বাগআঁচড়া প্রতিনিধি :হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের বিভিন্ন খাদ্য কর্মসূচির মধ্যে ভিজিডি অন্যতম।যে চাল বিভিন্ন নামে তুলে নিচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্যরা।
তবে সরকারি নিয়মে ইউনিয়ন পরিষদের কারো নামে এমন কার্ড ইস্যু করার কোনো বিধান নাই।
যশোরের শার্শা উপজেলার ৬ নং গোগা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আমলাই গ্রামে এমন একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউপি সদস্য শামছুজ্জামান বুলুর বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,গত মাসের ভিডিজির ৩০ কেজি চাউল ডিলার আসাদের মাধ্যমে কয়েক দিন যাবৎ বিতরন করা হয়।যে চাউল বিতরনে নাম থাকার পর ১৪ জনের চাউল উত্তোলন কাগজ কলমে থাকলেও ভুক্তভোগিরা চাউল পাননি এমন অভিযোগ।বিষয়টি গোগা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদের কাছে একটি মৌখিক অভিযোগ দেন ভুক্তভোগিরা।সেই সময় চেয়ারম্যান বুলুকে তাদের চাউল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বলে দেয়।কিন্তু ইউপি সদস্য বুলু আজ দেয় কাল দেয় বলে টালবাহানা করে।পরবর্তিতে ফের ভুক্তভোগিরা চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদের কাছে অভিযোগ দিলে তিনি ব্যাক্তিগত ভাবে ৭ বস্তা ও আমলাই গ্রামের জৈনক সুজনের কাছ থেকে উদ্ধার করা দুবস্তা চাউল মোট ৯ বস্তা ১৪ জন পরিবারের মাঝে বন্টন করে দেন। এখন প্রস্ন হলো তাহলে ভুক্তভোগীর ১৪ বস্তা চাউল কোথায় গেল?।
আমলাই গ্রামের ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদ ও মোস্তাফ রহমান জানান, দীর্ঘ দিন যাবৎ খাদ্যবান্ধব কর্মসুচীর আওয়াতায় সরকারের দেওয়া ভিজিডির ৩০ কেজি চাউল পেয়ে আসছি। এবার মাসের চাউল উত্তোলন করতে যাওয়ার সময় জানতে পারি আমাদের চাউল কে বা কারা তুলে নিয়েছে।এসময় ইউপি সদস্য বুলুকে বিষয়টি বললে তিনি পরে চাউল পাবেন এমন কথা বলে এড়িয়ে যান।
পরে খোঁজ খবর নিয়ে আমরা জানতে পারি আমাদের না জানিয়ে তিনি তাদের নামের চাউল উত্তোলন করেছে।বিষয়টি আমরা চেয়ারম্যানের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়ার পরে তিনি ডিলারকে বলে ৭ বস্তা ও আমলাই গ্রামের জৈনক সুজনের কাছ থেকে উদ্ধার দু বস্তা মোট ৯ বস্তা চাউলের ব্যবস্থা করে দেন। পরে সেই ৯ বস্তা চাউল ভুক্তভোগী ১৪ পরিবারের মাঝে বন্টন করে দেয়।
জানতে চাইলে ইউপি সদস্য শামছুজ্জামান বুলু জানান, বিষয়টি চেয়ারম্যান ও ডিলারের কাছে জেনে নিন বলে ফোনটা রেখে দেন।
এ ব্যাপারে ৬ নং গোগা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,বিষয়টি তেমন কিছু না। কার্ড পরিবর্তন করার জন্য ১৪ টি কার্ড ইউপি সদস্য বুলু রেখে দেন।পরে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ পাওয়ার পর তাদের কার্ডের চাউল আমি দিয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলীফ রেজার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত টিম ঘটনাস্থলে পাঠাবো।তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।















