মহী হয়ে পড়েছে। তবে সরকারী ভাবে কিছু কর্মহীন করলেও ভালো নেই আমাদের পায়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জুতা মেরামতের কারিগরা। যাদের আমরা মুচি বলে জানি। গত বছর থেকে এই পর্যন্ত লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে সারা বাংলাদেশের ন্যায় মহেশপুরের মুচি সম্প্রদায়। ঠিক তেমনি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মুচি সম্প্রদায় (যারা জুতা সেলাই করেন)। এই সময়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে উপজেলার শতাধিক মুচি পরিবার। পৌর শহরের মেইন স্ট্যান্ড বলে খ্যাত পুরাতন পৌরসভা অথবা বাজার পায়রা চত্বর,পোস্ট অফিস মোড়, কলেজ বাসষ্ট্যান্ড সহ বিভিন্ন জায়গায় বসে জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন তারা। তবে লকডাউনে কাজ না থাকায় বেশিরভাগ মুচি ঘরে বসে আছেন। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। কেউ কেউ জীবিকার তাগিদে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বসলেও মিলছে না কাস্টমার। অন্যথাই একই ভাবে জীবন যাপন করছেন তালাচাবি ও কাষার হাঁড়ি-পাতিল মেরামতকারীরাও। পৌর বাসষ্ট্যান্ড সহ পুরো এলাকায় অনেককেই মলিন মুখে বসে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। মেইন বাসস্ট্যান্ডে জুতা সেলাইয়ের কারিগর শ্রী দিলীপ কুমার দাস জানান, পৌর এলাকার চা দোকানী,ভ্যান শ্রমিক,পরিবহন শ্রমিক ও দর্জী শ্রমিকদের আর্থিক ভাবে পৌর সভা থেকে সহ যোগিতা করা হলেও আমাদেরকে কেউ কোন আর্থিক সহায়তা করতে আসেনি। ফলে আমরা আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে ঠিক ভাবে দু’বেলা দু’মুঠো ভাতও এখন আর জুটছেনা। শ্রী সুনীল কুমার দাস এর সাথে কথা বললে তিনি জানান,আয় রোজগার তেমন না থাকায় পরিবার নিয়ে দুবেলা খাওয়াটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে কীভাবে এসব সুরা সরঞ্জাম কিনে ব্যবহার করব। আয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। কাজ একদম কম। লকডাউনের কারণে তো আগের মতো মানুষের চলাফেরা নেই। গতকাল মঙ্গলবার সারাদিনে মাত্র ১২২ টাকার কাজ করেছি। তা দিয়ে কি কিনবো। তিনি আরো বলেন,আমাদের বাপ দাদার এই পেশা অনেক কষ্টে ধরে রেখেছি। আমাদের পরিবারে স্ত্রী সন্তান নিয়ে এ কাজ করে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে আমাদের জীবনযাত্রা খুবই করুন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তালা-চাবির মিস্ত্রী আব্দুল মজিদ জানান, আমরা কি দু’বেলা খেলাম আর না খেলাম আমারদের কে দেখবে। আর কেইবা খোজ খবর নেবে আমাদের। পৌর কাউন্সিলর কাজি আতিয়ার রহমান জানান, পৌর মেয়র সাহেব চা দোকানী,ভ্যান শ্রমিক,পরিবহন শ্রমিক ও দর্জী শ্রমিকদের আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। অবশ্য জুতা সেলাইয়ের কারিগর ও তালা মিস্ত্রীদেরকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা করারও দরকার ছিলো। পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান জানান, জুতা মেরামতের কারিগ ও তালা-চাবির মিস্ত্রীরা অল্প দিনের মধ্যেই তাদেরকে আর্থীক ভাবে সাহায্য দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাশ্বতী শীল জানান, প্রথম দিকে আমরা অনেককে আর্থীক ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছি। জুতা মেরামতের কারিগ ও তালা-চাবির মিস্ত্রী ও যারা ঝুড়ি বুনার কাজে করেন তাদেরকেউ অল্প দিনের মধ্যে আর্থীক ভাবে সাহায্য দেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here