আবিদ হাসান: যশোর পৌরসভার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড হচ্ছে ৪ নং ওয়ার্ড। যশোর শহরের পুরাতন কসবা- কাজীপড়া, পুলিশ লাইন কাঁঠালতলা এলাকা নিয়ে গঠিত এই ওয়ার্ডের মোট ভোটার ১৮ হাজার ৫শ’। বর্তমানে এই ওয়ার্ডকে যশোরের আওয়ামী রাজনৈীতির প্লাটফর্ম বা রাজনৈতিক ঘাঁটি বলা হয়ে থাকে। পৌর সভার এই ওয়ার্ডে বসবাস করেন যশোর সদর-০৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ,যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এম পি,যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, যশোর সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান জোৎনা আরা মিলি, সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বিপুল,বর্তমান সংরতি মহিলা কাউন্সিলর নাসিমা আক্তার জলি, সাবেক সংরতি মহিলা কাউন্সিলর মোছা: জরিনা বেগম,সাবেক পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, যশোর শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহামুদ হাসান বিপু, দীর্ঘ ৪ বার এই ওয়ার্ডের দায়িত্বপালনকারী সাবেক কাউন্সিলর মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তা, বর্তমানে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানজিব নওশাদ পল্লবসহ এই এলাকায় আওয়ামী রাজনীতির বড় বড় নেতাদের বসবাস রয়েছে। যশোরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কার্যালয়, জেলার পুলিশ লাইনসহ জেলার বহু সরকারী গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের অবস্থান এই ওয়ার্ডে। যশোরের প্রাণ ভৈবর নদের গতি প্রবাহ এই ওয়ার্ডকে করেছে আরো সৌন্দয্যমন্ডিত। ফলে এই ওয়ার্ডটি যশোর পৌরসভার প্রাণ হিসেবে বিবেচিত হয় শহরবাসীর কাছে।
যশোর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর যশোর জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলন গত ৩১শে মার্চের নির্বাচনে ৩ হাজার ৫শত ৬২ভোটে প্রথম বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি ৪ বারের কাউন্সিলর মুস্তাফিরজুর রহমান মোস্তাকে পরাজিত করে যশোর পৌর এলাকায় আলোচনার ঝড় তোলেন। এলাকার পরিচিত নতুন মুখকে ভোটাররা তাদের মতামত দিয়ে বেছে নেন তাদের এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে। যশোরের ভিআইপি এলাকা হিসেবে পরিচিত পুরাতন কসবা -কাজীপাড়া কাঁঠালতলা, পুলিশ লাইন টালিখোলা এলাকার ভোটাররা বিপুল উৎসাহ উদ্দিপনা নিয়ে গত নির্বাচনে মিলনকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পাশ করিয়ে এই এলাকার উন্নয়নের দায়ভার তার কাঁধে তুলে দেন। কিন্তু প্রথমবার জনপ্রতিনিধি হয়ে এলাকার উন্নয়নে তিনি কি পারবেন সাবেক কাউন্সিলর মোস্তার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে – এই প্রশ্নের উত্তরে এলাকাবাসীর সাফ জবাব মিলন ভালো ছেলে । তিনি পারবেন বলেই তো আমরা তাকে ভোট দিয়ে আমাদের নেতা বানিয়েছি।
৪নং ওয়ার্ডের সাবিক উন্নয়ন ও বিভিন্ন কমকান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর মিলন দৈনিক যশোরকে জানান, আমার এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৫০০মানুষ ৪নং ওয়ার্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। আমি কখনও এলাকার কাউন্সিলর বা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে চাইনি। আমার এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ আমাকে তাদের উৎসাহ, উদ্দীপনা,ভালবাসা, ও তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করে আমাকে যশোর পৌরসভা একজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। আমার এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া। আমি দায়িত্বে আসার পর থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাহায্যে এবং নিজ উদ্যোগে এস কে ভেটারের মাধ্যমে মাটি কেটে ভৈরব নদীর সাথে সংযোগ সৃষ্টি করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছি। ৪নং ওয়ার্ডে প্রায় ২০বছর ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও কালভার্ট সংস্কার অসম্পূর্ণ ছিল। আমি যশোর পৌরসভার সাহায্যে তা দ্রুত সংস্কার করি। বর্তমানে আমি কদমতলা হতে ঢাকা রোড পর্যন্ত,টালিখোলা থেকে পালবাড়ী পর্যন্ত , পালবাড়ী থেকে গাজীরঘাট তেঁতুলতলা ,পালবাড়ী সিঙ্গার রোড হতে গাজীর ঘাট কবরস্থান পর্যন্ত সকল রাস্তার লিংক সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি এবং বিভিন্ন কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান গত ৪ মাসে ২বার আমার এলাকায় পৌরসভার প থেকে মশার উপদ্রব কমানোর জন্য স্প্রে করানো হয়েছে। মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত এলাকা গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর মিলন পরিষ্কার ভাষায় জানান,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নিদেশ মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত একটি আধুনিক সোনার বাংলাদেশ গড়তে হবে। আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে মনে করি একা একা কখনও মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত করা সম্ভব নয়। মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত করতে হলে সকলের আন্তরিকতা ও বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের সকলের মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এলাকার যুব সমাজ ও ক্রীড়াঙ্গনের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর মিলন বলেন, বর্তমান সরকার একটি ক্রীড়াবান্ধব সরকার। তাঁরই অংশ হিসেবে আমি আমার এলাকার যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার জন্য ও তাদের সঠিক শরীরচর্চা বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী যেমন:ফুটবল,ক্রিকেট,ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলাধুলার সামগ্রীহ প্রদান করেছি। কাউন্সিলর মিলন আরও বলেন, আমার এলাকার সার্বিক উন্নয়নের ল্েয এলাকার মানুষের সকল মৌলিক চাহিদা পূরণে আমি সবদা খেয়াল ও নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখি। করোনাকালীন সময়ে আমার এলাকায় জেলা প্রশাসক,জেলা পুলিশ সুপার ও যশোর পৌরসভার সাবিক সাহায্য সহযোগিতায় খাবার , বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ অর্থ এলাকার দরিদ্র, অসহায়,ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করি। আমি নিজেও নিজস্ব অথায়নে খাবার, নগদ অর্থ ও এলাকার মেধাবি দরিদ্র শিার্থীদের মধ্যে শিা উপকরণ সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করেছি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে আমি নিজে উপস্থিত হয়ে খাবার পৌছে দেওয়া এবং মাইকিং করে এলাকার মানুষের মাঝে করোনা ভাইরাসের সতর্কতা ও স্বাস্থ্য সুরায় বিষয়ে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করেছি। যশোর পৌরসভা ৪নং ওয়ার্ডে সরকারী- বেসরকারি যেমন:জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রকের কাযালয়, হাইওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়,যশোর জেলা পুলিশ লাইন,পুলিশ ইনভেশন্স অব ব্যুরো (পি বি আই)অফিস, এনএসআই অফিস, বিমান অফিস, শিশু একাডেমীসহ বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠান ও অফিস রয়েছে। কাউন্সিলর মিলন আরও বলেন, গত ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে মাসব্যাপী কর্মসূচি হিসেবে আমি আমার ব্যক্তিগত অর্থায়নে ৪ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত নওদাগা বিশ্বাস বাড়ীর মোড় হতে নদীর পাড়ে বঙ্গবন্ধু জামে মসজিদ ও একটি পাঁচ তলা বিশিষ্ট মাদ্রাসার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া আমার এলাকার বিভিন্ন মসজিদ,মন্দির ও শিা প্রতিষ্ঠানের আথিক সাহায্য ও সহযোগিতাসহ বিভিন্ন পরামর্শের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে আমি কাজ করে যাচ্ছি। আমার এলাকার সব বৈদ্যুতিক খাম্বাতে বিদ্যুতের বাতি জ্বলে, এলাকার সবদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নিদিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমি চাই আমার এলাকার সকল মানুষ ঘরের দরজা খুলে যাতে ঘুমাতে পারে আমি সেই লক্ষ্যে সন্ত্রাস নির্মুলে কাজ করছি । আমার এলাকাকে উন্নয়নের জন্য এবং একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে আমার এলাকাকে গড়ে তুলতে চাই। এই এলাকাকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক এলাকা হিসেবে সন্ত্রাস, মাদক মুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। অপরদিকে ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তা বলেন অতিতে যশোর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। আমি চাই সামনের দিনেও ৪নং ওয়ার্ডের সকল মানুষের ভালবাসা ও সুখে দুঃখে তাদের সঙ্গীর সাথী হিসেবে থাকতে চাই। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে আমি ৪নং ওয়ার্ডবাসীর পাশে থাকতে চাই। তিনি আরো বলেন এলাকার নাগরিকদের কল্যানে বর্তমান কাউন্সিলরের সব ভালো কাজের সাথে আমি আছি। একজন নতুন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি যদি কোন সমস্যার সমাধানে পরামর্শ চান তাহলে আমি দিতে সদা প্রস্তুত।
Home
খুলনা বিভাগ যশোর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের নব-নির্বাচিত কাউন্সিলর মিলনের উন্নয়ন ভাবনা – সকলের ভালোবাসায়...















