এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি : কেশবপুরে গত ৫ দিনে কুকুরের কামড়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন ২২ শিশুসহ ৩৪ জন। শিশুরা কুকুরের নৃসংশতার শিকার হওয়ায় উপজেলা ব্যাপী আতঙ্ক বিরাজ করছে। হঠাৎ কুকুরের আক্রমন বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের বাড়ির বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। শিশুরা কুকুরের কামড়ে রক্তাক্ত জখম হওয়ায় অভিভাকরাও উদ্বিগ্ন সময় পার করছেন। কুকুরের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্কুলগামী ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে অভিভাকরাও হাতে লাঠি নিয়ে যাতায়াত করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আক্রান্ত শিশুদের ভেতর ৫ জনের অবস্থা গুরুত্বর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেলকাটি গ্রামের তরিকুল ইসলামের স্ত্রী সালমা (৩৫), হরিশপুর গ্রামের গোলাম শেখের ছেলে আব্দুল খলিল শেখ (৫৪), বেগমপুর গ্রামের আমিনুরের ছেলে তাহসিন (৭৬), সাইফুল্লাহর ছেলে আলামিন (৮), হোসেন আলীর ছেলে মোজাহিদ (৫), কড়িয়াখালী গ্রামের করিমের ছেলে আয়ূব আলী (৩৫), কমলাপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী জেবুনেছা (৫০), শিকারপুর গ্রামের আলমগীরের ছেলে ইসরাফিল (১১), ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের রাশেদ আলীর ছেলে আবু মুসা (৩), রসুলপুর গ্রামের ছামসুর রহমানের স্ত্রী সুফিয়া (৪০), আব্দুস ছাত্তারের ছেলে আব্দুস সামাদ (৬০), নছিম মোড়লের ছেলে হাবিবুর (৩৫), নতুন মূলগ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে আশিকুর রহমান (৭) আলতাপোল গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে ইমামুল হাসান (৯), কর্ন্দর্পপুর গ্রামের হাসান আলীর ছেলে রিফাত (৭), মুলগ্রামের সনজিৎ মন্ডলের ছেলে রাহুল মন্ডল (৭), কড়িয়াখালি গ্রামের সবুজ হোসেনের ছেলে জিয়াদ (১১), হাজরাকাটি গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে রাজিবুল হোসেনকে (৫), শাহাপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬), কেশবপুর গ্রামের রাশেদুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল (১০), চালুয়াহাটি গ্রামের নাজিমুদ্দিনের ছেলে তাসকিন (৬), সারুটিয়া গ্রামের খাইরুল মোল্লার ছেলে রিয়াদ (৫), পাচুড়িয়া গ্রামের মোশারফ হোসের ছেলে তানজিম (৬), পাঁচবাকাবর্শী গ্রামের ওয়াদুদ হোসেনের ছেলে ইসহাক (১০), ব্যাসডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মতির ছেলে আলিফ হাসান (১০), পাঁচবাকাবর্শী গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে সাকিবুল (৭), রতনদিয়া গ্রামের আবু সাইদের ছেলে ফয়সাল (১১), কায়েমখোলা গ্রামের আব্বাস গাজীর ছেলে আব্দুল গফুল, ভান্ডারখোলা গ্রামের সামছুর মোড়লের ছেলে হুসাইন (৩), ফতেপুর গ্রামের হুসাইনের স্ত্রী রিজিয়া খাতুন (৭০), নরনিয়া গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে সিয়াম (৪৬), বানাইডাঙ্গা গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে মারিয়া (১২), আগরহাটি গ্রামের আল মামুনের ছেলে জমি (৫), ভরতভায়না গ্রামের লুৎফর শেখের ছেলে জব্বার শেখ (৪৫), আটঘরা গ্রামের শাহাজানের স্ত্রী ফজিলা (৩৫) কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছে।
উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম বলেন, হঠাৎ উপজেলা ব্যাপী বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণ বেড়ে গেছে। সম্প্রতি তার ছেলে রাকিব হোসেনকে (১৫) একটি বেওয়ারিশ কুকুরে কামড়িয়ে আহত করে। বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে মানুষ ছাড়াও গরু-ছাগল আহত হচ্ছে। তাছাড়া হাঁস-মুরগী ধরে খেয়ে ফেলছে। কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন বলেন, ক্ষিপ্ত কুকুরের ভয়ে গ্রামের শিশু ও নারীরা বাড়ির বের হতে ভয় পাচ্ছে। এলাকার অভিভাবকরা কুকুরের আক্রমন থেকে স্কুলগামী ছেলে-মেয়েদের রক্ষা করতে লাঠি হাতে নিয়ে যাতায়াত করছেন। এলাকায় কুকুর আতঙ্ক বিরাজ করছে। উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, কুকুর বিভিন্ন ভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণির উপর আক্রমন করে। তাছাড়া প্রজনন সময়ে কুকুর বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। কুকুর জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ১৪ দিনের ভেতর মারা যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন বলেন, কুকুর বা অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসা রোগিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিশেধকের অভাব নেই। কুকুরের কামড়ে শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।















