চৌগাছায় মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের চাপট দিয়ে কুপিয়ে জখম!

0
278

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছায় মসজিদে নামাজ পড়ানো নিয়ে বিরোধ ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের শিশু শিক্ষা কার্যক্রমের ব্লাকবোর্ড নিয়ে ইমামের সাথে দ্বন্দ্বের জেরে নামাজরত মুসল্লিদের উপর হামলার ঘটনায় নারী, মুক্তিযোদ্ধা, ইমামসহ উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মাগরিবের নামাজ চলাকালীন উপজেলার ধুলিয়ানী গ্রামের নতুন মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। এসময় চাপট (গোস্ত কাটার কাজে ব্যবহৃত বিশেষ ধারালো অস্ত্র) দিয়ে কুপিয়ে ইমাম, ভারপ্রাপ্ত ইমাম, মসজিদের জমিদাতা এক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও নারীদের রক্তাক্ত করেছে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়রা জানান ইমাম মোমিনুর রহমানের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক আছে। এজন্য তাঁকে মসজিদ নামাজ পড়ানো থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরে একমাস আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছফির উদ্দিনের জমিতে নতুন মসজিদ তৈরি হয়। সেই মসজিদে মোমিনুরকে ইমাম নিযুক্ত করা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। এরমধ্যে শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পুরাতন মসজিদে থাকা ইসালামী ফাউন্ডেশনের শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের একটি ব্লাকবোর্ড নতুন মসজিদে নিয়ে আসেন। এনিয়ে সকালে মোমিনুরকে মারপিট করে একপক্ষ। বিকালে সেইপক্ষকে মারপিট করে নতুন মসজিদ তৈরি করা পক্ষ। এর জেরে মাগরিবের নামাজরত অবস্থায় নতুন মসজিদে প্রবেশ করে ইমাম ও মুসল্লিদের চাপট দিয়ে কোপানো হয়। এসময় নারীরা বাধা দিতে আসলে তাঁদেরও চাপট দিয়ে কুপিয়ে ও রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়।
আহতরা হলেন, ধুলিয়ানী গ্রামের জান আলী (৪০), সামসুর রহমান (৫২), মোছাঃ জোসনা (৫৫), হাবিবুর রহমান (৬০), রফিকুল ইসলাম (৩৫), আসাদুল ইসলাম (৪৫) তার ছেলে আবু শামা (২৫), ইমাম মোমিনুর রহমান (৪৩), মোছাঃ রেখা (৩৫), মোছাঃ নয়নতারা (৪০), যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছফির উদ্দিন (৭০), আল আমিন (৫২), মোছাঃ রাহাতন নেছা (৫০), তার ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৬), ভারপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলাম (১৮)।
চৌগাছা হাসপাতালে আহত ইমাম মোমিনুর রহমান বলেন, কিছু বিষয় নিয়ে তাঁেদর সাথে আমার বিরোধ রয়েছে। থানায় তাঁদের নামে অভিযোগও করেছি। আমি ইসলামী ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক। ওই মসজিদে শিক্ষা কেন্দ্রের ব্লাকবোর্ড ছিলো। কয়েকদিন আগে আমাদের উপজেলা সুপারভাইজার এসে আমাকে ব্লাকবোর্ডের বিষয়ে জানতে চান। আমি সেখানকার ইমামের সাথে কথা বলে শনিবার ছাত্র পাঠিয়ে ব্লাকবোর্ড নতুন মসজিদে নিয়ে আসি। একারনে রবিবার সকালে ছাত্র পড়ানোর সময় গ্রামের শামসুল, নাসির, পিন্টুরা আমাকে মারপিট করে। তার জের ধরে সন্ধ্যায় তাঁদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। আমরা মাগরিবের নামাজে দাড়ালে নামাজরত অবস্থায় গ্রামের শামসুল, আশাদুল, আবুশামা, রফিকুলদের নেতৃত্বে আমাদের মারপিট করে আহত করে। তাঁরা চাপট দিয়ে কুপিয়ে নারী, মসজিদের জমিদাতা যুদ্ধাহত বীর মুক্তযোদ্ধা ছফির উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত ইমাম সাইফুল এবং মুসল্লিদেরও কুপিয়ে যখম করে।
আহত নারী রাহাতন, নয়নতারা ও রেখা বলেন, গ্রামের মসজিদ আমরা তৈরি করেছিলাম। সেখান থেকে ইমাম মোমিনুরকে অপবাদ দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। আমরা মাসখানেক আগে আরেকটা মসজিদ তৈরি করি। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা ছফির উদ্দিন জমি দিয়েছেন। এখন চটার (নতুন) মসজিদে বেশি মুসল্লি হচ্ছে বলে তাঁরা আমাদের নারী ও পুরুষদের কুপিয়ে যখম করেছে। নামাজরত মুসল্লিদের এভাবে চাপট দিয়ে কুপিয়ে জখম কোন মানুষ করতে পারে?
তাঁরা বলেন, আমাদের স্বামী-সন্তানরা নামাজে দাড়ানোর সময়ই আমরা তাঁদের চাপট হাতে দেখে এগিয়ে যাই। একারণে আমাদেরও মারপিট করেছে।
চাপট দিয়ে কোপানোর অভিযুক্ত আবু শামা সামান্য জখম নিয়ে হাসপাতালে আসলেও এবিষয়ে কোন কথা বলতে চাননি। মোবাইলে কথা বলাসহ সব কিছু করলেও যখনই তাঁর কাছে মারামারির বিষয়ে জানতে চাইলেই তিনি বলছিলেন আমার মাথা যন্ত্রণা করছে। কিছু বলতে পারছিনা। তবে হাসপাতালে ভর্তি তাঁর বাবা আসাদুল ইসলাম বলেন, ইমাম মোমিনুরের গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর পরকিয়ার সম্পর্ক আছে। এ নিয়ে বিচারও হয়। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন এসব আর করবেন না। তবুও তিনি পরকিয়া না ছাড়ায় তাঁকে মসজিদ থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। পরে তাঁরা আরেকটি মসজিদ করেন। শনিবার মসজিদ থেকে ব্লাকবোর্ড নিয়ে আসেন। তিনি বলেন ব্লাকবোর্ড গ্রামের সবার। তিনি কেন তা নিয়ে যাবেন? এটা জানতে চাওয়ায় বিকেলে আমিসহ কয়েকজনকে তাঁরা মারপিট করেন। সন্ধ্যায় এ নিয়ে আরো মারামারি হয়। তিনি বলেন ওরা মহিলাদের লেলিয়ে দিয়েছে।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। তিনি আরও বলেন কোন পক্ষই এখনও কোন লিখিত অভিযোগ করেন নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here