মানবতার ফেরিওয়ালা ৫নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর রাজিবুল আলমের উন্নয়ন ভাবনা যশোর পৌরসভা ৫নং ওয়ার্ডকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে গড়তে তুলতে চাই

0
634

আবিদ হাসান: যশোর পৌরসভার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড হল পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ড। এইট যশোর পৌরসভার অন্যতম একটি ভিআইপি ওয়ার্ড। কারন এই ওয়ার্ডের মধ্যে জেলার প্রায় সকল সরকারী বেসরকারী জন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর অবস্থিত। বর্তমানে এই ওয়ার্ডটি আধুনিক ও দৃষ্টি নন্দনশীল ওয়ার্ড হিসেবে সকলের কাছে খুব জনপ্রিয়। গত মেয়রের আমলে এই ওয়ার্ডের অধীন যশোর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের পশ্চিম দিকের সড়ক যেটি ইতমধ্যে প্যারিস রোড হিসেবে সমাধিক পরিচিত বীরমুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মণি সড়ক ( প্রস্তাবিত), যশোর পৌর পার্ক, আল্লাহু ভাস্কর্য, খেজুরগাছ ভাস্কর্য,যশোর সুইমিংপুলসহ অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা শহরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বর্তমানে ৫নং ওয়ার্ডে অবস্থিত রয়েছে যশোরের সরকারী- বেসরকারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতষ্ঠান যেমন: ঐতিহ্যবাহী যশোর পৌরসভা,জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (ডিসি অফিস) ,শামস-উল-হুদা ষ্টোডিয়াম, যশোর পৌর পাঁক,কালেক্টরেট পাঁক, গরীব শাহর মাজার ,পুলিশ সুপারের কার্যালয়,সিভিল সার্জন অফিস, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালত, জেলা ও দায়রা জজ আদালত,সাকিট হাউজ,বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য,শিা অফিস,পানি উন্নয়ন বোর্ড,এল জি ডি ভবন,পুলিশ লাইন,সি আই ডি অফিস,পানি উপ কেন্দ্র সরকারি কার্যালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়,রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি,দুর্নীতি দমন কমিশন অফিস,জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,জেলা ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস,পৌর কমিউনিটি সেন্টার,পরিবার ও পরিকল্পনা অফিস, যশোর কাবসহ বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে এই ৫নং ওয়ার্ডে। সরকারী শিা প্রতিষ্ঠানে মধ্যে রয়েছে যশোরের স্বনামধন্য যশোর সরাকারী এম এম কলেজ,সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,যশোর সরকারী মহিলা কলেজ,ডাঃ আব্দুর রাজ্জাক কলেজ,পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মিউনিসিপ্যাল প্রিপাটি স্কুল,বাদশাহ ফয়সল ইসলামী ইন্সটিটিউট,যশোর জেলা স্কুল,মুসলিম একাডেমীসহ সরকারী বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বে- সরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন কার্যালয়,জয়তী সোসাইটি,পঙ্গু হাসপাতাল,শিশু মঙ্গল ও শিশু আদ্ব-দ্বীন হাসপাতাল,ফাতিমা হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়া যশোরবাসীর অতিপ্রিয় কারবালা কবরস্থান এই ওয়ার্ডে অবস্থিত। হযরত বোরহান শাহ’র মাজারসহ খড়কীর পীরবাড়ি এই ওয়ার্ডেই অবস্থিত। এই ওয়ার্ডেই জেলার অধিকর্তা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাংলো বাড়ি অবস্থিত। এখানেই রয়েছে জেলার সিভিল সার্জনের বাসভবন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজ, সড়ক বিভাগের রেস্ট হাউজ ও গণপূর্ত যশোর সার্কেলের রেস্ট হাউজসহ সরকারী বহু দপ্তর।
গত নির্বাচনে এই ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন যশোর জেলা যুবলীগের অন্যতম সদস্য রাজিবুল আলম। তিনি গত ৩১শে মার্চ যশোর পৌরসভা নির্বাচনে সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান চাকলাদার মনিকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। নির্বাচনে তিনি ২হাজার ৭শত ৯৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। বর্তমানে ৫নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিভিন্ন কর্মকান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর রাজিবুল আলম দৈনিক যশোরকে বলেন,যশোর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড টি শহরবাসীসহ গোটা জেলার মানুষের কাছে ভিআইপি ওয়ার্ড হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এই ওয়ার্ডেই প্রায় লাধিক মানুষের বসবাস। স্থায়ীভাবে বসবাস করছে প্রায় ২৫হাজার পরিবার। বর্তমানে এই ৫নং ওয়ার্ডের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী অফিস আদালত ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিা প্রতিষ্ঠান । আমি যশোর পৌরসভা নির্বাচনে সকলের কাছে বিভিন্ন ওয়াদাবদ্ধ হয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছি। আমি ৫নং ওয়ার্ডের দায়িত্বে আসার পর থেকে এলাকার বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট,ড্রেনেজ,কালভার্ট, বৈদ্যুতিক খাম্বাসহ এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ পরিচালনা করেছি। যেমন:শাহ আব্দুল করিম রোড হতে গাজীর বাজার পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তর ম্যাকাডাম করে কাপেটিং এর কাজ শুরু করেছি।পুলিশ লাইন হতে টালিখোলার ঋষিপাড়া পর্যন্ত ১কিলোমিটার রাস্তার ড্রেনেজ সংস্কারসহ পাঁকাকরন প্রকল্প বাস্তবায়ন,আরবপুরের খোয়ার রাস্তা হতে পালবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার, ডি সির বাংলোর দক্ষিন পাশ হতে রাস্তার সংস্কার ও এলাকার বিভিন্ন লিংক রোড সড়ক পাঁকাকরণ ও বিভিন্ন রাস্তা সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছি।এছাড়া ও রেলগেট ডাল মিল অঞ্চল হতে চোরমাড়া দিঘীর পাড়ের রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য ৫টি কালভার্ট স্থায়ীভাবে বসানো হয়েছে। ৫নং ওয়ার্ডেও সকল বৈদ্যুতিক খাম্বাতে ঠিকমত আলোর ব্যবস্থা করেছি। এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী দমনের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর রাজিবুল আলম সাফ জানান,আমার এলাকায় কোন প্রকার মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীর ঠাঁই নেই। আমি কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমার এলাকার বিশেষ করে রেলগেট ও খড়কী ধোপাপাড়া এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়মিত প্রকাশ্যে বেচাকেনা হত। আমি এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সহযোগিতায় মাদক ব্যবসায়ী ও এলাকার সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে প্রশাসনের সাহায্য মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত ওয়ার্ড গড়ার ল্েয সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি। আমি চাই আমার এলাকা থাকবে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত এদের বিষয়ে আমি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। অঅমার ওয়ার্ডে এসব সমাজবিরোধীদের কোন ঠাঁই নেই। এলাকার যুব সমাজ ও ক্রীড়াঙ্গনের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর রাজিবুল আলম জানায়,আমি একজন ক্রীড়া প্রেমিক মানুষ। খেলাধুলা ও শরীরচর্চা বিষয়ে আমি আমার এলাকার যুব সমাজকে যশোর শামস উল-হুদা ষ্টোডিয়াম ও ডা:আব্দুর রাজ্জাক কলেজ মাঠে নিয়মিত বিভিন্ন টুর্ণামেন্টের আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছি। এলাকার যুব সমাজ ও তরুণ তরুণী শিার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করে থাকি। তাদের খেলাধুলার সুবিধার্থে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী ফুটবল, ক্রিকেট,ব্যাডমিন্টন ইত্যাদি বিতরণ করে থাকি। আমি নিজেও তাদের বিভিন্ন খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করে থাকি। করোনাকালীন সময়ে আমি নিজস্ব অর্থায়নে আমার এলাকার ২হাজার পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে খাদ্য ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরায় সামগ্রী মাস্ক, হ্যান্ডসানিটার বিতরণ করেছি। যশোর পৌরসভা,জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশের বিশেষ সাহায্য সহযোগিতা ১হাজার দরিদ্র, অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেছি। ৫নং ওয়ার্ডে বসবাসরত সকল প্রকার শ্রেণী পেশার মানুষ,এলাকার মুরব্বী,মসজিদের ইমাম,বিভিন্ন পাড়া মহল্লার ব্যবসায়ী ও এলাকার বিভিন্ন শিার্থীর কাছে কাউন্সিলর রাজিবুল আলম মানবতার ফেরিওয়ালা নামে পরিচিত। সকলের মুখে একই কথা কাউন্সিলর রাজিবুল আলম একজন ভালো মানুষ, সৎ,নিষ্ঠাবান ও জন দরদী ও বটে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাড়িতে কাউন্সিলর রাজিবুল আলম বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী ও ফল পাঠিয়ে নিয়মিত খোঁজ খবর নিয়েছেন। এলাকায় যে কোন বিষয়ে সমস্যা সৃষ্টি হলে শালিস বা মীমাংসার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করে থাকেন কাউন্সিলর রাজিবুল আলম। এছাড়া কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাঁর এলাকায় ৪০ জনের বয়স্ক ভাতা, ৪৫জনের প্রতিবন্ধী ভাতা, ৯৫জনের মাতৃত্ব ভাতার কাড প্রদান করে তিনি এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন। বর্তমানে কাউন্সিলর রাজিবুল আলম বিভিন্ন সামাজিক,রাজনৈতিক,সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি যশোর চেম্বার অব কমার্স এর সদস্য, সুতীর্থ সঙ্গীত একাডেমীর পরিচালক, যশোর পৌরসভা পুলিশিং কমিটির প্রধান উপদেষ্টা, সদস্য মিউনিসিপ্যাল প্রিপারেটরি স্কুলের পরিচালনা পর্যদের সদস্য,খড়কী কবরস্থান কমিটির সভাপতি, রেলগেট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি,যশোর ইন্সটিটিউট এর দাতা সদস্য । যশোরের ঐতিহ্যবাহী কারবালা কবরস্থান এই ওয়ার্ডেই অবস্থিত। যশোর কারবালা মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানে সার্বিক বিষয়ে তদারকি করেন কাউন্সিলর রাজিবুল আলম। অপরদিকে ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান চাকলাদার মনি বলেন,বিগত দিনেও যশোর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমি চাই বর্তমানে যশোর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড সব দিক থেকে এগিয়ে থাক,এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের বিষয়ে পরামর্শ চাইলে আমি বর্তমান কাউন্সিলর রাজিবুল আলমকে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করব বলে আশা রাখি।
এদিকে জলাবদ্ধতাকে এই ওয়ার্ডবাসীর প্রধান সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে তা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন কাউন্সিলর রাজিবুল । ইতিমধ্যে যশোরের খড়কী, ওয়াপদাপাড়া, কারবালা, বামনপাড়া, এম এম কলেজ দক্ষিণ পাড়া, স্টেডিয়ামপাড়া, সরকারী স্টাফ কোয়াটার, শিশু আদদ্বীন এলাকা, ডিসি বাংলো এলাকাসহ জলাবদ্ধ এলাকার জমে থাকা পানি নিষ্কাশনে প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ও কালভার্ট নির্মানে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এছাড়া নিজস্ব জনবল দিয়ে যতটুকু সম্ভব জন চলাচল নির্বিঘœ করতে রাতদিন পরিশ্রম করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যেসব ওয়াদা করে তাদের সমর্থন পেয়েছি তার শতভাগ ৫ বছরে রক্ষার চেষ্টা করাই আমার কাজ। এই জন্য তিনি নতুন কাউন্সিলর হিসেবে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here