মহা দুশ্চিন্তায় কুষ্টিয়ার প্রায় ১৮ হাজার খামারি

0
434

নিজস্ব প্রতিবেদক কুষ্টিয়া : কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মত দেশের বিভিন্ন হাটে বিক্রির জন্য এবার কুষ্টিয়া জেলায় দেড় লাখেরও বেশি গরু ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরু মোটা তাজা করণ এবং ছাগলের কারণে দেশব্যাপী কুষ্টিয়া অঞ্চলের পশুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অন্যান্য বছর ঈদের মাসখানেক বাকি থাকতেই দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ব্যাপারিরা পচ্ছন্দের গরু ছাগল ক্রয়ের জন্য কুষ্টিয়া জেলায় ভিড় করে থাকতে দেখা যেতো। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। কোরবানীর ঈদের সপ্তাহও বাকি নেই আর। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে এখনও ব্যাপারিদের পা পড়েনি এ জেলায়। জেলা জুড়ে চলছে কঠোর লকডাউন। জেলার সব পশু হাটও বন্ধ। এ অবস্থায় কোরবানীর ঈদের জন্য প্রস্তত কৃত বিপুল সংখ্যক পশু নিয়ে চরম দু:শ্চিন্তায় ভুগছেন এখানকার প্রায় ১৮ হাজার খামারিরা। খামার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে এবারও যদি পশু বিক্রি করতে না পারেন তাহলে এ অঞ্চলের হাজার-হাজার খামারিরা একেবারেই পথে বসে যাবেন। তাদের ধারণা করোনার কারণে শেষ পর্যন্ত পশু হাট চালু না হলে এ বছরও বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে তাদের। আর তাই খামারীদের দাবী স্বাস্থ্য বিধি মেনে সীমতি পরিসরে হলেও ঈদের আগে জেলার পশুহাটগুলো খুলে দেওয়া হোক। কুষ্টিয়া জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের তথ্য বলছে, এ বছর কোরবানীর ঈদকে টার্গেট করে জেলায় প্রায় ১ ল ৫১ হাজার গরু ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ৯০ হাজার আর ছাগল ৬০ হাজার। ঈদের বিষয়টি মাথায় রেখে জেলার প্রায় ১৮ হাজার খামারির পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গরু ছাগল পালন করা হয়ে থাকে। অপর দিকে লকডাউনের কারনে মহা বিপদে পরেছে জেলার দুদ্ধ খামারীরা। মূলত গরুর খাটি দুধ থেকে ছানা সংগ্রগ করে হরেক রকম মিষ্টি আর দই উৎপাদন হয়। যা জেলার চাহিদা মিটিয়েও বিভিন্ন জেলাতে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়। কিন্তু দই মিষ্টির দোকান বন্ধ থাকাতে দুধের চাহিদা একেবারেই নেই। যার ফলে খামারীরা হাজার হাজার লিটার দুধ গরু থেকে সংগ্র করে উপর থেকে ক্রিমটা রেখে কেউবা আবার সম্পূর্ন দুধই ফেলে দিচ্ছে। দুদ্ধ খামারীরা বলছেন, ছাল,ভুষি, খড়, বিচালিসহ পশু পালনের সব খাদ্য উপকরণের দাম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। আর এদিকে যদি দুধ বিক্রি করতে না পারায় প্রতিদিনের খাদ্যেও খরচটাও তারা তুলতে পারছেনা। কুষ্টিয়া জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান বলছেন, করোনা মহামারীর কারণে লকডাউনে জেলার সবগুলা হাটই বন্ধ। আর তাই প্রানী সম্পদ অফিসের উদ্যেগো অনলাইন হাট চালু করা হয়েছে। আর মিষ্টর দোকান বন্ধ থাকাতে খামারীরা পড়েছে বিপাকে তবে তাদেরও সরকারী প্রনোদোনার আওতায় আনা হচ্ছে। জেলায় ইতোমধ্যেই অনলাইনে পশু বিক্রি শুরু হলেও অনলাইন পশুহাট সম্পর্কে বেশির ভাগ ক্রেতা খামারীদের ধারনা না থাকায় এনিয়ে বেশ বিপাকে ক্রেতা ও বিত্রেতারা। অপরদিকে দ্রত দুদ্ধ খামারীদেও দুধ সবারহের স্বাভাবিক ব্যবস্থা না হলে পেশা পরিবর্তন করে দুধ উৎপাদন থেকে ফিরে আশার আশংখাও রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here