বেনাপোল স্থলবন্দরের ঝুঁকিপূর্ণ ডিটিএম ভবন জীবনের শঙ্কা নিয়ে চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম

0
261

জসিম উদ্দিন, শার্শা : দেশের বৃহত্তর বেনাপোল স্থলবন্দরের ডিটিএম ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ হওয়ায় ভবন ধসে জীবন হারোনোর শঙ্কা নিয়ে কাজ করছে কাস্টমস, বন্দর কর্মকর্তা ও সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে ছোট বড় কাঠের গুড়ি দিয়ে ভবনের ছাদ ধ্বস রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ ৫ বছর ধরে ভবনটির এ দশা হলেও পরিতাক্ত ঘোষণা বা সংস্কারের উদ্দ্যোগ এখনও নেয়নি কতৃপক্ষ। তবে বন্দর কতৃপক্ষ বলছে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে ১৯৯৫ সালের ২৬ শে জানুয়ারীতে ডিটিএম ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। স্থলবন্দরের গুরুত্বপুর্ণ ভবন এটি। ভবনটিতে অফিস করছে বন্দর, কাস্টমস, নিরাপত্তা সংস্থ্যা পিমা, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী ও সিঅ্যান্ডএফ সদস্যারা। ডিটিএম ভবনটির বয়স মাত্র ২০ বছর যেতে না যেতে দ্বিতীয় তলায় একটি ইউনিটে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। এতে বন্দর কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় তলার একটি অংশ অফিস গুটিয়ে নেয় চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে। তবে ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়া সত্বেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় শারির কর্মকর্তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ভবনটিতে। পরিতাক্ত ঘোষণা বা সংস্কারের কোন উদ্যেগ নেই বন্দর কর্তৃপক্ষের। তিন তলা ভবনটির দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ার শঙ্কায় ইতিমধ্যে কাঠের গুড়ি ও লোহার এ্যাঙ্গেল দিয়ে ভবন ধস রক্ষার চেষ্টা করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর একটি ইউনিট যেটি ব্যবহার হচ্ছে সেটিও জরাজীর্ণ। সব সময় ছাদ থেকে খোয়া-বালু ঝরছে। নতুন ভবন না হওয়ায় অনেকটা জিবনের ঝুঁকি নিয়ে এই জরাজীর্ণ ভবনেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে বন্দর ব্যবহারকারীরা। যে কোন সময় ভবন ধসে কয়েকশ মানুষের জীবন হানী ঘটতে পারে।
একাধিক সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরা বলেন,
ভবনের ভিতরে বসে যখন কাজ করছি। অনেক সময় ছাদ থেকে দলাদলা সিমেন্ট সামনে পড়ে। আমরা সব সময় পরিস্কার করে আমাদের কাজ করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে কাঠের গুড়ি দিয়ে ভবনের ছাদ ঠেক দিয়ে রাখা হয়েছে। যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নিজেদের জিবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভবনে কাজ করছি। দ্রুত সময়ে ভবনটি বন্ধ করে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করলে ভালো হবে।
বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দরের ডিটিএম ভবনটি দ্রুত পরিতাক্ত ঘোষণা করে। নতুন ভবন নির্মাণ করা খুবই জরুরী। তা না হলে শতশত মানুষের প্রাণহানী ঘটার সম্ভাবনা খুব বেশি।
বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, ভবনটি দ্বিতীয় তলার একটি ইউনিট ঝুকি পূর্ণ। সেখানে যাতে কেউ প্রবেশ করতে না পারে তালা মেরে রাখা হয়েছে। ভবনটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্ক্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
আমদানি কারকদের কাছ থেকে বছরে ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। অথচ সেই বন্দরের রাজস্ব আদায়ের প্রধান বাণিজ্যক ভবনটি জরাজীর্ণ। আতঙ্কের মধ্য ভবনে প্রবেশ করে কাজ করতে হয়। দূর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ভবনটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বন্দর ব্যবসায়ীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here