ঝিনাইদহে গা ঢাকা দিয়েছেন ভূইফোড় সংগঠনগুলি

0
295

আলাউদ্দিন ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ শহরে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ, প্রজন্ম লীগ, তরুন লীগ, জয় পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা লীগ, প্রচার লীগ, তথ্য প্রযুক্তি লীগ, বিশ্ব মুজিব সেনা ঐক্য পরিষদ, অনলাইন লীগসহ অসংখ্য সংগঠনের কার্যক্রম ও ব্যানার বিলবোর্ড হরহামেশা চোখে পড়ার মত ছিল। বর্তমানে সেগুলো আর চোখে পড়ে না। তবে মুল দলটির জেলা পর্যায়ের নেতারা এ বিষয়ে জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অশোক কুমার ধর বলেন, ঝিনাইদহে এধরনের কোন ভূইফোঁড় সংগঠনই সুবিধা করতে পারেনি। তিনি বলেন, আমাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন হল, ছাত্রলীগ,যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ,কৃষক লীগ,তাতী লীগ,জাতীয় শ্রমিক লীগ ও বর্তমানে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ ছাড়া আর অন্য কোন সংগঠন আওয়ামী লীগের নয়। তিনি বলেন, এদের কোন কিছুতেই আওয়ামী লীগের কোন দায়বদ্ধতা নেই। এর মধ্যে অনলাইন লীগ ও বিশ্ব মুজিব সেনা ঐক্য পরিষদ, অনলাইনে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচার-প্রচারণা চালায় ফেসবুকে।এই সংগঠনের বেশির ভাগই প্রবাসী। এই সংগঠন গুলোর বিরুদ্ধে সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন সরকারী অফিস থেকে সুবিধা আদায়, মামলা থেকে বাঁচতে ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। সুত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা থেকে এসে মহিউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি তথ্য প্রযুক্তিলীগ নামে একটি সংগঠন খুলে নিজেকে ঐ সংগঠনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দাবি করে দাপিয়ে বেড়াতেন বিভিন্ন দপ্তরে।টাঙাতেন বিলবোর্ড,পোস্টারও। পৃষ্টোপোষকতা না থাকায় ঝিনাইদহ থেকে নিস্কৃয় হয়ে গেছে তরুণ লীগ ও প্রজন্ম লীগ নামের সংগঠন। এছাড়াও ঝিনাইদহের বড় মাপের একটি এনজিও সৃজনী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হারুন-অর রশীদ প্রথমে বিএনপি,পরে জাতীয় পার্টি এবং সবশেষে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের বিলবোর্ড টাঙ্গান শহরের বিভিন্ন জায়গায়। সুত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ নামের একটি সংগঠন নিয়ে ঝিনাইদহ ও ঢাকার বিভিন্ন সচিবালয়ে দঁড়িয়ে বেড়াচ্ছেন শাহানুর খাতুন শানু নামের এক মহিলা। সে জেলার মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদিনের মেয়ে।শানুর চাচা অমেদ আলী ইউনিয়ন বিএনপির কট্টর পন্থি নেতা। বাবা রাজনীতি না করলেও চাচার সুনাম রয়েছে বিএনপিতে। জানা গেছে, তিনি ঝিনাইদহ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাতীয় সংসদের সংরতি আসন-২৭ এর বর্তমান সদস্য খালেদা খানমের হাত ধরে বছর খানেক নাম লিখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদে। সংগঠনটির ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি খালেদা খানমের স্বামী মনিছুর রহমান কারু। এদিকে শানু আগামীতে মহেশপুর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হচ্ছেন বলে মহেশপুর উপজেলায় সাড়া ফেলেছেন তিনি।বছর খানেকের মধ্যেই তিনি বেশ জনপ্রিয় হয়ে গেছেন উপজেলাতে। ইদানিং ঐ আসনের সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বেস কিছু প্রোগ্রামে তাকে দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। এলাকায় তিনি টিউবয়েল বিতরণসহ বেশ কিছু সেবা মূলক কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন। এবিষয়ে মহেশপুরের পান্তাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ৫০ বছরের সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক মাস্টার প্রতিবেদককে বলেন, শাহানারা খাতুন শানু পান্তাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে। এরপর সে ঢাকার একটি বায়িং হাউসে চাকরি করে বলে শুনেছি। তিনি বলেন, শানুর বাবা সক্রিয় কোন দল না করলেও তার চাচা অমেদ আলী কট্টরপন্থি বিএনপি বলে আমরা জানি। পান্তাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন জানান,শানুর গ্রামের বাড়ি তার বাড়ির পাশেই। শানু ১ বছরের বেশি আওয়ামী লীগের প্রোগ্রামে যোগ দিচ্ছেন। পরিবারের লোকজন রাজনীতি করেন না। শানুর বিয়ে হয়েছিল। তার স্বামী রংপুরের একটি এনজিওতে চাকরি করতো বলে জানতাম। তাদের একটি ছেলেও আছে। এলাকায় তার কোন বদনাম নেই। এদিকে জেলা মহিলা লীগের সভাপতি নুরজাহান বেগম শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারণে সংগঠনটির একক নেতৃত্ব এখন মহিলা এমপি খালেদা খানমের হাতে। এবিষয়ে মহিলা লীগের সভাপতি সাবেক এমপি নূর জাহান বেগম বলেন, আমি অনেক দিন হলো শারীরিকভাবে অসুস্থ।যে কারণে মহিলা আওয়ামী লীগ নিস্কৃয় হয়ে পড়েছে। এখন সাংগঠনিক কোন কার্যক্রম নেই বললেই চলে।তবে মহেশপুর আওয়ামী লীগের প্রোগ্রামে নতুন মুখ কে এই শানু ? এমন প্রশ্ন ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের অনেকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে জেলা শাখার সভাপতি নুরজাহান বেগম শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারণে মহিলা এমপি খালেদা খানম একক ভাবে নেতৃত্ব দিলেও চোখে পড়ছে না মহিলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম।এছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবীলের টাকা তুলে নেওয়া,কলেজে নিয়োগ বাণিজ্য, আলিয়া মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে হয়েছেন সংবাদের শিরোনাম। ঝিনাইদহ জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ সালমা ইয়াসমিন বলেন, ১/১১ এর সময় থেকেই আমি রাজপথে আছি।মহিলা আওয়ামী লীগ,যুব মহিলা লীগ করতে অনেকেই আসে আবার কয়েক দিন পর হারিয়ে যায়। তবে অনেকেই নিজেদের সৌন্দর্য-গুন দিয়ে কিছু দিনের মধ্যেই জায়গা করে বসলেও স্বার্থ হাসিল হলে আবার তারা হারিয়ে যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here