স্টাফ রিপোর্টার : করোনা মহামারীতে স্বজনহারা ১৫০টি পরিবারদের মাঝে জেলা প্রশাসনের প থেকে অনুদান দেয়া হয়েছে । যশোরের জেলা প্রশাসক মো: তমিজুল ইসলাম খান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকে প্রত্যেক পরিবারের হাতে সোনালী ব্যাংক এবং এনসিসি ব্যাংক এর সৌজন্যে নগদ চার হাজার টাকা তুলে দিয়েছেন ।
মহামারি করোনায় সবচেয়ে তিগ্রস্থ এসব পরিবারের সদস্যরা নগদ টাকা পেয়ে আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েন । তারা জানান, পরিবারের কোন সদস্য মারা গেলে সরকারের প থেকে কোন ধরণের আর্থিক অনুদানের কথা চিন্তাও করেন নি । তবে অনেকেই উপজেলা প্রশাসন হতে বিভিন্ন সহায়তা পেয়েছেন । করেনায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাদের অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়েছে । তারপরেও পরিবারের সদস্যটিকে বাঁচাতে পারেননি । সব হারিয়ে তারা সর্বশান্ত হয়েছেন । জেলা প্রশাসনের অনুদান পেয়ে তারা মনের জোর খুঁজে পেয়েছেন ।
অনুদান বিতরণকালে জেলা প্রশাসক মো তমিজুল ইসলাম খান বলেন, করোনায় তিগ্রস্থ পরিবারগুলো কেমন আছেন তা জানতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । আমনা তাদের পাশে রয়েছি । এদের মধ্যে যারা সহায়তা পাওয়ার যোগ্য রয়েছেন তাদেরকে নগদ অনুদান দেয়া হচ্ছে । তাদের প্রতি আমাদের সহায়তার হাত সব সময়ই সম্প্রসারিত থাকবে । ভবিষ্যতেও আমরা সব ধরণের সহযোগিতা অব্যহত রাখবো ।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান জানান, করোনায় সরাসরি তিগ্রস্থদের মধ্যে বিতরণের জন্য সিএসআর কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোনালী ব্যাংক সাড়ে ৬ লাখ টাকা ও এনসিসি ব্যাংক ৫ লাখ টাকা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছিল । সেই অর্থ যশোরের একশো রিকশা ও ইজি বাইক চালক, পঞ্চাশজন জুতার কারিগরসহ করোনায় তিগ্রস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে । সোনালী ব্যাংকের অর্থে প্রত্যেক ব্যক্তিকে দুই হাজার টাকা করে নগদ দেয়া হয়েছে । এছাড়াও সোনালী ব্যাংকের অর্থের সাথে আরো দুই হাজার টাকা যুক্ত করে মোট চার হাজার টাকা করোনায় মৃত ব্যক্তির পরিবারকে দেয়া হলো ।
কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল গ্রাম থেকে অনুদান নিতে এসেছেন রাবেয়া বেগম । তার স্বামী মো শহিদুল ইসলাম করোনায় মারা গেছেন । শহিদুল পেশায় কৃষক । তার দুই স্ত্রী । প্রথম স্ত্রী রাবেয়া বেগমের দুই ছেলে । এরা ছোট । এখনো সংসারের হাল ধরার মতো বড় হয়নি । রাবেয়া বেগম জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর অনেক কষ্টে রয়েছি ।এখন নিজেই পরের ভুঁইতে কাজ করি । এ টাকাগুলো পেয়ে আমার বড় উপকার হয়েছে৷
গত ২৫ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে যশোরে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের আইসিইউতে মারা গেছেন বাঘারপাড়ার গাইদঘাট গ্রামের কৃষক মনিন্দ্র মণ্ডল (৫০) । তার পুত্র খাজুরার শহীদ সিরাজ উদ্দীন হোসেন কলেজে এইচএসসিতে পড়ুয়া জয়কুমার এসেছেন জেলা প্রশাসনের অনুদান নিতে । জয়কুমার বলেন, আমার বাবাই সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল । তিনি মারা যাওয়ায় আমরা বিপদে পড়ে গেছি । ছোট ভাই কাস সিক্সে পড়ে । বাবা মারা যাওয়ার আগে সারের দোকানে কিছু দেনাও রয়েছে । এই সময় জেলা প্রশাসনের অনুদান অনেক বড় প্রাপ্তি ।
অনুদান প্রদানের অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার এস. এম. মুনিম লিংকন, সোনালী ব্যাংক যশোর কালেক্টরেট শাখার ব্যবস্থাপক মো মনিরুজ্জামান ও প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন ।















