করোনা মহামারিতে সচেতনতাবৃদ্ধিসহ ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমে যশোর রেড ক্রিসেন্ট যুব ইউনিটের সদস্যদের ভুমিকা অনস্বীকার্য

0
315

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা মহামারি মোকাবিলায় যশোর রেড ক্রিসেন্ট যুব ইউনিটের সদস্যরা জীবন বাজি রেখে মানুষের সেবার যে ব্রত সৃষ্টি করেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এই মহামারিতে যখন আপনজন স্বজনরা কোন রোগীর পাশে যেতে সাহস পাচ্ছে না তখন নির্ভয়ে সাহায্য আর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে রেড ক্রিসেন্ট যশোর ইউনিটের যুব সদস্যরা। অকুতোভয় এসব সদস্যরা খেয়ে না খেয়ে অসহায় মানুষের পাশে যে ভাবে সাহায্য আর সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে রাত দিন কাজ করছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। যশোরের জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের একজন হয়ে নানা দুর্যোগে মানুষের পাশে যে ভাবে যশোর রেড ক্রিসেন্টের সদস্য-সদস্যারা কাজ করছে তার মহত্ব বর্ণনা করার মতো ভাষা আমার জানা নেই। সত্যিকার অর্থে এই করোনা মহামারিতে যে ভাবে সর্বস্তরের মানুষের পাশে সাহায্য আর সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা কাজ করছে তা শুধু যশোরের মানুষ নয়, যশোর জেনারেল হাসপাতালে আগত সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। একান্ত সাক্ষাতকারে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার আক্তারুজ্জামান এসব কথা বলেন । তিনি বলেন, যশোর রেড ক্রিসেন্টের যুব ইউনিটের সহায়তা ছাড়া আমার নিজস্ব জনবল দিয়ে যশোরের মানুষের করোনা টিকা প্রদানের কার্যক্রম সঠিক ভাবে সম্পন্ন করা দুরুহ ব্যাপার ছিল। এমনিতেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে জনবল সংকট চরমে। হাসপাতালের বিভিন্ন সেক্টরে জনবল সংকটে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানেই হোচট খেতে হচ্ছে, সেখানে করোনা টিকা প্রদানের জন্য বাড়তি জনবল ম্যানেজ করা সত্যিই কঠিন ছিল। যশোর প্রেস কাবের সভাপতি ও যশোর রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান টুকুন করোনা কমিটির সভায় এই সংকট সমাধানে তার সহায়তার কথা উল্লেখ করেন। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে তিনি রেড ক্রিসেন্ট যুব কমিটির সদস্যদের মোতায়েন করেন। সেই থেকে আজ অবধি নিরলস ভাবে যশোর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব ইউনিটের সদস্যরা কাজ করছে। করোনা টিকা প্রদান থেকে শুরু করে করোনাক্রান্ত মানুষের সেবা প্রদান, করোনা সংক্রমন রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অভূক্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, করোনা আক্রান্তদের বাসাবাড়িতে ফ্রি অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া, ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস প্রদান থেকে শুরু করে যখন যেখানে যা দরকার তা নিরবে করছে যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা। খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, করোনা -১৯ মহামারির শুরু থেকে যশোর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব ইউনিট যশোরের জেলা প্রশাসনের সহযোগী ইউনিট হিসেবে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে। এছাড়া করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানের জন্য ইউনিটের সদস্যরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালে পালাক্রমে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ শুরু করে। এছাড়া সরকারী বিভিন্ন দপ্তরেও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে যুব ইউনিট সদস্যরা। এই বিষয়ে এই ইউনিটের চীফ প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, যশোর রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান টুকুনের নেতৃত্বে যুব ইউনিটের ৯০ জন সদস্য সার্বক্ষনিক কাজ করছে। এর মধ্যে ৩০-৩২ জন নারী কর্মীও রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মানুষের সেবার ব্রত নিয়ে কাজ করছি। আমাদের যুব ইউনিটের অধিকাংশ সদস্যই ছাত্র। পড়াশুনার পাশাপাশি মানুষের সেবার ব্রত নিয়ে আমি ৮/১০ বছর আগে যশোর রেড সিক্রেন্ট ইউনিটের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলাম। সেই থেকে শুরু । কোন কিছু পাওয়ার আশায় নয়, মানুষ হয়ে মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল তা আজও অব্যাহত আছে। মেহেদী হাসান বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য” – এই ব্রত নিয়ে আমরা যুব ইউনিট সদস্যরা সর্বদা কাজ করছি।
যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের সদুল্লাহপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক শহিদুল ইসলামের ৩ সন্তানের মধ্যে মেহেদী হাসান দ্বিতীয়। ছোট বেলা থেকেই চঞ্চল প্রকৃতির মেহেদী গ্রামের স্কুল থেকে ৮ম শ্রেণী পাশ করে। পরে যশোর সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়। টেকনিক্যাল লাইনে এসএসসি ভোকেশনাল পাশ করার পর একই প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সাইন্সে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার কোর্সে ভর্তি হন। এখানে অধ্যায়নরত অবস্থায় যশোর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে জেটিএসসিতে ফ্রি ব্লাড ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এই ফ্রি ব্লাড ক্যাম্পের এক জন ডোনার ছিলেন মেহেদী। তিনি একজন মুমুর্ষ থ্যালাসেমিয়া রোগীকে রক্ত দান করেন। এই ক্যাম্পের মাধ্যমে তিনি রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হন। পরে তিনি স্বেচ্ছায় রেড ক্রিসেন্টের হয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে রেড ক্রিসেন্ট যশোর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান টুকুনের হাত ধরে তিনি যুব ইউনিটের সদস্য পদ লাভ করেন। সেই থেকে শুরু । আজও তিনি যুব ইউনিটের একজন হয়ে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে প্রকৌশলী মেহেদী যুব ইউনিট যশোর কমিটির টিম লিডার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ সরকারের সহযোগী সংগঠন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স টিম এর একজন অন্যতম সদস্য প্রকৌশলী মেহেদী হাসান। তিনি দীর্ঘ দিন সরকারী টিমের একজন সদস্য হিসেবে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করেছেন। এছাড়া আম্পান, নার্গিস, ফণি, ইয়াসসহ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘুর্ণিঝড়, সাইকোন ও জলোশ^াসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারী ত্রাণ ও পূর্ণবাসন টিমের সাথে কাজ করেছেন। তিনি পটুয়াখালী, কলাপাড়া, ক্ষেপুপাড়া, পিরোজপুর, বাগেরহাট শরণখোলা, মোংলা, সুন্দরবন উপকুল, খুলনা, কয়রা, সাতক্ষীরা, শ্যামনগর, মুন্সিগঞ্জসহ বন্যা দূর্গত এলাকার মানুষের ত্রাণ কার্য সম্পাদনে ও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ গ্রহণ করেছেন।
এদিকে করোনা মহামারি আকার ধারণ করলে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মতো যশোর রেড ক্রিসেন্টের যুব ইউনিটের সদস্যরা স্বেচ্ছায় রাস্তায় নেমে আসে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবার প্রত্যয় নিয়ে। করোনা সচেতনতা বৃদ্ধিতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহযোগী হিসেবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মাক্স বিতরণ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ থেকে শুরু করে ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাজ করে যুব ইউনিটের সদস্যরা। এছাড়া করোনা রোগীদের সেবা প্রদান, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা, খাবার বিতরণ করা, নগদ অর্থ বিতরণ করা, অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে করোনা সংক্রমন রোধে সব ধরনের কার্যক্রমে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করে যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা। সর্বোপরি করোনা ভ্যাকসিন প্রদানে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিসহ ভ্যাকসিন গ্রহনে তাদের সার্বক্ষনিক সহায়তা প্রদান করছে রেড ক্রিসেন্ট যুব ইউনিটের সদস্যরা। ইউনিট চীফ প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম যশোর জেনারেল হাসপাতালে করোনা ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনায় সার্বক্ষনিক স্বাস্থ্য বিভাগকে সহায়তা করছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুব ইউনিট সদস্যরা রোদ বৃষ্টি উপক্ষো করে স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে কাজ করছে সাধারণ মানুষকে সুস্থ রাখার স্বার্থে। যুব ইউনিটের কর্মকান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেন যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার আবু শাহীন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের একার পক্ষে এই ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ ছিল না, যদি না রেড ক্রিসেন্টের যুব ইউনিটের সদস্যরা সার্বক্ষনিক সহায়তা না করতো। যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগ যশোর রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঋণী । তাদের কর্মীরা যে ভাবে রাত দিন করোনা রোগীদের সেবা করছে তা বর্ণনাতীত। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের নার্সিং ইন্সটিটিউটের টিকাদান কেন্দ্রে সরেজিমন পরিদর্শনে দেখা যায়, রেড ক্রিসেন্ট যুব ইউনিটের সদস্যরা প্রবেশ মুখে টেবিল চেয়ার নিয়ে বসে আগন্তক টিকা গ্রহনকারীদের হাসিমুখে অভিবাদন জানাচ্ছেন। তাদের হাতে থাকা টিকা কার্ড গুলো নিয়ে সযতেœ প্রাথমিক এন্ট্রিসহ যাবতীয় কাজ অবলীলায় সম্পন্ন করছেন। এর পর একটু সামনে দাঁড়িয়ে যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা আগন্তুক টিকা গ্রহনকারীদের তথ্য প্রদান করে টিকা প্রদান কক্ষে যেতে সহায়তা করছেন। এছাড়া করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য নির্ধারিত কক্ষ গুলোতে স্বাস্থ্য কর্মী বিশেষ করে নার্সদের পাশাপাশি চেয়ারে বসে যুব ইউনিটের সদস্যরাও স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন। টিকা প্রদানের পর পরবর্তী টিকা গ্রহনের তারিখসহ নানাবিধ তথ্য টিকা কার্ডে লিপিবদ্ধ করে তা টিকা গ্রহণকারীদের হাতে সরবরাহ করছেন। এছাড়া টিকা গ্রহনের আগে গ্রহণকারীদের লাইনে দাঁড় করানোসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে পুলিশের পাশাপাশি যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা কাজ করছেন। রোধ বৃষ্টি উপক্ষে করে স্বেচ্ছায় এমন কাজের নজির খুব বেশি পাওয়া যাবে না বলে জানালেন যশোর ঈগল পরিবহনের স্বত্বাধিকারী পবিত্র কাপুড়িয়া। তিনি জানান, করোনার টিকা নিতে এসে রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদের আচার ব্যবহারে আমি মুগ্ধ। তারা খুব সহজে যে ভাবে এই সেবা প্রদানে সহায়তা করছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। যশোরের রূপদিয়ার গোলাম আলী বলেন, এখানে আসার পর থেকে শেষ অবধী রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা যে ভাবে সুশৃঙ্খলভাবে সবাইকে সাহায্য ও সহযোগিতা করছে তা দেখার মতো। তিনি যুব রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যদের ভূয়ষী প্রশংসা করেন। ঘোপের গুলবাগের ইরমাক হোসেন বলেন, আমরা যারা করোনার ভ্যাকসিন নিতে এসেছি প্রথমে একটু ভয় ভয় কাজ করছিল। কিন্তু রেড ক্রিেেসন্টের সদস্যদের অভয়বাণী আমাদের সাহস যুগিয়েছে। সাতমাইল বারী নগরের নজরুল ইসলাম স্বস্ত্রীক করোনার টিকা দিতে এসেছেন। তার অনুভুতি হচ্ছে ,“ চমৎকার। যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্য – সদস্যারা খুব সহজে তাদের টিকা গ্রহনের কার্যক্রমকে সহজ করে দিচ্ছে। নার্সরা তো শুধু টিকা দিয়েই শেষ। আর বাকি কাজ সবই করছে রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা। এক কথায় যশোর নার্সিং ইন্সটিটিউটে আগত করোনা টিকা গ্রহণকারী সকলেই যুব রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যদের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার আক্তারুজ্জামান বলেন, যশোর জেনারেল হাসপাতালের নার্সিং ইন্সটিটিউটে করোনা টিকাদান কার্যক্রম সার্বিক ভাবে দেখভাল করছে রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা। আমার লোকেরা শুধু মাত্র রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্নকারীদের টিকা দিচ্ছে। কিন্তু তাদের স্বাক্ষর গ্রহণ, মোবাইল ম্যাসেজ সংক্রানস্ত জটিলতা, ডেট নিয়ে জটিলতা, লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে জটিলতা, টিকা কার্ডে তারিখ ও ডোজ এন্ট্রিসহ যাবতীয় কাজ করছে রেড ক্রিসেন্টের যুব ইউনিট সদস্যরা। আর এই ইউনিটের প্রধান হিসেবে মেহেদী হাসান দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। তার কর্মকান্ডে আমিসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা খুশি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here