স্টাফ রিপোর্টার ॥ শাহাআলম মোল্লা থাকেন যশোর শহরের বারান্দী মোল্যা পাড়ায়। ৪৫ বছরের শাহাআলম এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। লকডাউনের মধ্যে ভাড়ায় ভ্যান চালিয়ে খেয়ে না খেয়ে পরিবার নিয়ে দিনাতিপাত করছিলেন। বিনামূল্যে ভ্যান পাওয়ার খবরে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভ্যানের উপর বিভিন্ন প্রকার সবজি বিক্রি করে সংসার চালাবেন। লকডাউনেও তার এ ব্যবসা করতে সমস্যা হবে না। সে নির্বিঘ্নে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় সবজি ফেরি করে বিক্রি করতে পারবে। তাতে তার সংসারের চাকা সচল হবে। ভ্যান গাড়ি হাতে পেয়ে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে সে তার আশা এভাবে ব্যক্ত করেন।
শাহআলমের মত দেলোয়ার, কালাচান, সৌরব, রফিকুল, রিমন, জাহাঙ্গীর ও রমজান আলির একটাই কথা দিন শেষে ভাড়া ভ্যানে ৫০টাকা দিতে হত। লকডাউনের মধ্যে ২শ’ টাকা রোজগার করাই ছিল কষ্টকর, তার পরে আবার ভ্যান ভাড়া ৫০ টাকা। স্ত্রী সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে সবাইকে হিমশিম খেতে হয়েছে। সবাই আশাবাদি, নিজের ভ্যান চালিয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলতে পারবে। এই সমস্ত সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফুটালো বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন। গতকাল দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে রেডক্রিসেন্ট যশোর ইউনিট চত্তরে আটজন হত দরিদ্রের মঝে বিনামূল্যে ভ্যান বিতরন করেন সেভিয়ার যশোরের নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন এর পরিচালনা পরিষদের নির্বাহী সদস্য জাহিদ হাসান টুকুন। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন’র অর্থায়নে প্রেরণা মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার বাস্তবায়নে দারিদ্র বিমোচনের লক্ষে এ ভ্যান বিতরন করা হয়। ভ্যান তৈরীসহ অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন সেভিয়ারের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাইফুদ্দিন আহমেদ। ভ্যান বিতরন অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগীদের উদ্যেশ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেরনা মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কানন চক্রবর্তী, সমাজ সেবক শাহজাহান নান্নু প্রমুখ।
উল্লেখ্য গত জুন মাসের ১৯ তারিখে সুবিধাবঞ্চিত আরো আটজনের মধ্যে দারিদ্র বিমোচনের লক্ষে ভ্যান বিতরন করা হয়।















